বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন

রাজশাহীতে নানা কর্মসূচীর মাধ্যমে প্লেব্যাক সম্রাট এন্ড্রু কিশোরের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী পালন

  • প্রকাশ সময় বুধবার, ৬ জুলাই, ২০২২
  • ৩৬৬ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প’ মুত্যুর প্রায়ে দেড় বছর পূর্বে হুইলচেয়ারে বসে একটি মঞ্চে উঠে গানটি গেয়ে শ্রোতাদের শুনিয়েছিলেন বাংলার প্লেব্যাক সিঙ্গার এন্ড্রু কিশোর। গাইবার সময় তিনি নিজে যেমন কেঁদেছিলেন তেমনি কাঁদিয়েছেন শ্রোতাদেরও। মুত্যুর আগে ঐ গানটিই ছিলো তাঁর শেষ গাওয়া গান। কোটি কোটি হৃদয়ের প্রানের মানুষ এন্ড্রু কিশোর সকল ভক্ত ও শ্রোতাদের কাঁদিয়ে ২০২০ সালে ৬জুলাই ইহলোক ত্যাগ করে চিরতরে না ফেরার দেশে চলে যান।

এই গুনি মানুষটিকে স্মরন করে রাখতে বুধবার ওস্তাদ আব্দুল আজিজ স্মৃতি সংসদের আয়োজনে এতিমদের মধ্যে খাবার বিতরণ, এন্ড্রু কিশোর এর সমাধীতে পুস্পস্তবক অর্পন ও তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের স্মৃতিচারন করার লক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উভয় কর্মসূচীতে পর্যাক্রমে উপস্থিত ছিলেন ওস্তাদ আব্দুল আজিজ স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট মঈনুল ইসলাম খোকন, সহ-সভাপতি কাজী সুলতান মাহমুদ ও সাবিনা আঞ্জুম শাপলা, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শফি মাহমুদ লেলিন, প্রচার সম্পাদক সঞ্জু আহম্মেদ, অর্থ সম্পাদক শফিকুল আলম বাবু, দপ্তর সম্পাদক বাসেদ হোসেন প্রামানিক, অফিস সহায়ক আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়াও রাতে স্মৃতিচারন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এন্ড্রু এর সহধর্মীনি লিপিকা এন্ড্রু, বোন ডাক্তার শিখা বিশ্বাস, ভগ্নিপতি ডাক্তার প্যাট্রিট বিশ্বাস, ছেলে সপ্তক ও শাপলা সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা নির্বাহী প্রধান মহসিন আলীসহ আরো অনেকে।

উল্লেখ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে টানা ৯ মাস সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধী নেয়ার পরেও শরীরের অবস্থা ভাল না হওয়ায় দেশে ফিরে আসেন । এরপর িিতনি জীবনের শেস পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর মহিষবাথান এলাকায় বোন ডাক্তার শিখা বিশ্বাসের বাসায় থেকে চিকিৎসা নেন এই শিল্পী। যদিও সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফেরার আগেই সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এক মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর বাঁচবেন এই শিল্পী।

মূলত এমন তথ্য পেয়েই দেশে ফিরে ঢাকায় না থেমে এন্ড্রু কিশোর নিজ সিদ্ধান্তে নীরবে চলে যান জন্মশহর রাজশাহীতে। সেখানে তিনি জীবন পেয়েছিলেন এক মাসেরও কম। মৃত্যুকালে এই কিংবদন্তি বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। তিনি ১৯৫৫ সালের ৪ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন রাজশাহীতে। এন্ড্রু কিশোর ও লিপিকা এন্ড্রু দম্পতির দুই সন্তান। ছেলে জে এন্ড্রু সপ্তক এবং মেয়ে মিনিম এন্ড্রু সংজ্ঞা।

এন্ড্রু কিশোরের চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক যাত্রা হয় ১৯৭৭ সালে আলম খানের সুরে ‘মেইল ট্রেন’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। সেখানে তিনি ‘অচিনপুরের রাজকুমারী নেই যে তার কেউ’ গানে কণ্ঠ দেন। তার রেকর্ডকৃত দ্বিতীয় গান বাদল রহমান পরিচালিত ‘এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী’ চলচ্চিত্রের ‘ধুম ধাড়াক্কা’। তবে এ জে মিন্টু পরিচালিত ১৯৭৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রতিজ্ঞা’ চলচ্চিত্রের ‘এক চোর যায় চলে’ গাওয়া গান প্রথম জনপ্রিয়তা লাভ করে।

প্লে-ব্যাকে তার গানের সংখ্যা ১৫ হাজারের বেশি। অন্যতম জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প, হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস, ডাক দিয়াছেন দয়াল আমারে, আমার সারা দেহ খেয়ো গো মাটি, আমার বুকের মধ্যখানে, আমার বাবার মুখে প্রথম যেদিন শুনেছিলাম গান, ভেঙেছে পিঞ্জর মেলেছে ডানা, সবাই তো ভালোবাসা চায় প্রভৃতি।

গান গাওয়ার জন্য তিনি ৮বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। সুরের এই কিংবদন্তী আজীবন বেঁচে থাকবেন কোটি কোটি ভক্তর হৃদয়ে। তিনি যেন অপারে ভাল থাকেন, তারজন্য ভক্তরা ও পরিবারের পক্ষ থেকে প্রার্থনা করা হয়।

 

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin