নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৩ ফেব্রুয়ারি সোমবার ছিলো বিশ^ বেতার দিবস। ইউনেস্কো ২০১১ সালে বিশ^ বেতার দিবস উদ্যাপনের ঘোষণা দেয়ার পর থেকে প্রতি বছর বিশ^ব্যাপী নানা আয়োজনে দিবসটি উদ্যাপিত হয়ে আসছে। দিবসটিতে এবারের প্রতিপাদ্যÑ ‘বেতার ও শান্তি’।
সারাদেশের মতো রাজশাহীতে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদ্যাপন করা হয়। রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. আব্দুল খালেক সকাল সাড়ে ৯টায় বাংলাদেশ বেতার রাজশাহী’র আঞ্চলিক কার্যালয়ে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে বিশ^ বেতার দিবস ২০২৩ এর উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন শেষে বাংলাদেশ বেতার রাজশাহীর কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঘোষক, শিল্পী, কলাকুশলী ও শুভানুধ্যায়ীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বেতার ভবন থেকে শুরু হয়ে সিএন্ডবি মোড় প্রদক্ষিণ কওে পুনরায় বেতার ভবনে গিয়ে শেষ হয়। এরপর বেতার ভবন চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় দিবসটির ওপর আলোচনা সভা।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বলেন, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগেও বেতার স্বমহিমায় এগিয়ে যাচ্ছে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও শান্তির বার্তা নিয়ে। এজন্য সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ^স্ত গণমাধ্যম হিসেবে বেতার গণমানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।
প্রফেসর আব্দুল খালেক বলেন, ১৯৬৩ সাল থেকে আমি রাজশাহী বেতারের সঙ্গে কাজ করছি। বেতারের অবদান আমাদেও জাতীয় জীবনে বলে শেষ করা যাবে না। মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনসহ যেকোনো দুর্যোগময় সময়ে বার্তা প্রেরণে বেতারের অবদান অপরিসীম।
তিনি বলেন, আজকের প্রতিপাদ্যে বলা হয়েছে‘বেতার ও শান্তি’Ñ এই শান্তি শব্দটা বারবার উচ্চারিত হওয়া দরকার। পৃথিবীতে শান্তি উঠে যাচ্ছে বললেই চলে। ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধ চলছে। কাজে আমরা শান্তির কথাটা বারবার বলি এবং বেতারের মাধ্যমে এর বার্তা সারাবিশে^ও কাছে পৌঁছে দেই। তিনি বেতারকে বাঁচিয়ে রাখার এবং আরও সমৃদ্ধ করার আশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বেতারের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা শেষে প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সৌখিনযাত্রা গোষ্ঠীর সদস্যদেও অংশগ্রহণে ঐতিহাসিক যাত্রাপালা ‘অশ্রুদিয়ে লেখা’ পরিবেশিত হয়।
বাংলাদেশ বেতার রাজশাহীর আঞ্চলিক পরিচালক হাসান আখতার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন মহানগর আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিকুর রহমান বাদশা, ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক বার্তা নিয়ন্ত্রক উম্মে কুলসুম। অনুষ্ঠানে বেতারের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।