নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে দিনভর নির্যাতন করে দুই নির্মাণ শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শহরের সপুরা এলাকার যে বাড়িতে দুই শ্রমিক কাজে গিয়েছিলেন, সেই বাড়ি থেকে টাকা চুরির অভিযোগে বৃহস্পতিবার দিনভর তাদের বেঁধে নির্যাতন করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে রাতে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে নিজেদের গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু তাদের বাঁচানো যায়নি।
এ ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। শুক্রবার বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে শুক্রবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে নিহত দুই শ্রমিকের মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। পরে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহত দুই শ্রমিক হলেন নওগাঁর মান্দা উপজেলার মগনিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে আতাউর (৪৫) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার চৈতন্যপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে রাকিবুল ইসলাম রাজু (৩৫)। রাকিবুল নগরীর তেরখাদিয়া ডাবতলা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নগরীর সপুরা বিসিকের মডার্ন ফুডের মালিক আব্দুল্লাহ (৩৮), আবদুল্লাহের শ্বশুর মাসুম রেজা (৫০), চাচাতো শ্যালক মঈন উদ্দিন রিয়াল (১৯) এবং কর্মচারী ইমরান (২১)।
পুলিশ বলছেন, বৃহস্পতিবার সপুরা এলাকায় আবদুল্লাহ এর বাড়িতে কাজে যান দুই নির্মাণ শ্রমিক। এ দিন ঐ বাড়ি থেকে সাড়ে চার লাখ টাকা চুরির অভিযোগে দুজনকে বেঁধে ফেলা হয়। এরপর দুপুর থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দফায় দফায় তাদের ওপর চালানো হয় নির্যাতন। হাত ও পায়ের নখ উপড়ে ফেলে তাদের কাছ থেকে টাকা চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দুই শ্রমিক এত নির্যাতনের পরেও টাকা চুরির স্বীকারোক্তি দেননি।
রাত ৯টার দিকে বোয়ালিয়া থানা-পুলিশ দুই শ্রমিককে বর্বর নির্যাতনের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান। এরপর মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করে পুলিশের গাড়িতে করেই দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। এ সময় জরুরি বিভাগেই কর্তব্যরত চিকিৎসক আতাউরকে মৃত ঘোষণা করেন। আর রাকিবুলকে পাঠানো হয় ৮ নম্বর ওয়ার্ডে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১০টার দিকে তিনিও মারা যান।
পুলিশ আরও জানায়, দুই শ্রমিককে নির্যাতনের সময় ভিডিও করা হয়েছে। সেই ভিডিও জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত চারজনকে রাতেই শ্রমিকদের উদ্ধারের সময় আটক করা হয়। এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টায় নিহত রাকিবুলের স্ত্রী সোমা খাতুন (২১) বাদী হয়ে গ্রেপ্তার চারজনসহ অজ্ঞাত আরও ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘এটা একটা বর্বর হত্যাকাণ্ড। একেবারে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানুষিক নির্যাতন করে দুই শ্রমিককে হত্যা করা হয়েছে। আরেকটু আগে খবর পেলে হয়তো দুই শ্রমিকের প্রাণ বাঁচানো যেত। কিন্তু আমরা খবর পেয়েছি রাতে। সঙ্গে সঙ্গে আবদুল্লাহর বাড়ি থেকে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু তাদের বাঁচানো যায়নি। দুজনকে নির্যাতনের সঙ্গে আরও যারা জড়িত, তাদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তাদেরকেও আইনের আওতায় আনা হবে।