নিজস্ব প্রতিবেদক: কোটা আন্দোলনে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের রায় বাতিল এবং কোটা পদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে বৃষ্টি উপেক্ষা করে আন্দোলনে নেমেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর। বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করেন তারা। সকাল ১০টায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ সিনেট ভবন সংলগ্ন প্যারিস রোডে মানববন্ধন শুরু করেন তারা। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনের রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধের উদ্দেশ্যে রাস্তায় গিয়ে বসেন। এমন সময় বৃষ্টি নামলেও তারা আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রাখেন।
পরে দুপুর ১২টার দিকে তাঁরা মহাসড়ক থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘সারা বাংলায় খবর দে, কোটা প্রথার কবর দে’, ‘মুক্তিযুদ্ধের হাতিয়ার, গর্জে ওঠো আরেকবার’, ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’, ‘সংগ্রাম না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, এই বাংলায় হবে না, বৈষম্যের ঠিকানা’, ‘আঠারোর হাতিয়ার, গর্জে ওঠো আরেকবার’, ‘আমার সোনার বাংলায়, বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘এসো ভাই এসো বোন, গড়ে তুলি আন্দোলন’সহ বিভিন্ন ধরনের ব্যানার, পোস্টার প্রদর্শনসহ কোটাবিরোধী এসব স্লোগান দিতে শোনা যায়।
শিক্ষার্থীদের দাবি, ২০১৮ সালে ঘোষিত সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিল ও মেধাভিত্তিক নিয়োগের পরিপত্র বহাল রাখতে হবে, অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক কোটা বাদ দিতে হবে এবং কোটাকে ন্যূনতম পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। সেক্ষেত্রে সংবিধান অনুযায়ী কেবল অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর কথা বিবেচনা করা যেতে পারে, সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কোটা সুবিধা একাধিকবার ব্যবহার করা যাবে না এবং কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শূন্য পদগুলোতে মেধা অনুযায়ী নিয়োগ দিতে হবে।
আন্দোলনে আসা গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আসিফ আজাদ বলেন, ‘বাংলাদেশের চাকরি বাজারের এমনিতেই যে অবস্থা, তাতে ৫৬ শতাংশ কোটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে বৈষম্যমূলক। এ কোটার কারণে অনেক সাধারণ শিক্ষার্থীর স্বপ্ন ভঙ্গ হবে। আমরা চাই স্বাধীনতার এত বছর পর একটি সুন্দর ও বৈষম্যমূলক সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত হোক।’

হিসাব বিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র অনিকেত বর্ধন আকাশ বলেন, ‘তাদের দাবি হচ্ছে, সব ধরনের চাকরি থেকে কোটা প্রথার অবসান হোক। একজন মেধাবী শিক্ষার্থী কঠোর পরিশ্রম করেও চাকরি পাচ্ছে না, অপরদিকে একজন কোটাধারী অল্প নম্বর পেয়েও চাকরিতে যোগদানের সুযোগ পাচ্ছেন। যা সম্পূর্ণভাবে বৈষম্য। তারা এ বৈষম্যের অবসান চান।’
আন্দোলনরতরা অন্যান্য শিক্ষার্থীরা বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ তৎপর ছিলো, আছে এবং থাকবে। একটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের জন্য সরকারি চাকরিতে মেধাবীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের সমান সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করার কোনো বিকল্প নেই। বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতি সংস্কারের লক্ষ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সর্বদা সোচ্চার রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তারা।
আন্দোলন কর্মসূচি চলাকালে এতে নেতৃত্ব দেওয়া রাবি পপুলেশন সায়েন্সেস অ্যান্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী আমানুল্লাহ খান বলেন, তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না। যে কোন মূল্যে এই বৈষম্যের অবসান চান তারা।