নিজস্ব প্রতিবেদক: খ্রীস্টান সম্প্রদায়ের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব বড়দিনে রাজশাহীর একটি গির্জার প্রার্থনা কক্ষে পবিত্র কোরআন শরীফ রেখে আসার অভিযোগ পাওয়া গেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। রোববার সকাল পৌনে ৭টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানা এলাকার বাগানপাড়ায় অবস্থিত উত্তম মেষপালক ক্যাথিড্রাল চার্চে এই ঘটনা ঘটে।
বিষয়টি জানার পর নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় দুপুর ১২ টায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃত ঐ ব্যক্তি নিজেকে ঈসা নবী হিসেবে দাবি করছেন।
গ্রেপ্তারকৃত ঐ ব্যক্তির নাম গোলাম চৌধুরী (৩৪)। তিনি চন্দ্রিমা থানাধীন ছোট বনগ্রাম নিউ কলোনী এলাকার মৃত কুদ্দুস চৌধুরীর ছেলে। ঘটনার পর রাজশাহী নগরীর উপকণ্ঠ কাশিয়াডাঙ্গা থানা এলাকার বাগানপাড়া মেষপালক ক্যাথিড্রাল চার্চ সহ অন্যান্য চার্চের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
উত্তম মেষপালক ক্যাথিড্রাল চার্চের ফাদার উত্তম রোজারিও বলেন, রোববার সকালে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার একপর্যায়ে এক ব্যক্তি চার্চের প্রার্থনা কেক্ষে উপস্থিত হন। এ সময় উপাসনা কক্ষে হাতেগোনা কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে একজনকে ঐ ব্যক্তি তার হাতে থাকা কুরআন শরীফ নিতে বলেন। তবে না নেয়ায় কোরআন শরীফটি চার্চের প্রার্থনা কক্ষেই রেখে চলে যান ঐ আগুন্তক। ঘটনার পর কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। তারা এসে কুরআন শরীফ উদ্ধার করে নিয়ে যান।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক জানান, গ্রেপ্তারকৃত যুবক লাল রঙের একটি কাপড়ে মুড়িয়ে পবিত্র কোরআন শরীফ গির্জায় রেখে আসে। পরে গির্জা সংশ্লিষ্টরা পুলিশকে জানান। গির্জায় থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। এরপর রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন মোড়ে স্থাপন করা সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে অভিযুক্ত ঐ ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয় এবং নিউমার্কেট এলাকা থেকে দুপুর ১২ টায় গ্রেফতার করা হয়।
কমিশনার আরো জানান, গ্রেফতারকৃত গোলাম চৌধুরী নিজেকে ঈসা নবী হিসেবে দাবি করছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান যীশু খ্রিস্টের জন্মদিন বড়দিনের ধর্মীয় ভাব গাম্ভীর্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা, ধর্মীয় পবিত্রতা বিনষ্ট করা এবং দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টি করার নিমিত্তে সে উত্তম মেষপালক গির্জায় পবিত্র কোরআন শরীফ রেখে আসেন।
কমিশনার বলেন, গীর্জা কর্তৃক সংবাদের ভিত্তিতে কাশিয়াডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ মশিউর রহমান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে ফোর্স নিয়ে গীর্জায় উপস্থিত হয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে তিনি আসামী আটকের জন্য দিক নির্দেশনা দেন। তাঁরই নিদের্শে উপ-পুলিশ কমিশনার (কাশিয়াডাঙ্গা) বিভূতি ভুষণ বানার্জীর তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) আব্দুল্লাহ আল মাসুদের নেতৃত্বে সহকারি পুলিশ কমিশনার (কাশিয়াডাঙ্গা) আরিফুল ইসলাম, কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মশিউর রহমান ও মহানগর ডিবি’র পুলিশ পরিদর্শক আশিক ইকবাল, সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্স-সহ ঐ ব্যক্তিকে সনাক্ত করে গ্রেফতারে অভিযান শুরু করেন।
সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সহায়তায় সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সেই ব্যক্তিকে সনাক্ত করা হয়। পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঐ ব্যক্তির অবস্থান নির্ণয় কওে আটক করা হয় বলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি উল্লেখ করেন।