শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ১২:২৬ পূর্বাহ্ন

রাত সাড়ে ৩টায় ক্লাস নিয়ে শেষ কর্মদিবসেও বিতর্কে ভিসি কলিমউল্লাহ

  • প্রকাশ সময় বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১
  • ২৮৮ বার দেখা হয়েছে

এস.আর.ডেস্ক: শেষ কর্মদিবসেও বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। শেষ কর্মদিবসে রাত প্রায় সাড়ে ৩টায় ক্লাস নিয়েছেন তিনি।
বুধবার দিবাগত রাত ৩টা ২০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্টার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ‘পলিটিক্যাল থট’ কোর্সের ক্লাস নেন তিনি। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে এবং বাইরে চলছে সমালোচনা।

শিক্ষার্থীরা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্টার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ‘পলিটিক্যাল থট’ কোর্সের ক্লাস অনলাইনে রাত ৩টায় নেবেন বলে জানান উপাচার্য কলিমউল্লাহ। শিক্ষার্থীদের ক্লাসে থাকতে বিভাগ থেকে বলা হয়।

এরপর অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গুগল মিট-এ রাত ৩টা ২০ মিনিটে ক্লাস শুরু হয়। প্রায় ৩৫ মিনিট চলা ক্লাসের শুরুতে ২৮ জন শিক্ষার্থী যুক্ত হন। অবশ্য শেষ পর্যন্ত ১২ জন যুক্ত ছিলেন। রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে ক্লাস শেষ করেন উপাচার্য কলিমউল্লাহ।

এদিকে রাত প্রায় সাড়ে ৩টায় ক্লাস নেওয়ার ঘটনায় ক্যাম্পাস এবং ক্যাম্পাসের বাইরে চলছে সমালোচনা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এর আগেও মধ্যরাতে ক্লাস নিয়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছিলেন উপাচার্য কলিমউল্লাহ। তবে এবার শেষ রাতে ক্লাস নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করলেন উপাচার্য- এমন মন্তব্য শিক্ষার্থীদের।

অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় অর্ধশতাধিক কোর্সের ক্লাস নিয়েছেন তিনি। এসব কোর্সের সর্বোচ্চ এক থেকে দুটি নামে মাত্র ক্লাস নেন। পরীক্ষার খাতা কর্মচারী দিয়ে মূল্যায়ন ও পরীক্ষায় অনুপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে কলিমউল্লাহর বিরুদ্ধে। এসব কোর্স বাবদ মোট অংকের পারিতোষিকও নেওয়ার অভিযোগ আছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অধিকার সুরক্ষা পরিষদের আহ্বায়ক ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান বলেন, এটি কোনও সুস্থ শিক্ষকের কাজ হতে পারে না। আসলে তার (ভিসির) মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন। তার কাছের লোকজনের কাছে আমার অনুরোধ; ভিসির মানসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।

এ বিষয়ে জানতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও ধরেননি।

জানতে চাইলে বেরোবির জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগের সহকারী পরিচালক এহতেরামুল হক বলেন, যখন আমাদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে বলা হয়; তখন দিই। কোন শিক্ষক কখন ক্লাস নেবেন কিংবা নিচ্ছেন তা আমাদের দেখার বিষয় নয়। তবে শুনেছি গুগল মিট-এ রাত ৩টা ২০ মিনিটে ক্লাস নিয়েছেন বিদায়ী উপাচার্য।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতির নিয়োগ আদেশ অনুযায়ী উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর চার বছর মেয়াদ পূর্ণ হয় গত ৩১ মে। তবে উপাচার্য কলিমউল্লাহর দাবি, তিনি যোগদান করেছেন ২০১৭ সালের ১৪ জুন। সে হিসাবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২১ সালের ১৩ জুন।

মেয়াদ শেষ নিয়ে ধোঁয়াশা না কাটতেই বুধবার (০৯ জুন) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মাহমুদুল আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ট্রেজারার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশিদকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। যা আগামী ১৪ জুন থেকে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে শনিবার (০৫ জুন) উপাচার্য নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহর বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিতির হাজিরা খাতা টাঙিয়ে দেয় শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের সংগঠন ‘অধিকার সুরক্ষা পরিষদ’।

এতে দেখা যায়, উপাচার্য চার বছর তথা এক হাজার ৪৪৭ দিনের মধ্যে অফিসে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২৪০ দিন। অনুপস্থিত ছিলেন এক হাজার ২০৭ দিন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথে ও শেখ রাসেল মিডিয়া চত্বরে দুটি বৃহৎ আকৃতির হাজিরা খাতা টাঙানো হয়। এছাড়া নিয়োগ, আর্থিক অবকাঠামো নির্মাণে দুর্নীতির কারণে বিতর্কিত হন উপাচার্য কলিমউল্লাহ।

পাশাপাশি প্রতিদিন ২২ ঘণ্টা কাজ করার দাবি, দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা, একাই ২৬টি কোর্সের দায়িত্ব নেওয়া, হিন্দি গানে ড্যান্স, অনিয়ম দুর্নীতির প্রমাণ ও সর্বশেষ শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে উদ্ভট মন্তব্য করে পুরো মেয়াদে বিতর্কে ছিলেন কলিমউল্লাহ।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin