নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ আদালতের রায় পাওয়া সত্ত্বেও পৈতৃক সম্পত্তি দখল নিতে ভুমিদস্যুদের হামলা ও লুটপাটের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী হুমায়ুন কবির মিজান। মিজান রাজশাহী নগরীর হেতেমখাঁ এলাকার মৃত আফাজ উদ্দিনের ছেলে। এঘটনায় শনিবার ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা ও উদ্ভুত পরিস্থিতি তুলে ধরে এই সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে হুমায়ুন কবির চৌধুরি বলেন, গত ২২ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ১০ টার দিকে বোয়ালিয়া থানাধীন ১০ নং ওয়ার্ড হেতেমখাঁ ছোট মসজিদের পশ্চিমে অবস্থিত সাত তলা ভবনসহ পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখল নিতে বাড়িতে জোর করে প্রবেশ করে হামলা চালায় এলাকার চিহ্নিত মাদক সম্রাট ও সন্ত্রাসীরা। তিনি বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত মামলায় সর্বোচ্চ আদালতের ডিক্রি পাওয়ায় চলতি বছরের আগষ্ট মাসের ৩ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে রাজশাহী জেলা যুগ্মজজ আদালত ঢোল পিটিয়ে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে তাদেরকে জমি সহ ভবন বুঝিয়ে দেন।
এরপর থেকে তিনি ও তাদের ভাগিদার পুর্ন ভোগদখল শুরু করেন। কিন্তু আদালতের রায় অমান্য কওে সৈয়দ আহমেদ জাকি ওরফে স্বজলের (৪৬) নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে উচ্ছেদ করতে তাদের উপর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বাড়িতে অতির্কিত হামলা চালায় স্বজলের ভাই মামুন ও রাজনসহ এলাকার নজরুলের ছেলে রাজ্জাক আহমেদ রাজল, সনি, জাহিদ। তারা লোহার রড, হাতুড়ি ও লাঠি-সোঠা দিয়ে বেধড়ক তাদেরকে মারপিট করে। ঘটনাস্থলে তিনি জ্ঞান হারালে তাঁকে বাঁচাতে তার ভাতিজা রায়হান জ্যাকি (৩৪) ছুটে আসেন। তাকেও বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে স্বজলের সমর্থকরা। তাদের বাঁচাতে আরও কয়েকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে তাদেরকেও মারধর করে স্বজলের লোকজন। এঘটনায় ৫ জনকে আহত করে প্রায় ৩০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন।
পরে হুমায়ুন কবির চৌধুরির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে বিস্তারিত তুলে ধরেন রাজশাহী জেলা জজ আদালতের আইনজীবী এডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম। তার বিস্তারিত বক্তব্যে জানা যায়, ১৯৫২ সালে প্রায় ০.৫৩১ একর জমি ক্রয় করেন হুমায়ুন কবির মিজানের পিতা মৃত আফাজ উদ্দিন। যার আরএস খতিয়ান নং ১৫০৪ এবং দাগ নং ২৩৭০, ২৩৭৪, ২৩৭১। সেসময় জমি নিয়ে সমস্যার সৃষ্টি হলে ১৯৬৪ সালে মামলা করা হয়। বর্তমানে ওই জমি নিয়ে বিভিন্ন আদালতে ৪ টা সিভিল মামলা ও ৫টা ফৌজদারি মামলা চলমান রয়েছে। তবুও বাংলাদেশ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট (বিপিআই) নামে প্রতিপক্ষরা একের পর এক ভুয়া কাগজপত্র তৈরী করে আদালতের মুল্যবান সময় নষ্টসহ নানা নাটকীয়তার জন্ম দিচ্ছেন।
বর্তমানে স্বজল ও তার ভাড়াটে সন্ত্রসী ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের কারণে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং প্রতিপক্ষের বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও উদ্ভট পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ করে সামাজিক মর্যাদা রক্ষায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন দৃষ্টি আকর্ষন করেন তারা। সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন পারভেজ চৌধুরী পরশ, জাহিদুল কবির চৌধুরী, আইনজীবী এাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলামসহ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।