নিজস্ব প্রতিবেদক: ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি বলেন, বিএনপি গণতন্ত্র ও দেশের মানুষকে রক্ষা করার দল। আমাদের প্রিয় মা, মাটি ও মানুষের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আপোষহীনভাবে নেতৃত্ব দিয়ে সারাবিশ্বে সুনাম অর্জন করেছেন। গণতন্ত্রের জন্য লড়ে আমাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছেন। আমাদের নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিচ্ছবি হয়ে দেশের জন্য কাজ করছেন। গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠা করার জন্য দীর্ঘ স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এরপর নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে।
মঙ্গলবার সকাল ৭টায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর বিএনপির মালোপাড়াস্থ দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও দিনব্যাপী কর্মসূচী উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও গণতন্ত্রের মা আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিচ্ছবি হয়ে দেশের জন্য কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার ও সুপ্রতিষ্ঠিত করতে আন্দোলন সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। অবশেষে গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এদেশে ফ্যাসিস্টের পতন হয়েছে।
আমাদের প্রানপ্রিয় নেতা ও মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে দেশকে হানাদার মুক্ত করেছেন। তার হাতে গড়া এ দল।
তিনি আরও বলেন, যেকোনো শত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার দায়িত্ব শহীদ জিয়ার সৈনিকদের। মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হাতিয়ার তুলে নিয়ে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। তার নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল। আজ যারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল দাবি করেন তারা বিদেশে বিলাসবহুল হোটেলে ছিলেন। আমরাই এ দেশের জন্য রক্ত দিয়েছি। বিএনপির নেতাকর্মীরা সবসময় দেশের মানুষের জন্য লড়াই করেছে।
বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে ও জুলাই আন্দোলন আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মামলা করা হয়েছে। আমাদের সব নেতাকর্মীরা জেল জুলুম ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
হেলমেট বাহিনী আবার দেশের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। সব অপশক্তির যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিবে বিএনপি নেতাকর্মীরা। সবশেষ তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, ভূমিদস্যুতা, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তিনি এসব কঠোর হতে দমনে কাজ করতে নির্দেশনা দেন। পরে মন্ত্রী অন্যান্য অতিথিদের সাথে নিয়ে পাইরা ও বেলুন উড়িয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি উদ্বোধন করেন। এর আগে দলীয় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন তিনি। পরে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
বিএনপি রাজশাহী মহানগরের সভাপতি মামুন অর রশিদ মামুনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি, রাসিক সাবেক মেয়র ও বন শিল্প মন্ত্রণালয়ের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, সংরক্ষিত মহিলা এমপি মাহমুদা হাবিবা, মহানগর বিএনপির সাবেকজ আহ্বায়ক এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, সহ-সভাপতি আসলাম সরকার, ওয়ালিউল হক রানা, জয়নুল আবেদীন শিবলি, সহ-সভাপতি ও আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট ও মুক্তার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম মিলু, রাজপাড়া থানা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান, মতিহার থানা বিএনপির সভাপতি একরামুল হক, বোয়ালিয়া থানা (পুর্ব ) বিএনপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম নিপু, মহানগর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বকুল, বর্তমান আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান জনি, মহানগর কৃষক দলের আহবায়ক শরফুজ্জামান শামীম, মহিলা দল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রোকসানা বেগম টুকটুকি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শাহরিয়ার আমিন বিপুল, রাজশাহী মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রায়হান রাকিন রবিন ও সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমন সহ বিএনপি অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা কর্মীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিকেল ৪টায় বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিটি বাটার মোড় থেকে শুরু নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষণ করে আলুপট্টির মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। র্যালিতে একই ধরেনর নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। সেখানেও সংক্ষিপ্ত পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে র্যালির নেতাকর্মী ও সমর্থকগণ বাটার মোড়ে জমায়েত হয়।