নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর ১৯নং ওয়ার্ড বিহারী কলোনী ১নং গলির মধ্যে সাদিয়া (২১) নামে এক গৃহবধুকে হত্যা করে ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সাদিয়ার বাবার বাড়ি নগরীর রাজারহাতা পানবর এলাকায়। তিনি গোলমা রসুলের কন্যা। সাদিয়া মা রোজমিরা বলেন, এক বছর নয় মাস পূর্বে বিহারী কলোনীর গোলাম মোস্তফার ছেলে মোস্তাক আহম্মেদ এর সাথে তার মেয়ের বিয়ে হয়। সে সময়ে তারা মেয়েকে সোনার গহনা সহ নানা উপহার সামগ্রী প্রদান করেন।
তিনি বলেন, বিয়ের পর থেকে সাদিয়ার ননদ মোহিনী খাতুন, চাচাতো ননদ মীম ও বাড়ির কাজের মেয়ে পারভীন মিলে গরীব ঘরের মেয়ে বলে তিরস্তকার করত। সেইসাথে বাবার বাড়ি থেকে টাকা ও অন্যান্য সামগ্রী নিয়ে আসার জন্য নানা সময়ে শারীরিক ও মানষিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, শুক্রবার বেলা ১১.৭ ও ১১.৫৯মিনিটে তিনি মেয়ের সাথে মোবাইলে কথা বলেন। এর পরেই তার মেয়ে জামাই মোস্তাক আহম্মেদ এর যোগসাজসে ননদগং ও কাজের মেয়ে মিলে সাদিয়াকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করে ঘরের ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে দেন বলে জানান।
মেয়ের চাচা মজিবুর রহমানসহ বাড়ির লোকজন বলেন, লাশ ঝুলিয়েই তারা ক্ষ্যান্ত হননি। লাশ আবার নামিয়ে তাদের কাউকে না জানিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। মেডিকেলের কর্তব্য রত ডাক্তার পরীক্ষা করে মৃত ঘোষনা করেন। তিনি বলেন, মেডিকেলে আনার প্রায় ঘন্টাখানের পূর্বেই মারা গেছেন বলে জানান। এরপর সাদিয়ার লাশ তারা চাইলে লাশ না দিয়ে জোর করে শশুর বাড়ির লোকজন লাশ নিয়ে নাটক সাজাতে পপুলারের সিসিএম হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেও পরীক্ষা ডাক্তারগণ একই রিপোর্ট দেন বলে জানান তারা।

তারা আরো অভিযোগ করে বলেন, এ নিয়ে চন্দ্রিমা থানায় মামলা করতে গেলে থানার অফিসার ইনচার্জ মামলা না নিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ নেন। সেইসাথে তাচ্ছিল্য করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এদিকে সাদিয়ার মৃত্যুতে বাবা মা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা বেদনায় কাতর হয়ে পড়েছেন। তারা সাদিয়ার হত্যাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান।