নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘মুজিব বর্ষে পুলিশ নীতি, জনসেবা আর সম্প্রীতি’ এই প্রতিপাধ্য বিষয় নিয়ে রাজশাহীতে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে পুলিশিং ডে পালিত হয়। রাজশাহী মেট্রাপলিটন পুলিশের আয়োজনে, রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গনে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের পুলিশ কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বেুলন, ফেস্টুন ও কবুতর উড়িয়ে পুলিশিং ডে এর উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি প্রতিবন্ধিদের মধ্যে হুইল চেয়ার বিতরণ করেন।
এরপর রাজশাহী কলেজ অডিটরিয়মে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আরএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এডমিন) সুজায়েত ইসলামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা: হবিবুর রহমান, রাজশাহী বিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সভাপতি হাসিবুল আলম প্রধান, রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক, এন.এস.আই এর অতিরিক্ত পরিচালক মাসুদ হোসেন, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর ইকবাল, আরএমপি এর অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ( ক্রাইম এন্ড অপারেশন ) মজিদ আলী, বিপিএম, রাজশাহী মহানগর ইউনিটের সাবেক কমান্ডার ও মতিহার থানা কমিউনিটি পুলিশিং এর সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান ও বৃহত্তর রাজশাহীর হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি তপন কুমার সেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন আরএমপি’র পুলিশ কমিশানর রকিবুল হাসান, পিপিএম।

আরো উপস্থিত ছিলেন রাজপাড়া থানা কমিউনিটি পুলিশিং এর সভাপতি ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল আলম বেন্টু, নওহাটা পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান হাফিজ, কাঁটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী, বাংলাদেশ যুব মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপিকা নার্গিস সুরাইয়া শেলি, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রীস্টান ঐক্য পরিষদ রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক শ্যামল কুমার ঘোষ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, রাজশাহী মহানগর শাখার সভাপতি অলোক কুমার দাস।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরএমপি বারটি থানার অফিসার ইনচার্জগণ, পুলিশ কর্মকর্তা-কর্মচারী, অন্যান্য পুলিশ সদস্য ও প্রতিটি থানার কমিউনিটি পুলিশিং এর সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও অন্যান্য সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ। কারণ এখন পুলিশ জনগণের পাশে এসে বন্ধুর মত সেবা প্রদান করে যাচ্ছে। পূর্বে মানুষ পুলিশকে কোন প্রকার সহযোগিতা করতেন না। পুলিশ দেখলেই ভয়ে পালিয়ে যেতেন। কিন্তু এখন দিন বদলে গেছে। এখন পুলিশ ও জনগণ এক সাথে দেশ গড়ার কাজ করছেন। অপরাধ দমনে সহযোগিতা করছেন। তিনি আরো বলেন, পুলিশের দৃঢ় পদক্ষেপে দেশে অনেক হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখে দেয়া সম্ভব হয়েছে।

মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বিষয়ে তিনি আরএমপির দৃঢ় মনোভাব আবারও ব্যক্ত করেন। পুলিশ মাদক দিয়ে কাউকে হয়রানী করলে এবং তা প্রমান হলে সেই পুলিশের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। শুধু তাই নয় রাজশাহী মেট্রাপলিটন পুলিশের তৎপরতায় এবং রাতদিন মাঠে থেকে কাজ করার ফলে অনেক অপরাধ প্রবণতা কমে এসেছে।

রাজশাহী মেট্রাপলিটন এরিয়ার জনগণ নিশ্চিন্তে চলাফেলা করতে পারছেন। খুন, ছিনতাই, রাহাজানি,মারামারি, মাদক এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আর নগর জুরে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ফলে কেউ অপরাধ করলেও পার পারছেনা। পুলিশ তাকে আটক করতে সক্ষম হচ্ছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়ার গত পূজার সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী হামলা ও মন্দির ও প্রতিমা ভাঙ্গচুর হলেও রাজশাহীতে এর প্রভাব পড়তে দেয়া হয়নি। আইন শৃংখলা বাহিনী অত্যন্ত তৎপর ছিলো সে সময়ে। রাজশাহীকে নিরাপদে রাখতে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য জনগনের প্রতি আহবান জানান পুলিশ কমিশনার। শেষে কমিউনিটি পুলিশিংএ অনবদ্য অবদান রাখার জন্য রাসিক কাউন্সিলরগণসহহ বেশ কয়েকজনকে ক্রেষ্ট দিয়ে সম্মাননা জানানো হয়।