নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে এক ছাত্র নেতার সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আরেক ছাত্রনেতা। শনিবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর শালবাগানস্থ বিএনপি কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেন রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমন। তিনি লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন গত শুক্রবার (২৬ আগস্ট) রাজশাহী সার্বভৌমত্ব সংগ্রাম পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটি যুগ্ম সদস্য সচিব ও রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক তামজীদ সরকার জিসান একটি সংবাদ সম্মেলন করে তাঁকেসহ ছাত্রদল নেতা কাফি এবং অন্যান্য ছাত্রদল নেতাদের নামে ব্যক্তিগতভাবে মিথ্যা ও আক্রমণাত্মক অভিযোগ করেছেন। যা তাঁর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তাঁকে ও ছাত্রদলকে জড়িয়ে টাকা লুটসহ মারধর ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের ভিত্তিহীন মিথ্যা অভিযোগ তুলে ধরেছেন জিসান। বিষয়টি অত্যন্ত মানহানিকর বলে উল্লেখ করেন তিনি।
লিমন উল্লেখ করেন রাজশাহী সার্বভৌমত্ব সংগ্রাম পরিষদ নামে বিএনপি বা বিএনপি’র অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন বা বিএনপি মনস্ক কোনো অনুমোদিত সংগঠন নেই। বরং এটি ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা একটি ভুঁইফোড় সংগঠন। তিনি বলেন, জিসান যে দাবিগুলো করেছেন তা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত, মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া। আগামীতে তাঁর ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সুনাম ক্ষুন্ন এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যেই তিনি ভুয়া সংগঠনের নেতা পরিচয়ে ব্ল্যাকমেইল করার উদ্দেশ্যেই শুক্রবারের সংবাদ সম্মেলনটি করেছেন বলে তিনি দাবী করেন।
লিমন বলেন, অনেক দিন পূর্বে তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে জিসান একটি কমেন্ট করলে, ঐ কমেন্টের সত্যতা যাচাই না করে কমেন্ট না করার অনুরোধ করেন। এ নিয়ে জিসান তাঁর প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে মারতে উদ্যত হন। কিন্তু জিসান বয়সে অনেক ছোট হওয়ায় মানসম্মানের ভয়ে ব্যাপারটি তিনি এড়িয়ে যান। এতেও জিসান ক্ষান্ত না হয়ে চলকি বছরের গত ২৪ মে স্ব-দলবলে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে নগরীর সাহেববাজার সোনাদিঘির মোড়ে আক্রোশবশত তাঁর এবং বিশালের উপর আকস্মিক হামলা করেন। এই সময় রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব রফিকুল ইসলাম রবি বাধা প্রদান করেন এবং সেখান থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন। ঘটনার পর সিটি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক বিশাল রহমান তাৎক্ষণিক রাজশাহী বোয়ালিয়া মডেল থানায় জিডি দায়ের করেন।
পরবর্তীতে, জিসান গত ২২ আগস্ট আনুমানিক বিকেল ৫টায় রাজশাহীর কাশিয়ারডাঙ্গা এলাকায় পবা উপজেলা বিএনপি’র একটি প্রোগ্রামে সদলবলে তাঁর উপরে আক্রমণ করে বসে। রাজশাহী জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাদ্দেদ জামানী সুমনসহ উপস্থিত স্থানীয় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের হস্থক্ষেপে কোন মতে প্রাণে বেঁচে ফিরে আসেন তিনি। সেইসাথে আহত অবস্থায় চিকিৎসা গ্রহণ করেন। নিজের এবং দলীয় মান সম্মানের কথা চিন্তা করে তিনি কোন অভিযোগ করেন নি। শুধুমাত্র সিনিয়র নেতৃবৃন্দদেরকে অবহিত করেছিলেন।
পরবর্তীতে গত ২৪ শে আগস্ট ২০২২, তিনিসহ বন্ধু ছাত্রদল নেতা কাফি মোটরসাইকেল নিয়ে শালবাগান পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে যাওয়ার পথে সপুরায় জিসান তাঁর মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং কাফিকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। এতে কাফি ডান হাতে আঘাত প্রাপ্ত হন। অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি এড়াতে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন তারা। পরে তামজিদ নকল ব্যান্ডেজ লাগিয়ে তাঁর ও ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দের নাম জড়িয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। দীর্ঘদিন থেকে জিসান কর্তৃক তাঁর বিরুদ্ধে একেরপর এক হামলা ও মিথ্যা মামলা অভিযোগের কারনে হয়রানি শিকার হয়ে আসছেন।
তিনি আরো বলেন, জিসানের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত কোন বিরোধ না থাকলেও তাঁকে তার সঙ্গপাঙ্গ দ্বারা রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও সামাজিকভাবে অপদস্থ হতে হচ্ছে। অসৎ সিন্ডিকেটের ইশারায় তাঁকে বারবার লাঞ্ছনা, হামলা, মিথ্যা মামলার শিকার হতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকিও পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। যেসব অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা হয়েছে তা যে সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তাঁর সাথে ঘটে যাওয়া সকল অন্যায় অবিচারের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন তিনি। সেইসাথে কতিপয় মিডিয়া ট্রায়ালে যেন তাঁকে অপরাধী না সাজানো হয় সে বিষয়ে আইনশৃংখলাবাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন লিমন।
সেইসাথে তাঁর নাম জড়িয়ে যে সকল গুরুতর মিথ্যা সংবাদ উপস্থাপন এবং সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চালানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি।