বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ঐতিহ্য রক্ষায় হরিয়ান সুগার মিলের আধুনিকায়ন চান এমপি মিলন ঐতিহ্য রক্ষায় হরিয়ান সুগার মিলের আধুনিকায়ন চান এমপি মিলন দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করছেন তারেক রহমান: এমপি মিলন নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করবে সরকার: মিলন বিএনপি গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষাকারী দল: ভূমিমন্ত্রী মিনু রাজশাহীতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য চাকরি-মেলা ২০২৬ সম্পন্ন নজরুল বর্ষ উপলক্ষে রাজশাহীতে জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন বর্ণালী-যাদুঘর সড়ক সংস্কারে দেড় বছরের ধীরগতি, চৌধুরী পুকুরপাড়ে সুরক্ষাদেয়ালের দাবিতে ক্ষোভ সারের চাহিদা-বরাদ্দে অসামঞ্জস্য, সংকট মোকাবিলায় সাত দফা দাবি ডিলারদের গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেয়ার আহ্বান

গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে দেয়ার আহ্বান

  • প্রকাশ সময় রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬
  • ১৫ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: গুমসহ গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্তের ক্ষমতা কোনো শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিয়ে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যাস্ত করতে হবে। গুমের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করতে কমিশনকে তদন্তের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারকে সুরক্ষা এবং গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। রোববার গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরীর অলোকার মোড় চেম্বার অব কমার্সের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এসব কথা বলেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মানবাধিকার সংগঠন অধিকার’র রাজশাহী সমন্বয়ক ও আরইউজে’র সহ-সভাপতি সাংবাদিক মঈন উদ্দিন। উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডালিম হোসেন শান্ত, দৈনিক নতুন প্রভাতের সম্পাদক সোহেল মাহবুব, রাজশাহী রিপোর্টার্স ইউনিটির সহ-সভাপতি মাসুদ রানা রাব্বানী, মানবাধিকার কর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আনোয়ার হোসেন, রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল ইসলাম, মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক হুজাইফা, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, মানবাধিকার কর্মী নুরুল আলমসহ জেলা ও মহানগরীর শতাধিক সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী। মানববন্ধন সঞ্চালনা করেন মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিক এম শামিম আক্তার।

বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে অধিকার’র পক্ষ থেকে সংগঠনটির বিবৃতি পাঠ করেন গুম থেকে ফিরে আসা আল আমিন হোসেন। বক্তারা বলেন, গুমের অভিযোগের তদন্ত কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে থাকলে তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। কারণ গুমের ঘটনায় কোন বাহিনী জড়িত ছিল, তা নিরপেক্ষ তদন্তের আগে নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের ইতিহাস রয়েছে। এমনকি এক বাহিনীর পরিচয়ে অন্য বাহিনীর সদস্যদের মানুষ তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তাই স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হাতে তদন্তভার দেওয়া জরুরি।

অধিকার’র বিবৃতিতে বলা হয়, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী, ভিন্নমতাবলম্বীসহ সাধারণ নাগরিকদের গুম, নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে অভিযুক্ত কোনো শৃঙ্খলা বাহিনী নিজে তদন্ত করতে না পারলেও সরকার অন্য কোনো বাহিনী বা আন্তঃবাহিনী তদন্ত দলের কাছে তদন্তভার দিতে পারবে। অধিকার’র মতে, এ ব্যবস্থায়ও তদন্তের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়।

এ ছাড়া তদন্তে অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর সর্বোচ্চ পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারকে অভিযোগ দায়ের থেকে নিরুৎসাহিত করতে পারে বলে মনে করে সংগঠনটি। গুম থেকে ফিরে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং নির্যাতন, মিথ্যা সাক্ষ্য বা জোরপূর্বক আদায় করা স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে হওয়া মামলা ও সাজা পুনর্বিবেচনার দাবিও জানানো হয়।

মানববন্ধনে অধিকার’র তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো- গুমের অভিযোগ তদন্তের ক্ষমতা শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে না দিয়ে স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর ন্যস্ত করতে হবে এবং বিষয়টি আইনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা, গুমের শিকার যেসব ব্যক্তি এখনও ফিরে আসেননি, তাঁদের স্ত্রী-সন্তানরা যাতে গুম হওয়া ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব পরিচালনাসহ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন, সে বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা করা, গুমের পর ফিরে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করা এবং একই সঙ্গে মিথ্যা সাক্ষ্য, নির্যাতন বা জোরপূর্বক আদায় করা স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দেওয়া সাজা ও মামলার বিষয়গুলো পুনর্বিবেচনা করা।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin