নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার জানে আলম এর অপসারনের দাবীতে রোববার বেলা ১১টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। আদিবাসীদের জন্য বরাদ্ধকৃত প্রকল্পে দুর্নীতি ও অনিয়মের জন্য জাতীয় আদিবাসী পরিষদ গোদাগাড়ী উপজেলা শাখা ও আদিবাসী জনগনের আয়োজনে রাজশাহীর সাহেব বাজার জিরোপয়েন্টে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। বিক্ষোভ মিছিলটি রাজশাহী সাহেব বাজার জিরোপয়েন্ট থেকে মনিচত্বর মোড়ে গিয়ে সমাপ্ত হয়।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদ গোদাগাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি রবীন্দ্রনাথ হেমব্রম। বক্তব্য রাখেন, আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ক্রিষ্টিনা বিশ^াস, সাধারণ সম্পাদক গনেশ মার্ডি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিমল চন্দ্র রাজোয়াড়, দপ্তর সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র হেমব্রম, কেন্দ্রীয় সদস্য রাজকুমার শাও, রাজশাহী মহানগর সাধারণ সম্পাদক আন্দ্রিয়াস বিশ^াস, গোদাগাড়ী উপজেলা সাবেক সভাপতি নন্দলাল টুডু, আদিবাসী ছাত্র পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নকুল পাহান ও সাধারণ সম্পাদক তরুন মুন্ডা।
সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন, ন্যাপ রাজশাহী জেলার সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান খান আলম, বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাজাহান আলী বরজাহান, জাতীয় পার্টি গোদাগাড়ী-তানোর নেতা এ্যাডভোকেট সালাউদ্দীন বিশ^াস ও গোদাগাড়ী পৌরসভার প্যানেল মেয়র শহীদুল ইসলাম।
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, গোদাগাড়ী উপজেলার আদিবাসীদের ঘর নির্মাণ, ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ, ছাত্র-ছাত্রীদের বাইসাইকেল বিতরণ, বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আয়বৃদ্ধিমুলক কর্মসূচি, একটি বাড়ি একটি খামার, পরিবার ভিত্তিক গবাদি পশু প্রদান, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের জন্য এককালিন অর্থ নিয়ে নয়ছয় করা হচ্ছে। গোদাগাড়ী উপজেলার ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠী ছাত্র ছাত্রীদের জন্য কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটিও গত ৩ বছর থেকে বন্ধ রয়েছে ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীর প্রশিক্ষককে বাদ দেওয়ার পর থেকে। প্রশিক্ষক আমিনুল ইসলাম নামে একজন প্রশিক্ষক থাকলেও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি কার্যত আর চলে না, বন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তারা আরো বলেন, এই খাত থেকে ঐ প্রশিক্ষকের বেতন দেওয়া হলেও ইউএনও তাকে দিয়ে অন্য কাজে ব্যস্ত রাখছে। এতে আদিবাসী শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গোদাগাড়ী উপজেলার নির্বাহী অফিসার জানে আলমের নেতৃত্বে দুর্নীতিবাজ অফিসারদের অনিয়ম ও দুর্নীতির কারনে এসব প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে বিঘ্ন ঘটছে এবং আদিবাসীরা তাদের নায্য প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ইউএনও সরকারি কর্মসূচিতে আদিবাসীদের অংশগ্রহণ করান না। আদিবাসী ছাত্র ছাত্রীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তিও তিনি ঠিকমত দেন না। টাকা পড়ে থাকলেও বন্টন করেন না।
তারা বলেন, ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ঘর পাওয়া প্রায় প্রতিটি আদিবাসী পরিবারকে ঘর নির্মাণ মিস্ত্রিদের খাওয়ানো বাবদ ২৫০০০-৩০০০০ (পঁচিশ থেকে ত্রিশ হাজার) টাকা খরচ করানো হয়েছে। সেসব টাকা আদিবাসীরা ফেরতের দাবি করছে। অনেক আদিবাসীদের ঘর পাওয়ার পরও ঘর নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে। কারন অন্যের জমিতে ঘর নির্মান করে চলে গেছেন। আদিবাসী মাঝে পরিবার ভিত্তিক ২টি করে অসুস্থ ভেড়ার বাচ্চা প্রদান করা হয়। সেই কারনে অধিকাংশই ভেড়া মারা গেছে।
গোদাগাড়ী উপজেলায় বিতরনকৃত ২৬৬ টি বকনা গরুর মধ্যে বহু অ-আদিবাসীদেরকেও দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠীদের দখলীয় খাস জমিতে নির্বাহী অফিসার জোর করে ঘর নির্মাণ করে অ-আদিবাসীকে ঘর দিচ্ছেন। আদিবাসী গ্রামের কবরস্থানগুলো ভূমিদস্যুরা জোর জবরদস্তি করে দখল করছে। এসব বিষয়ে নির্বাহী অফিসে গেলে কোন ধরনের প্রতিকার পাওয়া যায় না। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করলেও গুরুত্ব দেওয়া হয় নি। বক্তারা এসব দুর্নীতি এবং অনিয়মের তদন্ত সাপেক্ষে বিচার এবং ক্ষতিপুরন দাবি করেন। সেইসাথে নির্বাহী অফিসারের দ্রুত অপনারণ দাবী করেন মানববন্ধন থেকে।