নিজস্ব প্রতিবেদক: আওয়ামীলীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনের বাড়ি রাজশাহী নগরীর উপশহরে। গেল সোমবার বিকেলে মেয়র লিটনের বাড়িতে লুটতরাজ শুরু হয়। বাড়ির সব আসবাবপত্র, দরজা-জানালা থেকে শুরু করেপানির পাইপ পর্যন্ত তুলে নেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে নগর ভবন, হাইটেকপার্ক, চিড়িয়াখানা, সিনেপ্লেক্স, নগর পুলিশেরসদর দপ্তরসহ বিভিন্ন স্থাপনা। কিন্তু একেবারেই সুরক্ষিত রয়েছে নগরীর শাহ্ মখ্দুম থানা এলাকা। নগরীর বিভিন্ন থানায় এখন যেমন আগুনের ক্ষতচিহ্ন, সেখানে ব্যতিক্রম শাহ্ মখ্দুম থানা। এটি এখনও সুরক্ষিত।
স্থানীয় যুবদলের নেতা কর্মীরা এলাকাটিকে সুরক্ষিত রেখেছেন বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। শাহ্ মখ্দুম থানা যুবদলের সদস্য রাসেল মোল্লা ও চন্দ্রিমা থানা যুবদলের যুগ্মআহ্বায়ক আরিফুজ্জামান এলাকাটিকে সুরক্ষিত রাখতে নেতাকর্মীদেও নিয়ে দিনরাত পাহারা দিয়ে যাচ্ছেন। আশপাশের কোন এলাকা থেকে মালামাল লুট করে এ এলাকা দিয়ে যেতে দেখলেও তারা আটকে দিচ্ছেন। তারপর সেই মালামাল উদ্ধার কওে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, শাহ্ মখ্দুম থানা এলাকায় রয়েছে রাজশাহী কৃষিউন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) প্রধান কার্যালয়, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) অফিস, নির্মাণাধীন ওয়াসা ভবন এবং পাশেই চন্দ্রিমা থানা এলাকায় আছে পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস। নেতাকর্মীদের নিয়ে এসব অফিস পাহারা দিচ্ছেন রাসেল ও আরিফুজ্জামান। ফলে এসব সরকারি দপ্তওে নাশকতা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি।
শাহ্ মখ্দুম থানার পবাপাড়া, পবা নতুনপাড়া ও শিল্পীপাড়া মহল্লায় অন্তত ২৫০ হিন্দু পরিবারের বাস। এলাকায় রয়েছে চতুর্বেদী সার্বজনীন মন্দির। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এ মানুষগুলোর বাড়ি ও মন্দিরে যেন হামলা না হয় তার জন্যও মাইকিং করা হয়েছে। মহল্লায় মহল্লায় যুবদলের কর্মীরা পাহারা দিয়েছেন। ফলে এলাকার কারও বাড়িতে কোন হামলা হয়নি।
এলাকার বাসিন্দা সুষ্মিতা রানী বলেন, ‘গত সোমবার সকাল থেকেই দেখছি এলাকায় ছেলে-পিলে পাহারা বসিয়েছে। কোন হিন্দু মানুষের বাড়িতে যেন হামলা না হয় তারজন্য তারা মাইকিং করছে। এর ফলে আমরা কিছুটা নিশ্চিন্তে আছি। সব এলাকায় যেন এ রকম সম্প্রীতি থাকে।
নগরীর শালবাগান এলাকায় একটি বহুতল মার্কেট নির্মাণ করছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন। বুধবার দিবাগত রাত ১.৩০টার দিকে এখান থেকে প্রায় ৭০০ কেজি রড লুট কওে নিয়ে যাচ্ছিল ১২-১৩ জন যুবক। ভ্যানে কওে রড নিয়ে শাহ্ মখ্দুম থানার বিমান চত্বও এলাকায় গেলেই এই যুবকদেও আটকে দেন রাসেল ও আরিফুজ্জামান। এই রড উদ্ধার করে বৃহস্পতিবার দুপুওে মার্কেট নির্মাণের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা প্রহরীর কাছে ফেরত দেওয়া হয়।
এলাকার নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে যুবদল নেতা আরিফুজ্জামান বলেন, ‘কিছু টোকাই ও বখাটেরা আওয়ামীলীগ নেতাদেও ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন দপ্তওে লুটপাট করছে। এতে আমরা যারা আওয়ামীলীগ বিরোধীতাদেও বদনাম হচ্ছে। এ জন্য আমরা সতর্ক আছি যেন কেউ লুটপাট করতে না পারে। রাষ্ট্রের সম্পদ মানে জনগণের সম্পদ। এগুলো আমাদেরই রক্ষা করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা পাড়া-মহল্লায় পাহারা বসিয়েছি। এলাকায় কেউ সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা করতে পারবেনা। আমার মনে হয়, প্রতিটি এলাকায় এখন আমাদেও এভাবে কাজ করা উচিত।