নিজস্ব প্রতিবেদক: একদিকে বিপুল সম্পদ ও সম্ভাবনা, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা—এই দুই বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী হরিয়ান সুগার মিল। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ, আধুনিকায়ন ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই চিনিকলকে আবারও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল হক মিলন।
একই সঙ্গে তিনি মৌসুমি শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ী করা এবং অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের আর্থিক ও চিকিৎসাসংকট সমাধানের দাবি জানান। সোমবার সকালে রাজশাহী সুগার মিলস লিমিটেড এর রাচিক ট্রেনিং কমপ্লেক্সে আখচাষি সমাবেশ ও ২০২৬-২৭ রোপণ মৌসুমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প কর্পোরেশনের (বিএসএফআইসি) অধীন সব চিনিকলে একযোগে জুম পদ্ধতিতে আখ রোপণ মৌসুমের উদ্বোধন করা হয়। এমপি আরো বলেন, হরিয়ান সুগার মিল সরকারের এমন একটি প্রকল্প, সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারলে যেখান থেকে উল্লেখযোগ্য লাভ করা সম্ভব। কিন্তু যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে। রাজশাহীর ঐতিহ্যের সঙ্গে এই চিনিকল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি মিলটিকে লাভজনক করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, মৌসুমি শ্রমিকেরা বছরের পর বছর কাজ করেও চাকরি স্থায়ী করতে পারেন না। অবসরে যাওয়ার পর অনেক শ্রমিক ফান্ড, পাওনা অর্থ ও চিকিৎসাসুবিধা না পেয়ে চরম সংকটে পড়েন। তাঁদের এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান (সুরুজ)। বক্তব্য দেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা আক্তার জাহান, পরিচালক (সিডিআর) আব্দুল আলীম ও প্রধান (সিপিই) ড. জেবুন নাহার।
আখচাষিরা উন্নত জাতের আখবীজ ও সময়মতো সার সরবরাহ, আখের দাম বাড়ানো, মৌসুমের শুরুতে ভর্তুকি দেওয়া এবং কৃষিঋণের সুদের হার কমানোর দাবি জানান। তাঁরা বলেন, আখের সঙ্গে একই জমিতে মুলা, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন সাথি ফসল চাষ করা যায়। চিনিকল আধুনিকায়ন করা হলে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি ভালো মানের চিনি উৎপাদন সম্ভব হবে এবং কৃষকেরাও লাভবান হবেন।