রবিবার, ১৬ জুন ২০২৪, ০৬:০৫ অপরাহ্ন

রাজশাহীতে লকডাউনের এক মাস পূর্ণ হলো আজ

  • প্রকাশ সময় শনিবার, ১০ জুলাই, ২০২১
  • ২০৬ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারতীয় সিমান্তবর্তী এলাকা রাজশাহীতে করোনার প্রোকোপ বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন নির্বাচিক রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সম্মিলিত সিদ্ধান্তে গত জুন মাসের ১১তারিখ শুক্রবার থেকে কঠোর লকডাউন শুরু হয়। আজ ১০ জুলাই এর এক মাস পূর্ণ হলো। এর প্রাপ্তি কতটুকু এখন তার বিচারের কাঠগড়ায় এসে দাঁড়িয়েছে। এই একমাস রাজশাহীরে সাথে সকল উপজেলা ও জেলা শহরের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে যাতায়াতের সকল প্রকার যান। খোলা রয়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান, কাঁচা বাজার, জরুরী সেবার অফিস ও স্বাস্থ্য সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান ও ঔষধের দোকান।
দীর্ঘ এই সময়ে মানুষ হাঁপিয়ে উঠেছে। একদিকে সারা দেশব্যাপিতো লকডাউন। অন্যদিকে স্থানীয়ভাবে লকডাউন। বর্তমানে প্রয়োজনের তাগিদে লকডাউন ভেঙ্গে জনগণকে অনেকটাই রাস্তায় নামতে শুরু করেছে মানুষ। সেইসাথে খুলতে শুরু করেছে অনেক দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। তবে এই লকডাউন মানাতে বা সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে মাঠে রয়েছে পুলিশের পাশাপাশি সেনা, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা। এছাড়াও মাঠে কাজ করছে ২২টি ভ্রাম্যমাণ আদালত।
গত ঈদের পর থেকে রাজশাহীতে করোনা সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ১১ জুন থেকে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করে প্রশাসন। পরে দুদফা বাড়িয়ে তা ৩০ জুন পর্যন্ত করা হয়। এর পর ১ জুলাই থেকে সরকারি ঘোষিত কঠোর লকডাউন চলছে। এই লকডাউনের মধ্যেই চলতি মাসের ৮তারিখ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আরডিএ গেটে থালা হাতে রাস্তায় বসে মার্কেট ও দোকান খুলে দেয়ার জন্য দাবী জানান রাজশাহী ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও দোকানদার ও কর্মচারীরা। সেইসাথে আজ শনিবার থেকে আরডিএ ও সাহেব বাজার কাপড়পট্টি মার্কেট খোলার ঘোষনা এবং বিক্ষোভ সমাবেশর ঘোষনা দেন।


এই মার্কেট খোলার দাবিতে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ ঠেকাতে আজ শনিবার নগরের সাহেববাজার আরডিএ মার্কেটের সামনে সকাল থেকে অবস্থান নেয় পুলিশের সঙ্গে সেনা সদস্যরাও। তাদের সঙ্গে ছিলো ভ্রাম্যমাণ আদালতও। গত বৃহস্পতিবার এখানে ব্যবসায়ীরা থালা হাতে বিক্ষোভ করে শনিবার থেকে মার্কেট খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু এ নিয়ে কোন সিদ্ধান্ত না আসায় আবারও বিক্ষোভের আশঙ্কায় সর্তক অবস্থান নেয় প্রশাসন।
মার্কেট ও দোকান খোলা বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মাহমুদ হাসান, রাজশাহী বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার শামীম আহম্মেদ ও রাজশাহী ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান সজন বলেন, সরকারের নির্দেশা এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারা ১৪ জুলাই পর্যন্ত মার্কেট ও দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
মাসব্যাপি লকডাউন সম্পর্কে জানতে চাইলে নির্বাহী ম্যাজেস্ট্রেট আবু আসলাম বলেন, কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে তারা কাজ করছেন। লকডাউনের বিধিনিষেধ ও স্বাস্থ্যবিধি না মানায় শুক্রবার ৪৮ জনের ৩৬ হাজার ৭০০ জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়াও দুইজনকে সাতদিন করে কারাদন্ড দেয়া হয়। সেইসাথে মাসব্যাপি লকডাউনে রাজশাহীতে অনেককেই জরিমানা ও সতর্ক করা হয়েছে। এ সুবাদে রাজশাহীর সার্বিক পরিস্থিতি এখণ অনেকটাই উন্নতির দিকে বলে জানান তিনি।
এদিকে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময় আটজন মারা যান শ্বাসকষ্টসহ করোনার উপসর্গ নিয়ে। শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত শনিবার সকাল ৬টার মধ্যে বিভিন্ন সময় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে এই ১৪ জনের মৃত্যু হয়।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, একদিনে কোভিড ইউনিটে মারা যাওয়াদের মধ্যে রাজশাহীর সাতজন। বাকিদের মধ্যে নাটোরের চারজন এবং পাবনা, চুয়াডাঙ্গা ও জয়পুরহাটের একজন করে মোট তিনজন।
এ নিয়ে চলতি মাসের ১০ দিনে করোনা ও উপসর্গ নিয়ে যারা গেলেন ১৭১ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী মারা যায় ১ জুলাই ২২ জন এবং সবচেয়ে কম ৪ জুলাই ১২ জন। চলতি মাসে করোনা ইউনিটে মারা যাওয়াদের মধ্যে রাজশাহীর ৮৮ জন। এর আগে গত জুন মাসে এ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মারা যান ৪০৫ জন।
শামীম ইয়াজদানী আরো বলেন, নতুন মৃতদের মধ্যে নয়জন পুরুষ ও পাঁচজন নারী। এদের মধ্যে পাঁচজনের বয়স ৬১ বছরের উপরে। বাকিদের মধ্যে ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে সাতজন, ৩১ থেকে ৫০ বছর বয়সের দুইজন।
পরিচালক জানান, গত ২৪ ঘন্টায় হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ভর্তি হয়েছেন ৬০ জন। একই সময় সুস্থ্য হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১১ জন। শনিবার সকাল পর্যন্ত ৪৫৪ বেডের বিপরীতে চিকিৎসাধীন রোগী বেড়ে দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ৫২২ জন। এর আগের দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন ৫০১ জন। অতিরিক্ত রোগীদের ওয়ার্ডে মেঝে ও বারান্দায় থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়াও আইউসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন ১৯ জন।
পরিচালক আরো বলেন, টানা পাঁচদিন কমার পর রাজশাহীতে আবারও বেড়েছে করোনাভাইরাস শনাক্তের হার। শুক্রবার দুইটি ল্যাবে রাজশাহী জেলার ৩৮৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ১৩০ জনের শরীরে করোনাভাইরাস পাওয়া গেছে। যা আগের দিনের চেয়ে ১৫ দশমিক ৬১ শতাংশ বেড়ে করোনা শনাক্তের হার ৩৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ। আগের দিন বৃহস্পতিবার ছিল ১৮ দশমিক ১৬ শতাংশ।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin