নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন রাজশাহী জেলা শাখা, বাংলাদেশ মিডওয়াইফারি সোসাইটি ও নার্সিন কলেজ রাজশাহীর আয়োজনে রোববার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে প্রতিকী শাট-ডাউন অনুষ্ঠিত হয়। ৪৮ বৎসরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অগ্রগতির স্বতন্ত্র নার্সিং প্রশাসন, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরকে বিলুপ্ত করে ভিন্ন অধিদপ্তরে একিভূত করনের অপচেষ্টার প্রতিবাদে ঢাকাসহ দেশের সকল জেলা, উপজেলা ও মিডওয়াইফারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এক যোগে এই প্রতিকী শাট ডাউন অনুষ্ঠিত হয়।
শাট ডাউনে বক্তারা উল্লেখ করেন বিশ্বব্যাপী নার্সিং ও মিডওয়াইফারি স্বতন্ত্র পেশা হিসেবে স্বীকৃত এবং স্বাস্থ্য সেবার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। নার্সিং সার্ভিস, শিক্ষা ও প্রশাসনের সকল কর্মকান্ড ও উন্নয়নে নার্সদেরই অবদান রাখতে হয়। রোগীর যথাযথ সেবা নিশ্চিত করা এবং সেবার উৎকর্ষ সাধন, বিজ্ঞান ভিত্তিক সেবা ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গবেষণা ও উচ্চ শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নানান প্রতিবন্ধকতা, বাধা-বিপত্তি মোকাবিলা করে বাংলাদেশের নার্সরাও সকল ক্ষেত্রে আগ্রসর হচ্ছে। প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা, উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণার পৃষ্ঠপোষকতার অভাব, উচ্চ শিক্ষিত, দক্ষ এবং অভিজ্ঞতা অনুযায়ী যোগ্যদেরকে যথাসময়ে পদোন্নতি না দেয়া বা মূল্যায়ন না করার কারণে বাংলাদেশের নার্সিং ব্যবস্থাপনা কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৈৗঁছাতে পারেনি। নার্সিং শিক্ষা ও সেবার ক্ষেত্রেও রয়েছে নানাবিধ অবমূল্যায়ন, বৈষম্য ও অব্যবস্থাপনা।
তারা আরো বলেন, ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত স্বতন্ত্র নার্সিং প্রশাসন “সেবা পরিদপ্তর” থেকে ২০১৬ সালে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে উন্নীত হলেও দীর্ঘ আট বছরেও বাস্তবায়িত হয়নি অধিদপ্তরের নিয়োগবিধি, অর্গানোগ্রাম, স্ট্যান্ডার্ড সেট-আপ ও ক্যারিয়ার প্যাথ। সর্বশেষ গত সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি সংস্কার পরিষদের দাবীসমূহ বর্তমান সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদানের ১৪ মাস অতিবাহিত হলেও অদ্যবধি তা বাস্তবায়ন না করায় সর্বন্তরের নার্স ও মিডওয়াইফগণের মধ্যে হতাশা, অসন্তোষ ও ক্ষোভ পরিলক্ষিত হচ্ছে।
জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি জনবান্ধব নার্সিং সেবা ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নের আবশ্যিক অনুধাবন করতে না পারার কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশার প্রতি যথাযথ মূল্যায়ন করতে পারেননি। অথচ এই নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশার উন্নয়ন করলে দেশের মানুষ যথাযথ স্বাস্থ্য সেবা পাওয়ার পাশাপাশি বর্হিবিশ্বে চাহিদা থাকায় হতে পারতো রেমিটেন্স অর্জনের একটি বিশাল সেক্টর। শুধুমাত্র রাষ্ট্রীয়ভাবে সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে যেমন অনেক ক্ষেত্রে জনগণ যথাযথ স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তেমনি বিদেশে রোগী যাওয়ার কারণে দেশ উল্টো রেমিটেন্স হারাচ্ছে।
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নার্সেস এসোসিয়েশন রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি মামুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম অপু, নার্সিং কলেজের প্রিন্সিপাল মতিয়ারা খাতুন, প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন কমিটি রাজশাহী শাখার আহ্বায়ক ময়েজ উদ্দিন, সদস্য সচিব মনিরুল হাসান, সাইমুম আহমেদ, আসমা খাতুন ও রওশনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ নার্সগণ উপস্থিত ছিলেন।