নিজস্ব প্রতিবেদক: ইনস্টিটিশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহীতে ফজলুল হক মল্লিক-খন্দকার মাঈনুর রহমান প্যানেলের পরিচিতি সভায় বহিরাগতরা হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।বহিরাগতরা আইডিইবি অফিস ভাঙচুরও করে। রোববার সন্ধ্যায় নগরীর টুলটুলিপাড়া এলাকায় আইডিইবি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার দুপুরে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের রেস্ট হাউজে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য দিয়েছেন মল্লিক-খন্দকার প্যানেলের প্রার্থীরা।
তাঁরা বলেন, রোববার প্যানেলের পরিচিতি সভা চলাকালে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হামিদ-শামসুর প্যানেলের নেতাদের মদদে বহিরাগতরা এসে হট্টগোল সৃষ্টি ও প্রকৌশলীদের ওপর হামলা চালায়। পরে ৯৯৯ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তাদের হামলায় অন্তত ২৫ জন আহত হন। আগামী ১৯ ডিসেম্বর সারাদেশে অনুষ্ঠেয় ভোট বানচালে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, হামিদ-শামসুর রহমান প্যানেলের সমর্থকেরা এই হামলা চালিয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রকৌশলী কবির উদ্দিন, উপ-সহকারী প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন ও আয়াতুল্লাহর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সহ-সভাপতি প্রার্থী মোফাজ্জল হক। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক সম্পাদক প্রার্থী খাজা তারেক, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সারোয়ার-ই-জাহান ও প্রকৌশলী আবদুর রউফ মিয়া সহ অন্যান্যরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী আয়াতুল্লাহ বলেন, মারামারির পর তাঁরা বিষয়টা জানতে পারেন। আহত একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যাদের মতবিনিময় সভা চলছিল সেই প্যানেলেরই এক প্রার্থী নিজের পক্ষে শোডাউন দিতে ভাড়াটে লোকজন এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কিছু শিক্ষার্থীকে নিয়ে গিয়েছিলেন। এই দলটির নিজেরাই নিজেদের মধ্যে মারামারি করে আহত হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোন সম্পর্ক নেই। নির্বাচনের আগে তাঁদের বিতর্কিত করতে ঐ মারামারি দায়ভার তাঁদের ওপর চাপানো হচ্ছে। অভিযোগ পুরোপুরি মিথ্যা বলেও দাবি করেন তিনি ।
নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, এ ব্যাপারে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ এসেছে। সেখানে মারামারির কথা উল্লেখ নেই। সভা চলাকালে চেয়ার ছুঁড়াছুড়ি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্ত করে বিষয়টা দেখা হবে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।