নিজস্ব প্রতিবেদক: ব্যবসা বাণিজ্য যারা করেন এবং সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সমন্বয়ে পবা উপজেলাকে একটি মডেল উপজেলায় পরিণত করা হবে। ভৌগলিকভাবে এই পবা উপজলা অতি গুরুত্বপূর্ন। এই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হচ্ছেন অত্যন্ত আন্তরিক। মৎস্য সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন মৎস্য কর্মকর্তা যারা এখানে আছেন। এখন বর্ষা মৌসুম। খালে,বিলে, মাঠে ও ঘাটে পানি রয়েছে। এগুলোকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুষ্টিযুদ্ধ হাতকে জন শক্তিতে পরিনত করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের মাঝে এই ধরনের বিপ্লবী কর্মসূচী দিয়েছেন তাঁরই সুযোগ্য সন্তান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি সমস্ত মন্ত্রণালয় মনিটরিং করেন এবং সবার সাথে আলাপ আলোচনা করেন বলে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে রাজশাহীর পবা উপজেলার কর্ণহার বড়বিলার জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পবা-মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
মুক্ত জলাশয়ে অবমুক্ত করা মাছের পোনা বড় হলে স্থানীয় জলাশয়গুলো আরও সমৃদ্ধ হবে। মৎস্যসম্পদ রক্ষা ও কর্মসূচির সুফল পেতে এলাকাবাসীকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি দেশের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন এই খালে,বিলে ও জলাশয়ে যে মাছেল পোনা অবমুক্ত করবেন তা সবাই দোেখ রাখবেন যেন বড় হতে। এছাড়াও আরো কোন কোন জলাশয়ে এই ধরনের কর্মসূচী পালন করা তা দেখার জন্য নেতৃবৃন্দ মৎস্য কর্মকর্তা পরামর্শ দেন। সেইসাথে মাছ মারা নিয়ে কোন প্রকার দন্দ না করার আহ্বান জানান। তিনি সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার কাজ করবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

চলতি অর্থবছরে রাজস্ব বাজেটের আওতায় পবা উপজেলার ১৯টি জলাশয়ে মোট ৫৪৩ কেজি মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ জলাভূমি, বর্ষাপ্লাবিত ধানখেত, প্লাবনভূমি ও প্রাতিষ্ঠানিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির সফলতা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস, সর্বসাধারণের জন্য আজ ক্ষেত-খামার ও বিলে যে মাছ অবমুক্ত করা হলো, সেই খবরটি তারেক রহমানের কাছে পৌঁছাবে। তিনি হয়তো পবাকে একটি মডেল হিসেবে ধরে ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য স্থানেও এমন গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সবাইকে অনুপ্রাণিত করবেন।
অবমুক্ত করা মাছের পোনা বড় হওয়ার সুযোগ দিতে এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “অবমুক্ত করা মাছগুলোকে একটু বড় হতে দেবেন। মাছ ধরা নিয়ে নিজেদের মধ্যে যেন কোনো বিশৃঙ্খলা বা গোলমাল সৃষ্টি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সরকারি নিয়মকানুন মেনেই আপনাদের এসব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে।” আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও এ বিষয়ে সচেষ্ট থাকার আহ্বান জানান তিনি। এমপি আরো বলেন, “মানুষের ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। তবে আমাদের সবাইকে একটি টিমের মতো কাজ করতে হবে। দেশ গড়ার কাজে আমরা সবাই একসঙ্গে নিয়োজিত থাকব।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইবনুল আবেদীন। তিনি বলেন, পবার বিভিন্ন জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করার মাধ্যমে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। অবমুক্ত করা পোনাগুলো যাতে নির্বিঘ্নে বেড়ে উঠতে পারে, সে জন্য স্থানীয় জনগণকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সরকারি এ উদ্যোগ সফল করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে জলাশয়ের মাছ রক্ষা ও অবৈধভাবে মাছ ধরা বন্ধে সহযোগিতা করতে হবে। বক্তব্যের পরে উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
পবা সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য শাহজাহান আলী,পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল হালিম, আব্দুস সালাম মাস্টার, হুজুরীপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক শিহাব উদ্দিন, দর্শনপাড়া ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান রমজান আলী,উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডাক্তার আব্দুল লতিফ, ভেটেনারি সার্জন ডাক্তার মোহাম্মদ সোহরাব খান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওয়ালী উল্লাহ মোল্লাহ, পবা উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানা, জেলা যুবদলের সাবেক সদস্য মাজদার রহমান ও পবা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান হাফিজ সহ ও বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীবৃন্দ।