রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০৮:২৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল এর ২০০ বছর পূর্তিতে আলোচনা সভা প্রধানমন্ত্রী জাতিকে সকল দিক থেকে এগিয়ে নেওয়ার জন্যই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন: ভূমিমন্ত্রী রাজশাহী কিন্ডারগার্টেন এন্ড প্রি-ক্যাডেট স্কুল এসোসিয়েশনের সনদ ও নগদ অর্থ বিতরণ গ্লোবাল ক্লাইমেট স্ট্রাইক অনুষ্ঠিত পবা-মোহনপুরকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে চাই: এমপি মিলন খাদ্যশস্যে সমৃদ্ধ এবং জনকল্যাণেই খাল খনন ও সড়ক উন্নয়ন করা হচ্ছে: এমপি মিলন পবার হরিয়ানে মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত জেলা পরিষদ প্রশাসক ঈশাকে মোহনপুর বিএনপির সম্মাননা প্রদান খেলাধুলা তরুণ সমাজকে বিপথগামী হওয়া থেকে রক্ষা করে: এমপি মিলন রাষ্ট্রীয় সফরে রাজশাহীতে দুই মন্ত্রী ॥ শাহ মখদুম বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা

অলচিকি লিপিতে সাঁওতালী ভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর দাবি

  • প্রকাশ সময় বুধবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৬১১ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাঁওতালী ভাষা বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে সাঁওতালি ভাষার ভবিষ্যৎ ও করনীয় শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাঁওতালী ভাষার লিপি বিতর্কের দ্রুত অবসান ঘটিয়ে অলচিকি লিপিতে ভারতের ন্যায় বাংলাদেশেও সাঁওতালদের মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার দাবিতে আজ বুধবার সকাল ১০টায় রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আদিবাসী ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্র, বাংলাদেশ সারনা ফাউন্ডেশন এবং সাঁওতালি ভাষা ও সংস্কৃতি উন্নয়ন কমিটির যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সারনা ফাউন্ডেশন এর আহ্বায়ক গনেশ মার্ডি। উপস্থিত ছিলেন সাঁওতালী ভাষা ও সংস্কৃতি উন্নয়ন কমিটির সুবাস মুরমু, আদিবাসী ভাষা সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের আহ্বায়ক মানিক সরেন, রবীন্দ্রনাথ হেমব্রম, রিপন মুর্মু, কর্নেলিউস মার্ডী, রাজেন হেমব্রম, আদিবাসী নারী নেত্রী জলিতা কিস্কু, সোনাবাবু হেমব্রম, নৃত্যশিল্পী সাবিত্রী হেমব্রম ও শিবলাল টুডুসহ অন্যান্য আদিবাসী নেতৃবৃন্দ। সভা সঞ্চালনা করেন আদিবাসী সংগঠক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম।

আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলাদেশেও সাঁওতালদের মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা, সাঁওতালী ভাষার সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে সাঁওতালী একাডেমী প্রতিষ্ঠা করা ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা বিভাগে সাঁওতালী ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করারো দাবি জানান। তারা আরো বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ভাষা হচ্ছে সাঁওতালি ভাষা এবং বর্তমান বাংলাদেশের কথ্য ভাষার মধ্যে সম্ভবত তৃতীয় বৃহৎ ভাষা। সাঁওতালী ভাষার অনেক কিছু নিয়ে এই উপমহাদেশের অনেক ভাষা আজ সমৃদ্ধ হয়েছে।

তারা বলেন, একসময় সাঁওতালী ভাষার কোন বর্ণমালা না থাকলেও ১৯২৫ সালে সাঁওতাল পন্ডিত রঘুনাথ মুর্মু এই ভাষার জন্য অলচিকি লিপি আবিষ্কার করেন। বর্তমানে এই লিপিটি দিয়েই পৃথিবীর সাঁওতাল জনগোষ্ঠী তাদের শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নসহ সাহিত্য চর্চা করে আসছে। এই অলচিকি লিপি ব্যবহার করেই বিশ্বের সর্ববৃহৎ অনলাইন মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার ভার্সনও চালু হয়েছে। ২০০৮ সালের এপ্রিলে অলচিকি বিশ্বের প্রচলিত লিপিসমূহের তালিকা ইউনিকোড কনসোর্টিয়ামে অন্তর্ভূক্ত হয়ে বিশ্বের অন্যতম লিপি হিসেবে স্বীকৃতি পায় এবং বর্তমানে অলচিকি বর্ণমালা ব্যবহার করে সাঁওতালী ভাষায় ভারতে প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত শিক্ষা দান কার্যক্রম চালু হয়েছে।

বক্তারা বলেন, সবদিক বিবেচনায় বাংলা, রোমান ও অন্যান্য লিপিগুলোর তুলনায় সাঁওতালি ভাষা লেখার ক্ষেত্রে অলচিকি লিপিই এগিয়ে আছে। তাই বাংলাদেশে চলমান যে বিতর্ক সেটি নিরসনে এবং সাঁওতালি ভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম চালু করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে উদ্যোগ গহণ করার আহ্বান জানান বক্তারা। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের ২২ ডিসেম্বর ভারতের সংবিধানের শততম সংশোধনীতে সাঁওতালী ভাষা ৮ম তফশীলে অন্তর্ভুক্ত হয়ে সাঁওতালী ভাষার সাংবিধানিক স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠা পাওয়ায় এই দিনটিকে সাঁওতালি ভাষা বিজয় দিবস হিসেবে ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও নেপালের সাঁওতালী ভাষাভাষি মানুষেরা পালন করে আসছে। আলোচনা সভায় রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা উপজেলার ৪০ জন আদিবাসী নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin