নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ’ শ্লোগানে এবার ২৩ থেকে ২৯ জুলাই জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপন করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে সপ্তাহজুড়েই রয়েছে নানা কর্মসূচি। এরই অংশ হিসেবে শনিবার সকাল ১০টায় রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এর আয়োজন করা হয়। রাজশাহী জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের উত্তর দেন জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।
রাজশাহী থেকে প্রথম শুরু হয় বিশেষ কায়দায় ট্রাকে করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তাজা মাছ সরবরাহ। এই তথ্য জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, চাহিদার চেয়ে অতিরিক্ত ১৭ হাজার ২৮৪ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হচ্ছে রাজশাহীতে। এ জেলা থেকে রোজ ১২০ মেট্রিক টন মাছ পাঠানো হচ্ছে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে। বিশেষ কায়দায় ট্রাকে তাজা মাছ নিয়ে যান চাষিরা। প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৫০টি ট্রাকে এভাবে মাছ নেওয়া হয়। প্রতিটি ট্রাকে মাছ থেকে সাত থেকে আট হাজার কেজি।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২২ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। শনিবার সকাল ১০টায় সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, রাজশাহীতে বার্ষিক মাছের চাহিদা ৬৬ হাজার ২০৮ মেট্রিক টন। তবে উৎপাদন হয় ৮৩ হাজার ৪১২ মেট্রিক টন। রাজশাহীর ৫০ হাজার ৭২০টি পুকুর, ২২৯টি বারোপিট, ১১টি নদী, ১৬০টি খাল, ৬৭টি বিল, ৮০টি প্লাবনভূমি ও ৫৭০টি ধানখেতে মাছ চাষ হয়। রাজশাহীতে মোট জলাশয়ের পরিমাণ ৪৫ হাজার ৮১৩ হেক্টর। গত পাঁচ বছরেই এই জেলায় মাছের উৎপাদন বেড়েছে ১৪ হাজার মেট্রিক টন।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ শরিফুল হক, জেলা মৎস্য দপ্তর রাজশাহীর সিনিয়র সহকারী পরিচালক আব্দুল ওয়াহেদ মন্ডল, পবা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার আসাদুজ্জামান ও জেলা মৎস্য দপ্তর রাজশাহীর মৎস্য সম্প্রসারণ অফিসার উদয় রোজারিও। এছাড়াও অত্র প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।