বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ঐতিহ্য রক্ষায় হরিয়ান সুগার মিলের আধুনিকায়ন চান এমপি মিলন ঐতিহ্য রক্ষায় হরিয়ান সুগার মিলের আধুনিকায়ন চান এমপি মিলন দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছেন তারেক রহমান: এমপি মিলন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে সরকার: মিলন বিএনপি গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষাকারী দল: ভূমিমন্ত্রী মিনু রাজশাহীতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য চাকরি-মেলা ২০২৬ সম্পন্ন নজরুল বর্ষ উপলক্ষে রাজশাহীতে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বর্ণালী-যাদুঘর সড়ক সংস্কারে দেড় বছরের ধীরগতি, চৌধুরী পুকুরপাড়ে সুরক্ষাদেয়ালের দাবিতে ক্ষোভ সারের চাহিদা-বরাদ্দে অসামঞ্জস্য, সংকট মোকাবিলায় সাত দফা দাবি ডিলারদের গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেয়ার আহ্বান

সারের চাহিদা-বরাদ্দে অসামঞ্জস্য, সংকট মোকাবিলায় সাত দফা দাবি ডিলারদের

  • প্রকাশ সময় রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৪ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে কৃষকের সংখ্যা চার লাখ ১২ হাজারের বেশি। অথচ সেপ্টেম্বর মাসে পুরো জেলার জন্য টিএসপি সারের বরাদ্দ হয়েছে এক হাজার ৪৫ মেট্রিক টন। এই পরিমাণ সার দিয়ে প্রত্যেক কৃষককে এক বস্তা করে দেওয়া হলে তা পৌঁছাবে মাত্র ২০ হাজার ৯০০ কৃষকের কাছে। কৃষকের প্রকৃত চাহিদার তুলনায় সারের এমন অপ্রতুল বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএ) রাজশাহী জেলা ইউনিট। রোববার বেলা ১১ টায় নগরের রেলগেট এলাকার সংগঠনটির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএফএ রাজশাহী জেলা ইউনিটের সভাপতি ওছমান আলী।

তিনি বলেন, রাজশাহীতে সরকারি গুদামে সারের মজুত নিয়ে আতঙ্কের কারণ নেই। বাফার ও বিএডিসির গুদামে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। তবে কৃষকের চাহিদার সঙ্গে সরকারি বরাদ্দের সামঞ্জস্য না থাকায় ডিলার পর্যায়ে চাপ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিনি সাত দফা দাবি জানিয়েছেন। বিএফএর সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- কৃষকের প্রকৃত চাহিদা অনুযায়ী সার বরাদ্দ বৃদ্ধি, সংকটপূর্ণ এলাকায় দ্রুত উপ-বরাদ্দ, মাছ চাষের পুকুরের জন্য সার বরাদ্দ, ডিলারদের কমিশন পুননির্ধারণ ও কৃষকদের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সার ব্যবহারে পরামর্শ দেওয়া।

বিএফএর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে রাজশাহী জেলায় টিএসপি ১ হাজার ৪৫ মেট্রিক টন, এমওপি ১ হাজার ৬২৯ মেট্রিক টন এবং ডিএপি ৩ হাজার ১৫ মেট্রিক টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জেলায় আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় এক লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান, কোষাধক্ষ্য আব্দুল গণি, নির্বাহী সদস্য সাইদুর রহমান ভুট্টো, লাল মোহাম্মদ সরদারসহ অন্য সদস্যরা।

সংগঠনটির নেতারা বলেন, বর্তমান বরাদ্দ কৃষকদের মধ্যে সমানুপাতিক হারে ভাগ করলে একজন কৃষকের ভাগে আনুমানিক ২ দশমিক ৫ কেজি টিএসপি, ৪ কেজি এমওপি ও ৭ কেজি ডিএপি পড়ে। এ হিসাবে কৃষকের প্রকৃত চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। রাজশাহীতে বিসিআইসির ৮৬ জন ও বিএডিসির ১৩০ জনসহ মোট ২১৬ জন ডিলার রয়েছেন। এর বাইরে ৪৭৫ জন কার্ডধারী খুচরা বিক্রেতা সার বিতরণে যুক্ত। ডিলারদের দাবি, তাঁরা সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলন করে নির্ধারিত মূল্যে কৃষকদের কাছে বিক্রি করছেন। কোনো ডিলার অনিয়ম করলে তার দায় পুরো ডিলার সমাজের ওপর চাপানো উচিত নয়।

সংবাদ সম্মেলনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সার নিয়ে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ করা হয়। ডিলারদের ভাষ্য, এসব তথ্যের কারণে কৃষকদের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। কেউ কেউ প্রয়োজনের আগেই সার কিনে মজুত করার চেষ্টা করছেন। আগামী নভেম্বরের আলু ও পেঁয়াজ চাষকে কেন্দ্র করেও এখনই সার সংগ্রহের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ডিলারদের দাবি, অনেক কৃষক কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শের চেয়ে বেশি সার ব্যবহার করছেন। এতে সারের চাহিদা অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাড়ার পাশাপাশি জমির উর্বরতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এজন্য কৃষকদের সার ব্যবহারে বৈজ্ঞানিক পরামর্শ দেওয়ার ওপরও তাঁরা গুরুত্ব দেন। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহীতে প্রায় ১৪ হাজার হেক্টর পুকুরে মাছ চাষ হয়। এসব পুকুরের জন্য সার বরাদ্দের দাবিও জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ডিলারেরা বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রিতে তাঁরা বদ্ধপরিকর। বর্তমানে ইউরিয়া ও টিএসপি প্রতি বস্তা এক হাজার ৩৫০ টাকা, ডিএপি এক হাজার ৫০ টাকা এবং এমওপি এক হাজার টাকা দরে বিক্রির জন্য নির্ধারিত রয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin