নিজস্ব প্রতিবেদক: করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় এবং মৃত্যুর মিছিল ও সংক্রান্তের হার না কমায় রাজশাহী মহানগরীতে তৃতীয় দফায় আবার সাতদিনের সর্বাত্বক লোকডাউন বাড়িয়েছে জেলা প্রশাসন। আজ বুধবার (২৩ জুন) বেলা ৩টায় জেলা প্রশাসক আবদুল জলিল তাঁর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানো হয়েছে। এখন যেসব বিধিনিষেধ আছে, সেগুলোও আগামী এক সপ্তাহ বলবৎ থাকবে। তবে নতুন করে যুক্ত করা হয়েছে যে, সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এই আদেশের আওতা বহির্ভুত থাকবেন।
রাজশাহীর জনপ্রতিনিধি এবং স্বাস্থ্যবিভাগের সঙ্গে পরামর্শ করে লকডাউন বাড়ানো হলো বলেও জানান জেলা প্রশাসক। এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নজরুল ইসলাম ও এডিএম আবু আসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
উল্লেখ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জে করোনার ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট শনাক্ত হওয়ার পর রাজশাহীতে সংক্রমণ বাড়াতে থাকলে গত ১০ জুন রাতে জরুরী বৈঠক ডেকে রাজশাহীতে ১১ জুন বিকেল থেকে এক সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউন ঘোষণা করা হয়। সেই লকডাউনের সময়সীমা ছিলো ১৭ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত।
তবে সংক্রমণ না কমায় আগের দিন লকডাউনের সময়সীমা বাড়িয়ে ২৪ জুন পর্যন্ত করা হয়। কিন্তু সংক্রমণ ও মৃত্যু এখনও না কমায় লকডাউন আবারও এক সপ্তাহ বাড়ানো হলো। ৩০ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত এই লকডাউন থাকবে। এ সময়ের মধ্যে রাজশাহীর সকল উপজেলা থেকে মহানগর বিচ্ছিন্ন থাকবে।
রাজশাহীতে নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে সংক্রমণের হার ৫০ শতাংশের ওপরে উঠে যাওয়ায় লকডাউন দেয়া হয়। এখন সংক্রমণের হার ওঠানামা করছে। কিন্তু মৃত্যু কমছে না। হাসপাতালেও এখন প্রতিদিন রাজশাহী থেকে ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। রাজশাহীর দুটি আরটি-পিসিআর ল্যাবে লকডাউন শুরুর পরদিন ১২ জুন সংক্রমণের হার ছিল ৫৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ। সর্বশেষ ২২ জুন সংক্রমণের হার পাওয়া গেছে ৩৩ দশমিক ০৪ শতাংশ।
লকডাউন শুরুর পরও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতি ২৪ ঘণ্টায় ১২ থেকে ১৬ জন পর্যন্ত মারা যাচ্ছেন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক ব্যক্তির বাড়ি রাজশাহী মহানগর ও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বলে জানা গেছে। গতকালও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট ১৬জন মৃত্যুবরন করেছেন বলে রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।