নিজস্ব প্রতিবেদক: দিনের আলো হিজড়া সংঘের আয়োজনে চাকুরী দাতা প্রতিষ্ঠান আরএমপি কমিশনারের সাথে মতবিনিমিয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠির জীবনমান উন্নয়ন ও সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য এবং কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আদর্শ জীবন গড়ার লক্ষে এই মতবিনিমিয় সভা হয়। বুধবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আরএমপি কমিশনার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ও গ্লোবাল এ্যাফেয়ার্স কানাডায় অর্থায়নে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান। তিনি বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের জনগনের স্বীকৃতি বর্তমান সরকার প্রদান করেছেন। এজন্য সরকার তাদের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আর সরকারের এজেন্ডা বাস্তাবয়ন করে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে। তিনি বলেন, এই জনগোষ্ঠির উন্নয়নে প্রথমে সঠিক গণনা করা দরকার। সঠিক হিসাব থাকলে তাদের চাকুরীসহ নানা কাজে অন্তর্ভূক্ত করা সম্ভব।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, আইনের উর্ধ্বে কেউ নয়। এজন্য তৃতীয় লিঙ্গের জনগণের যেন মানবাধিকার লংঘিত না হয়, সে দিকে তিনি ও তার বাহিনী বিশেষ নজর রাখবেন। সেইসাথে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজী ও অশ্লিলতা থেকে বিরত থাকার জন্য তৃতীয় লিঙ্গের জনগণকে আহ্বান জানান প্রধান অতিথি। তিনি আরো বলেন, এই জনগোষ্ঠিকে মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে হলে গুরু প্রথা বাতিল ও অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। সন্তান যাই হোক নিজের কাছে রেখে মানুষ করে গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরো বলেন, তৃতীয় লিঙ্গের জনগণের উন্নায়নে পুলিশ বিভাগের অফিসারগণ কাজ করছেন। তাঁর দপ্তর থেকেও নিয়মানুযায়ী সকল প্রকার সুবিধা প্রদান করা হবে বলে উল্লেখ করেন প্রধান অতিথি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজশাহী মহানগরের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহীন আকতার রেনী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সব থেকে জনপ্রিয় ও সফল প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তৃতীয় লিঙ্গের জনগণের স্বীকৃতি দিয়েছেন। ভোট দানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। পিতার সম্পদে অংশিদারিত্ব নিশ্চিত করেছেন। সেইসাথে এই জনগণের ভাগ্যান্নয়ে বাজেট অর্থ বরাদ্ধ দিয়েছেন। তিনি বলেন নাচ পরিবেশন ও বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে টাকা উত্তোলন হলো তাদের আদি পেশা। পেটের দায়ে তারা একাজ গুলো করে থাকেন।
রেনী আরো বলেন, কর্মসংস্থান হলে তারা আর এই পেশায় থাকবেনা। সিটি কর্পোরেশন তাদের কাজের ব্যবস্থা করছে। এছাড়াও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষে যুব উন্নয়ন ও সমাজসেবা থেকে বিভিন্ন বিষয়ে তারা প্রশিক্ষণ করে অনেকে আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন। ক্রমন্বয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলে আগামীতে তারা আর জনগণকে উৎপাত করবেনা বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দিনের আলো হিজড়া সংঘের সভাপতি মোহনার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনের আলো হিজড়া সংঘের উপদেষ্টা ও সোনার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক ও সামসুন নাহার, বোয়ালিয়া জোনের এডিসি নূরে আলম, দিনের আলো হিজড়া সংঘের উপদেষ্টা শ্যামল কুমার ঘোষ, সেকেন্দার আলী ও শরিফ সুমন।
দিনের আলো হিজড়া সংঘের সহ-সাধারণ সম্পাদক জয়িতা পলি ও প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার রায়হানুল হক রায়হান এর সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র সংঘের সাধারণ সম্পাদক সাগরীকা খান, অর্থ সম্পাদক জুলি ও কোষাধ্যক্ষ মোস্তকা আহমেদসহ তৃতীয় লিঙ্গ জনগোষ্ঠির অন্যান্য সদস্যগণ।