শুক্রবার, ২৬ জুলাই ২০২৪, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন

বরেন্দ্র অঞ্চলে লক্ষমাত্রার চেয়ে সতেরশ হেক্টর বেশী জমিতে বোরো ধানের চাষ হয়েছে

  • প্রকাশ সময় মঙ্গলবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৩
  • ১৯৫ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত গোদাগাড়ী উপজেলা। এই উপজেলায় চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষের লক্ষমাত্রা ছিলো ১৪,৮৫০ হেক্টর। কিন্তু চাষ হয়েছে ১৬,৫৬০ হেক্টর জমিতে। লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশী চাষ হয়েছে ১৭১০ হেক্টর জমিতে। গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি অফিসার আবুল হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, প্রতি বিঘায় গড়ে ২২-২৩ মন করে ধান উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে।

গোদাগাড়ীর চব্বিশনগর ব্লকের কৃষি অফিসার আশরাফুল আলম বলেন, এবারে বরেন্দ্র অঞ্চলে নতুন জাতে ব্রি ৮৯ ও ৯২ জাতের ধানের বেশী চাষ হয়েছে। এছাড়াও ব্রি ২৮, ২৯, ৮৮ ও ৯০ এবং জিরাশাইল ধানের চাষও ব্যাপকভাবে হয়েছে। বৃষ্টি না হলেও প্রাকৃতিক অন্যকোন দুর্যোগ না হওয়ায় এবারে ধানর ভাল হয়েছে। সেইসাথে বেড়েছে ফলনও। পোকা মাকড়ের আক্রমন কম থাকায় এবং পর্যাপ্ত পরিমানে সেচ এবং সরকারী সহযোগিতা ও সারের প্রতুলতা থাকায় চলতি মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করেন। ইতো মধ্যে গোদাগাড়ীতে ধান কাটা শুরু হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, জিরাশাইল ধানের ফলন ২০-২২ মন, বি-৮৯ ও ৯২ জাতের ফলন বিঘাপ্রতি ২৮-৩০মন এবং ব্রি-৯০জাতের ধানের ফলন বিঘাপ্রতি ২৪-২৫মন করে হচ্ছে। সেইসাথে অন্যান্য জাতের ধানের ফলনও ভাল হচ্ছে বলে জানান এই কৃষি অফিসার।

এদিকে চব্বিশনগর এলাকার কৃষক কাউসার আলী বলেন, তিনি জিরাশাইল ধানের চাষ করেছিলেন। ইতোমধ্যে তিনি ধান কেটেছেন। প্রতি বিঘাতে তিনি ২২মন করে ধান পাচ্ছেন। অত্র এলাকার আরেক কৃষক লালচাঁন্দ ও রমজান আলী বলেন, তারা উভয়ে ব্রি-ধান-৮৯ ও ৯২ জাতের চাষ করেছেন। ধান কেটেও নিয়েছেন। আর বিঘাপ্রতি এই ধানের ফলনও পেয়েছেন ৩০মন করে।

তারা সহ অত্র এলাকার অন্যান্য কৃষকরা বলেন, বিএমডিএ কর্তৃক সময়মত সেচ প্রদান, খরা ছাড়া অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এবং সর্বপরি অত্র ব্লকের কৃষি অফিসারের সার্বক্ষণিক পরাপর্শে, সৃষ্টিকর্তার অশেষ রহমতে তারা এবার ভাল ফলন পাচ্ছেন। এখন বাজার মূল্য ঠিক থাকলে এবার তারা ধাণ চাষ করে ভাল লাভবান হবেন বলে উল্লেখ করেন। সেইসাথে আগামীতেও চলতি মৌসুমের ন্যায় সরকারী সুযোগ সুবিধা ও পর্যাপ্ত পরিমানে পানি ও সার পেলে আরো বেশী করে ধানের চাষ দেশের খাদ্য চাহিদা পুরনে সহযোগিতা করবেন বলে জানান তারা।

এদিকে গোদাগাড়ী বরেন্দ্র অফিস কর্তৃক জানা যায়, গোদাগাড়ী উপজেলায় ৭১৪ টি গভীর নলকুপ এবং ৬০ টি এলএলপি আছে। সবগুলি এলএলপি ও গভীর নলকুপ চালু রেখে কৃষকদের বোরো ধান চাষাবাদের জন্য সহযোগিতা করা হয়েছে। এ কারনে এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানান তারা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin