নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী তাঁর নির্বাচনী এলাকার এক উপজেলা চেয়ারম্যানকে ‘মাইনাস’ করে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠান করতে চান বলে এই চেয়ারম্যান দাবি করেছেন। গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেলের দাবি, স্থানীয় সংসদ সদস্য উপজেলার সরকারি অনুষ্ঠানে তাঁকে অতিথি করতে বাঁধা দিচ্ছেন।
এ জন্য সোমবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে তিন দিনব্যাপী কৃষি মেলার উদ্বোধনী ও কৃষকদের মাঝে কৃষি প্রণোদনা বিতরণের অনুষ্ঠানে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী উপজেলা চেয়ারম্যানের এ অভিযোগ স্বীকার কিংবা অস্বীকার না করে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘উপজেলার প্রোগ্রামে উপজেলা চেয়ারম্যানকে রাখতেই হবে এটা কোন কিতাবে লেখা আছে।’
বেলাল উদ্দিন সোহেল উপজেলা যুবলীগের কোষাধ্যক্ষ। তিনি সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর ঘনিষ্ঠই ছিলেন। সদ্য অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্যের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট করেন। বেলাল ৬৭ হাজার ৮৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আর ওমর ফারুক চৌধুরীর পছন্দের প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম পান ২৪ হাজার ৩২৮ ভোট। জাহাঙ্গীরের ভরাডুবির পর থেকেই বেলালকে কোণঠাসা করার চেষ্টা হচ্ছে।
সোমবার গোদাগাড়ীতে আধুনিক প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজশাহী বিভাগের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩ দিনব্যাপী কৃষি প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন করা হয়। উপজেলা কৃষি অফিস আয়োজিত এ মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ২ হাজার ২০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে আমন ধানের উফশী জাতের বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী। ভারপ্রাপ্ত উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম সরকার ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সুফিয়া খাতুন মিলি। কিন্তু অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পাননি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন সোহেল।
তিনি বলেন, ‘এমপি আমার জনপ্রিয়তা দেখে আমাকে প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবতে শুরু করেছেন। তাই তিনিই কৃষি অফিসকে চাপ দিয়েছেন যেন এ অনুষ্ঠানে আমাকে অতিথি করা না হয়। এ জন্য উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠান হলেও আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।’ তিনি বলেন, ‘এমপি এখন আমাকে সব জায়গায় “মাইনাস” করে কাজ করতে চান।’
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে চাননি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ। আর ভারপ্রাপ্ত ইউএনও জাহিদ হাসান বলেছেন, ‘উপজেলা চেয়ারম্যানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল কি না সেটি জানি না। বিষয়টি নিয়ে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বললেই হয়।’
জানতে চাইলে সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘কোন কিতাবে লেখা আছে যে উপজেলা চেয়ারম্যানকে ইনভাইট করতেই হবে? এটা তো উপজেলার প্রোগ্রাম না। এটা রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম, প্রধানমন্ত্রীর প্রোগ্রাম। কে থাকবেন তার ক্যাটাগরি আছে। উপজেলা চলবে এমপির পরামর্শক্রমে। এটা উপজেলা পরিষদ আইনেই লেখা আছে। সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করার দরকার নাই। আইনে যদি তাঁর অধিকার থাকে, তাহলে সে আইনের কাছেই বলুক বলে জানান তিনি।