বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ১২:১৫ পূর্বাহ্ন

যে কারনে বিপদে ইন্নালিল্লাহ পড়তে হয়

  • প্রকাশ সময় সোমবার, ২১ জুন, ২০২১
  • ১৫৭ বার দেখা হয়েছে

এস. আর. ডেস্ক : মানুষের জীবনে অনেক ধরনের বিপদাপদ আসে। জীবনের কিছুকিছু মুহূর্তে মানুষের ওপর ছোট-বড় নানা ঝড়-ঝাপটা আসে। সব ধরনের মুমিন আল্লাহর ওপর পরিপূর্ণ আস্থা রেখে বলে ওঠে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।’
অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, বিপদে এই বাক্যটি কেন বলতে হয়? সেই প্রশ্নের জবাব জানার চেষ্টা করব আজ। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আর আমি তোমাদের অবশ্যই পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং ধন-সম্পদ, জীবন ও ফসলের ক্ষয়ক্ষতি দিয়ে।

আর আপনি সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদের। যারা তাদের ওপর বিপদ আসলে বলে, (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন) আমরা তো আল্লাহরই। আর নিশ্চয়ই আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী। এরাই তারা, যাদের প্রতি তাদের রবের কাছ থেকে বিশেষ অনুগ্রহ এবং রহমত বর্ষিত হয়, আর তারাই সৎপথে পরিচালিত।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৫৫-১৫৭)

উপরোক্ত আয়াতে ধৈর্যশীলদের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেন, তারা বিপদের সম্মুখীন হলে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ পড়ে। এরূপ বলাতে একাধারে যেমন অসীম সওয়াব অর্জন হয়, তেমনি এ বাক্যের অর্থের প্রতি যথার্থ লক্ষ্য রেখে তা পড়লে বিপদে আন্তরিক প্রশান্তি লাভ হয়। ফলে ঠা-া মাথায় সঠিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিপদ থেকে উত্তরণও সহজ হয়। বিষয়টি আল্লাহর পক্ষ থেকে হয়েছে ভেবে সান্ত¡নাও খোঁজা হয়।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কারো ওপর কোনো বিপদ এলে অবশ্যই সে যেন ‘ইন্না লিল্লাহ..’ বলে। অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহ তাআলার এবং আমাদের অবশ্যই তাঁর দিকে ফিরে যেতে হবে। হে আল্লাহ! তোমার কাছে আমি আমার বিপদের প্রতিদান চাই। অতএব তুমি আমাকে এর প্রতিদান দাও এবং এর বিনিময়ে ভালো কিছু দান করো।’ (তিরমিজি, হাদিস : ৩৫১১)

এভাবে বিপদে ধৈর্য ধরার মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা যায়। তাঁর কাছে এর উত্তম প্রতিদান পাওয়া যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনের অবস্থা বিস্ময়কর। সব কাজই তার জন্য কল্যাণকর। মুমিন ছাড়া অন্য কেউ এ বৈশিষ্ট্য লাভ করতে পারে না। তারা সুখ-শান্তি লাভ করলে শোকর গুজার করে আর অসচ্ছলতা বা দুঃখ-মুসিবতে আক্রান্ত হলে ধৈর্য ধারণ করে, প্রত্যেকটাই তার জন্য কল্যাণকর।’ (মুসলিম, হাদিস : ৭৩৯০)

তা ছাড়া কারো মৃত্যুতে ইন্নালিল্লাহ পড়ার মাধ্যমে মুমিন নিজেকে মনে করিয়ে দেয় যে এভাবে একদিন আমাকেও চলে যেতে হবে। এটি একই সঙ্গে নিজের জন্য অনেক বড় একটি উপদেশ। নিজের জন্য সান্ত¡নাও বটে। তাই আমাদের উচিত, যেকোনো ছোট-বড় বিপদে বিচলিত না হয়ে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ বলা। এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ আমাদের উত্তম প্রতিদান দেবেন এবং হেদায়েতপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করবেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin