নিজস্ব প্রতিবেদক: জমির মামলা নিস্পত্তি না করে মামলাকারী বেলাল হোসেনের নিকট হতে রাজশাহীর বোয়ালিয়া ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন মিয়া ঘুষ গ্রহন করে তার পক্ষে কাজ করছেন বলে অভিযোগ প্রদান করেছেন জমির মালিক রহিদ হক। রহিদ হক বুধবার এসিল্যান্ড শাহীন মিয়া অত্র প্রতিষ্ঠানের সার্ভেয়ার আজিমুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহন ও সহায়তা করার অভিযোগ এনে ন্যায় বিচার চেয়ে রাজশাহী বিভাগীর কমিশনার বরাবরে এই অভিযোগ প্রদান করেন।
অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন তার প্রতিপক্ষ বেলাল হোসেন হচ্ছেন তার সম্পর্কে চাচা। এই চাচা ষঢ়যন্ত্র করে প্রায় দুইযুগ পরে এসে জমি দাবী করে বোয়ালিয়া ভূমি অফিসের সহাকরী কমিশনার (ভূমি) বরাবরে একটি মামলা করেন। তিনি বলেন, বোয়ালিয়া মৌজায় তাদের দুই কাঠা ভিটাবাড়ি রয়েছে। এই ভিটাবাড়ির জমির সমস্ত কাগজপত্র তাদের নামে। তাদের নামে খাজনা চলমান রয়েছে। এর পরেও বেলাল হোসেন জমি তার বলে দাবী করে মামলা করেছেন।
তাদের নামে বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বোয়ালিয়া ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার আজিমুল ইসলাম বিভিন্ন সময়ে আকার ইঙ্গিতে ঘুষ দাবী করতেন। তিনি কোন প্রকার অর্থ লেনদেন না করায় বাদী পক্ষ বেলাল হোসেনের বাড়িতে প্রায় আজিমুলকে দেখতে পেতেন। এছাড়াও বাদী পক্ষকে দিয়ে তার দলিলের বিরুদ্ধে উল্টাপাল্টা রিপোর্ট করাতো। সেইসাথে তার রিপোর্ট রেকর্ড হতে ছিড়ে ফেলতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
তিনি আরো উল্লেখ করেন গত বছরের ১২ ডিসেম্বর মামলাটি শুনানীর পর সরাসরি এসিল্যান্ড চলতি বছরের গত ৬ ফেব্রুয়ারী দিন তারিখ ধার্য করেন বলে মৌখিক ঘোষনা দেন। কিন্তু ৫ ফেব্রুয়ারী রাত আনুমানিক ৭টার দিকে একটি খামে করে বেশ কিছু টাকা এসিল্যান্ড হাতে দেন। সে সময়ে সার্ভেয়ার আজিমুল হক উপস্থিত। এ অবস্থা দেখে তিনি অফিসে গিয়ে কর্জলিষ্টে মামলার তারিখ না পেয়ে অত্র অফিসের কর্মকর্তা মৌসুমে মামলার তারিখ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান এই মামলার পাইল এসিল্যান্ড এর নিকট রয়েছে। পরে তারিখ দেয়া হবে বলে জানান মৌসুমী। অভিযোগ আমলে নিয়ে এসিল্যান্ড ও সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করে ন্যায় বিচারের দাবী করেন তিনি।
অভিযোগ সম্পর্কে বোয়ালিয়া ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহীন মিয়া ও সার্ভেয়ার আজিমুল ইসলামের নিকট জানতে চাইলে এই মামলা সম্পর্কে তাঁরা কিছুই জানেন না বলে জানান। অনেক মামলা রয়েছে। তিনি পর্যায়ক্রমে মামলা হেয়ারিং করছেন। তারিখ নিয়ে কোন সমস্যা হলে তাঁকে জানাতে পারতেন বলে জানান এসিল্যান্ড। আর অবৈধ লেনদেন এটা কোনভাবেই সম্ভব নয়। সবগুলো অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন তাঁরা।