নিজস্ব প্রতিবেদক: বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ‘র) সদ্য চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেছেন বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী কৃষকদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন। তিনি রোববার তিনি যোগদান করেন। যোগদানের পূর্বে তাঁকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এরপর মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংবর্ধনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদ্য যোগদাকৃত চেয়ারম্যান কৃষিবিদ জনাব হাসান জাফির তুহিন।
এ সময় চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমান সরকারের সহযোগিতা এবং প্রধানমন্ত্রীর সাপোর্ট নিয়ে এই বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে এমন ভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, যেমনটা সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম ডক্টর এম আসাদুজ্জামান চেয়েছিলেন। তিনি তাঁর শিক্ষক ছিলেন। সেই স্যারের দেখনো পথ ধরে তিনিও যেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে কাজ করতে পারেন। যেন তাঁর নামটাও ১৬ জেলার মানুষ মনে রাখে ডক্টর এম আসাদুজ্জামান স্যার এর মত ।
এই প্রতিষ্ঠানকে তিনি তার কর্মের মাধ্যমে বরেন্দ্র অঞ্চলে ১৬টি জেলার মাঠে ঘাটে কৃষকের মুখে সুনাম ছড়িয়ে দিয়েছিলে। তাই বর্তমান সরকারের সহায়তা নিয়ে তিনিও উন্নয়ন করবেন বলে জানান। বাংলাদেশের যেকোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় বিএমডিএর কর্মকর্তারা অনেক অবহেলিত এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তিনি পরিষ্কার ভাষায় বলেন বিএমডিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দেশের জন্য কাজ করবে, দেশও তাদের জন্য করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন নির্বাচনী সফরএ এসেছিলেন তখন বরেন্দ্র কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন এই বরেন্দ্র পূর্ণ জীবন দিতে হবে। এই প্রতিষ্ঠান বিএনপির সময় হওয়ার কারনে বিগত সরকার এই প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংশ করে দিয়েছে। বিগত সরকার দেশে কে আওয়ামীলীগ, কে বিএনপি, কে জামাত, কে জাতীয় পাটি বলে বিভক্ত করেছেন বৈষম্য সৃষ্টি করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, বিগত সরকার এই বরেন্দ্র নিয়েও পদে পদে বৈষম্য সৃষ্টি করেছেন। যেহেতু এখানে সফলতার সাথে বিএনপির সফলতা জড়িত এবং এলাকার কৃষকের ভাগ্য উন্নয়ন এর সাথে জড়িত সেই জন্য বিগত ১৬ বছর দ্বী-মাতা স্বরুপ আচরণ করা হয়েছে। তাই আমরা সেই পরিস্থীতির নিরসন চাই। আমরা মনে করি বিএনপি সরকার যতদিন ক্ষমতায় থাকবে সকল বৈষম্য দূও করে বাংলাদেশের যতগুলো কৃষি প্রতিষ্ঠান রয়েছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হবে। সেক্ষেত্র আমার সারা জীবনের যে অর্জন ও মেধার সবটুকু দিয়ে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে কাজে লাগাতে চাই। তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আশ্বস্ত করতে চাই আপনাদের সেই স্বপ্ন যেন পূরণ করতে পারি। সেই সাথে এলাকার কৃষি ও কৃষকের স্বপ্ন পূরণ করতে পারি এবং কৃষকের মুখে হাসি ফুটাতে পারি কারণ কৃষক হাসলে বাংলাদেশ হাসবে সুতরাং এই ধারনা থেকে আমার সবাই ঐক্য বদ্ধ হয়ে কাজ করব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএমডিএ’র নির্বাহী পরিচালক নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মোঃ কামরুজ্জামান, এনডিসি, (অতিরিক্ত সচিব)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএমডিএ পরিচালনা পর্ষদ এর সদস্য জাফুরুল্লাহ, সাইফুল ইসলাম হিরোক ও মিসেস বদরুল লাইলি।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবুল কাশেম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ, নাজিরুল ইসলাম, জিন্নুরাইন খান, এটিএম মাহফুজুর রহমান, শিবির আহমেদ, বিএমডিএ সচিব ও নির্বাহী প্রকৌশলী এনামুল কাদির, নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান, সৈয়দ জিল্লুর বারী, মোস্তাফিজুর রহমান, হারুন-অর-রশিদ, তোফাজ্জল আলী সরকার, রুবিনা খাতুন, সানজিদা খানম মলি, ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রাহাত পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম ও রাজ(২০৮৮) সিবিএ সভাপতি মজিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান ফারুকসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকমীসহ বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদর দপ্তরএর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, প্রকল্প পরিচালক, নির্বাহী প্রকৌশলী, ব্যবস্থাপক কৃষি, মনিটরিং অফিসার, উপ-পরিচালক (সেবা), হিসাব নিয়ন্ত্রক, ও সহকারী প্রকৌশলীবৃন্দ সকলে উপস্থিত ছিলেন।
শেষে বিএমডিএ‘র সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষে থেকে ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়। মতবিনিময় সভা শেষে বিকেলে রাজশাহী গোদাগাড়ি উপজেলার সরমংলা খাড়িসহ বিভিন্ন কাজ পরিদর্শন করেন তিনি। উল্লেখ্য, গত ০৫ মে ২০২৬ তারিখে রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মোঃ গোলাম রাব্বানী এর স্বাক্ষরিত কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিনকে ০১(এক) বছর মেয়াদে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন।