নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে স্ত্রীর করা নির্যাতন ও যৌতুকের মামলায় আদালত এক ব্যাংকারকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। তাঁর নাম এসএম মশিউর রহমান। তিনি অগ্রণী ব্যাংকের আগ্রাবাদ সার্কেল চট্টগ্রাম শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার। মামলার বাদী তাসমীন এহসান সোনালী ব্যাংকের রাজশাহী শহরের গ্রেটার রোড শাখার সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার।
তাসমীন এহসান তাঁর বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মঙ্গলবার এ মামলায় রাজশাহী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ আত্মসমর্পণ করেন মশিউর। এ সময় আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠান
বাদী পক্ষের আইনজীবী সামসাদ বেগম মিতালী বলেন, বাদী তাসমীন এহসান নারী শিশু আদালতে ২০ লক্ষ টাকা যৌতুকের দাবী এবং নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করলে অত্র আদালতের বিচারক এফআইআর হিসেব গন্য করার জন্য ২০২১ সালের ২৮ মে রাজপাড়া থানাকে নির্দেশ দেন। সেইসাথে পিবিআইকে মামলা তদন্দ সাপেক্ষে প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দেন।
তিনি আরো বলেন, পিবিআই ঘটনার সত্যতা প্রমান সহ চার্জসিট দাখিল করলে বিচারক মনসুর আলম মঙ্গলবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনে বিবাদী মশিউর রহমানের জামিন না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠান। আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন একরামুল হক ও তরিকুল ইসলাম বাবলু।
উল্লেখ্য গত বছরের অক্টোবরে তাসমীন এহসান সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ করেছিলেন, ২০২০ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ২০ লাখ টাকা যৌতুকের দাবিতে তাঁকে বেদম মারপিট করেন মশিউর রহমান। কাপড় আইরন করা ইস্ত্রি দিয়ে তাঁর হাত ও পুড়িয়ে দেন। এ নিয়ে তিনি মামলা করেন। পরে মশিউর তাঁকে তালাকনামা পাঠান। তিনি এক সেনা কর্মকর্তার সাবেক স্ত্রীকে বিয়েও করেছেন। তাসনীম ও তাঁর সন্তানকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদে মশিউর রহমান হুমকি দিয়ে আসছিলেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে সে সময়ে অভিযোগ করা হয়েছিল।