নিজস্ব প্রতিবেদক: ক্ষুুদ্র নৃতাত্তিক জাতিগোষ্ঠীর গোড়ায়েত ও ভূমিজ সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি লালন, চর্চা, প্রচার, প্রসার ও সংরক্ষণে সচেতনা বৃদ্ধি শীর্ষক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার কাঁকনহাট পৌর অডিটরিয়ামে শনিবার বেলা ১১টা হতে দুপুর পর্যন্ত রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কালচারাল একাডেমির আয়োজনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অত্র একাডেমির গবেষণা কর্মকর্তা বেনজামিন টুডু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির কালচারাল একাডেমির নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যাপক যোগেন্দ্রনাথ সরেন, চিত্তরঞ্জন সরতার ও সুশেন কুমার স্যামদুয়ার।
অত্র একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক মানুয়েল সরেন ও গোদাগাড়ী উপজেলা পারগানা বাইশির সাধারণ সম্পাদক দিনেশ হাঁসদার সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত ছিলেন মোহনপুর উপজেলা ফুড ইন্সপেক্টর মুকুল টুডু, গোদাগাড়ী উপজেলা পারগানা বাইশির পারগানা বাবুলাল মুর্মু, চব্বিশনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিপ্লব বাস্কে, আদিবাসী নেতা নিকোলাশ মুর্মু ও বেনেডিক মুর্মু এবং গোড়ায়েত নেত্রী বিন্দু বালাসহ গোড়ায়েত ও ভূমিজ সম্প্রদায়ের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ।
উপস্থিত অতিথিবৃন্দ গোড়ায়েত ও ভূমিজ সম্প্রদায়ের জনগণের নিকট হতে তাদের সমস্যা, সংস্কৃতি, ধর্ম ও উৎসব সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা বলেন, তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি থাকলেও তা চর্চার অভাবে এবং নিজস্ব ভাষায় শিক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এগুলো সংরক্ষণ এবং পুণরুদ্ধারে গবেষণা করার অনুরোধ করেন তারা।

তাদের সমস্যা সমাধানের এবং হারানো সংস্কৃতি পুণরুদ্ধার এবং চলমান সংস্কৃতি চর্চার ব্যবস্থা করার আশ্বাস প্রদান করে সভার সভাপতি বলেন, গোড়ায়েত ও ভূমিজ সম্প্রদায়ের জনগণ অনেক কম। এদের মধ্যে বেশীরভাগ জনগণ জানেন না তারা সরকারী গেজেটভূক্ত হয়ে ক্ষুদ্র নৃতাত্তিক জাতিগোষ্ঠি হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন। এই সম্প্রদায়কে তাদের অধিকার এবং সংস্কৃতি রক্ষায় এবং সরকারী সুযোগ সুবিধা গ্রহনের জন্য অনুরোধ করেন। সেইসাথে এই সম্প্রদায় সমুহের সকল সংস্কৃতি পুনরুদ্ধার এবং সংরক্ষণ করার আশ্বাস প্রদান করেন তিনি। শেষে গোড়ায়েত ও ভূমিজ সম্প্রদায়ের শিল্পিদের অংশগ্রহনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।