নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে ৫১তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত হয়। দিবসটি পালন উপলক্ষে শনিবার সকালে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসন এবং সমবায় বিভাগ ও স্থানীয় সমবায়ীদের যৌথ আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জিএসএম জাফরউল্লাহ্ এনডিসি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী মেট্টোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার বিজয় বসাক ও রাজশাহী রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি রশিদুল হাসান। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন রাজশাহী বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের যুগ্মনিবন্ধক মোহা. আব্দুল মজিদ।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশে সমবায় আন্দোলন জোরদার করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর উদ্ভাবনী শক্তি, বিচক্ষণতা ও বিস্ময়কর দর্শনের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নকে এগিয়ে নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর ১০টি বিশেষ উদ্যোগ সেটাই প্রমাণ করে। নারীর ক্ষমতায়ন, কমিউনিটি ক্লিনিক, সামাজিক সুরক্ষা, আশ্রয়ণ প্রকল্প, সবার জন্য বিদ্যুৎ, একটি বাড়ি একটি খামার ইত্যাদি প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ সমবায় আন্দোলনে কতটা এগিয়েছে, তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের কতটা অগ্রগতি হলে একদিনে এক কোটি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়া সম্ভব হয়। এক দিনে এক কোটি মানুষকে টিসিবির মাধ্যমে খাদ্য দেওয়া সম্ভব হয়। এখন যে কোনো কাজে এক কোটির নিচে চিন্তাই করা হয় না। তিনি বলেন, রাজশাহী বিভাগ সর্বক্ষেত্রে চ্যাম্পিয়ন। সৌন্দর্য, জন্মনিবন্ধন, সমবায় আন্দোলন সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে। এটা ধরে রাখতে হবে বলে জানান তিনি।
সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৩০ লক্ষ মানুষ শহিদ হয়েছিলেন। দুই লক্ষ মা-বোন চরম ত্যাগ স্বীকার করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন-দর্শন ছিল সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ। অসাম্প্রদায়িক চেতনার উপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র ব্যবস্থা বিনির্মান, ধনী ও গরীবের ব্যবধান ঘুচিয়ে আনা এবং আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে বাংলাদেশকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করা।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে সমবায় আন্দোলনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অনেকদূর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এজন্য সমবায় আন্দোলনের গতি বা দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ইনোভেশন করতে হবে। সমবায়ী ও সমবায় অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণের কারিকুলাম, মডিউল ও রিসোর্সপার্সন পরিবর্তনের মাধ্যমে যুগের চাহিদা মোতাবেক প্রশিক্ষণ দিতে হবে। অন্যথায় সাফল্য আসবে না বরে জানান সভাপতি।
সভায় সমবায়ীদের মধ্যে রাজশাহী জেলা মুক্তিযোদ্ধা বহুমুখি সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী কামাল, নগর দরিদ্র সমবায় সমিতির সদস্য আয়েশা ইসলাম মুন্নী ও উত্তরণ সেভিংস এন্ড ক্রেডিট সমবায় সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন। সভায় রাজশাহী মেট্টোপলিটন থানার দুইটি সফল সমবায় সমিতি এবং রাজশাহী মেট্টোপলিটন থানার সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনকারী চারটি প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।