নিজস্ব প্রতিবেদক: নজরুল বর্ষ উপলক্ষে দেশব্যাপী সব শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ‘নজরুল বিষয়ক জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা’র উদ্বোধন করা হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী নগরীর শিশু একাডেমি উন্মুক্ত মঞ্চে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং জেলা শিল্পকলা একাডেমির সহযোগিতায় জেলা প্রশাসন এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার ইউসুফ আলী বলেন, “সাংস্কৃতিক চর্চা এবং খেলাধুলার সঙ্গে সমাজের অপরাধপ্রবণতার একটি বিপরীতমুখী সম্পর্ক রয়েছে। সমাজে যদি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়াচর্চা বৃদ্ধি পায়, তবে কিশোর অপরাধ, মাদকাসক্তি, জুয়া ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধিগুলো পর্যায়ক্রমে দূর হবে।” নতুন প্রজন্মকে সুস্থ ও সুন্দর মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ হতে নজরুলের আদর্শ ধারণ করে বেশি বেশি সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও সাহিত্যিক দর্শনের ওপর আলোকপাত করে তিনি আরও বলেন, “কবি নজরুলের কবিতা ও গান কেবল বিনোদন নয়, বরং তা মানুষের অধিকার আদায় ও পুনর্জাগরণের দীক্ষা দেয়। শৈশবে রুটির দোকানে কাজ করার কঠিন বাস্তবতাই তাঁর মনে বিদ্রোহী মনোভাবের জন্ম দিয়েছিল।
ময়মনসিংহের ত্রিশালে কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থান এবং দরিরামপুর হাইস্কুলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, নজরুল সর্বদা সমাজের বৈষম্য, ধর্মীয় অসংগতি ও শোষণের বিরুদ্ধে তাঁর লেখনী চালিয়ে গেছেন। সাধারণ মানুষ যে কথা বলতে পারেনি, নজরুল তা অত্যন্ত সাহসের সঙ্গে উচ্চারণ করেছেন এবং এ কারণে তাঁকে কারাবরণও করতে হয়েছিল।
এ সময় তিনি বরেন্দ্র অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাঁওতালসহ সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নজরুল চর্চার মাধ্যমে একটি শিক্ষিত, অপরাধমুক্ত ও সম্প্রীতির সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরএমপি কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর, রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি খন্দকার শামীম হোসেন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মোহা. হারুন-অর-রশীদ, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরিফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা কালচারাল অফিসার ফারুকুর রহমান ফয়সল। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।

অন্যদিকে, একই সময় রাজশাহীর পবা উপজেলায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বেলুন উড়িয়ে নজরুল বর্ষের উদ্বোধন করেন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইবনুল আবেদীন। এরপর সেখানেও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
অনুষ্ঠানে ইউএনও বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। এতে তাদের মেধা ও মনন বিকশিত হওয়ার পাশাপাশি দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে উঠবে।
পবার এই অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহেদী হাসান, পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন ও সদস্য সচিব অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, নওহাটা পৌর বিএনপির সভাাপতি রফিুকল ইসলাম রফিক, সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীগণ।