নিজস্ব প্রতিবেদক: কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, দেশে গণতান্ত্রিক সরকার রয়েছে। এই সরকারের আমলে দেশে অভূতপূর্ব উন্নয়ন হয়েছে। কোন প্রকার আন্দোলন করে বা আন্দোলনের নামে মানুষ ও গাড়ি পুড়িয়ে এই সরকারের পতন ঘটানো যাবেনা। একমাত্র উপায় নির্বাচন। নির্বাচনে জনগণ যাকে রায় দেবে সেই দেশ পরিচালনা করবে বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, যারা দেশে হাহাকারের কথা প্রচার করে বেড়াচ্ছে, তারা সরকারের পতন চায়। তারা অপপ্রচার করে আন্দোলনের চেষ্টা করছে, ক্ষমতায় যাওয়ার দিবাস্বপ্ন দেখছে।কিন্তু দেশে একমাত্র নির্বাচন ছাড়া কোনো আন্দোলনেই সরকারের পতন হবে না।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে এখন সারের কোনো সংকট নেই। তবে বিশ্ববাজারে সারের দাম বেড়েছে। তাই বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। কিন্তু আগামী বোরো মৌসুম পর্যন্ত দেশে সারের মজুদ আছে। খাদ্য মজুদ বাড়াতে ধান চাষের পাশাপাশি তেল জাতীয় ফসল উৎপাদনেও নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক।
কৃষিমন্ত্রী বলেন, অগণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতা নিলে এই সকল বুদ্ধিজীবীদের প্রথমে উপদেষ্টা তারপরে আস্তে আস্তে মন্ত্রী বানাবে। তাঁরা মানবতার শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু। কোন অগণতান্ত্রিক, সামরিক ও স্বৈরাশাসক সরকার দেশে উন্নয়নের স্থিতিশীলতা দিতে পারেনি। প্রত্যেকের বিপর্যয় হয়েছে। প্রত্যেককে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে আইয়ুব খান থেকে শুরু করে সব খানদের বিপর্যয় হয়েছে। তারা বিতাড়িত হয়েছে।
তিনি বলেন, পুষ্টিসম্মত খাবার মানুষের মুখে তুলে দেওয়ার জন্য অনেক বেশি জমি দরকার। সেই জমি নাই। কিন্তু প্রযুক্তি আছে। আমাদের বিজ্ঞানীরা পরিশ্রম করছে। নতুন নতুন জাত আনছে। আগে সরিষা দিয়েই তেলের চাহিদা মিটতো। তেলজাতীয় পণ্য আমদানি করে আমরা কত টাকা খরচ করি! অনেকে বিশ্বাসই করবে না যে, ভোজ্যতেল আমদানি করতেই বছরে দুই-আড়াই বিলিয়ন ডলার আমরা খরচ করি। এটা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, গত অর্থবছরে ৮১ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে আমদানি করতে। আন্তর্জাতিক বিশ্ব নির্দয়-নিষ্ঠুর। জাতীয় স্বার্থে-দেশের স্বার্থে তাদের মধ্যে কোন নীতিবোধ-আদর্শবোধ কাজ করে না। তাই খাদ্যের জন্য বিদেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া যাবে না।’
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট এই কর্মশালার আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব সায়েদুল ইসলাম। বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বেনজীর আলম ও ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহজাহান কবির।
এছাড়াও কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সকল দপ্তরের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। অংশ নিয়েছিলেন রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের কর্মকর্তাগণবৃন্দ।
উল্লেখ্য কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক একদিনের সরকারি সফরে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে বিমানযোগে রাজশাহী পৌঁছান। সকাল সাড়ে ৯টায় কৃষিমন্ত্রী শিল্পকলা একাডেমি অডিটরিয়ামে ‘বিদ্যমান শস্য বিন্যাসে তৈল ফসলের অন্তর্ভুক্তি এবং অন্যান্য ফসলের অধিক ফলনশীল জাতসমূহের উৎপাদন বৃদ্ধি’ শীর্ষক কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। পরে দুপুরে গ্রান্ড রিভার ভিউ হোটেলে ‘কৃষি সেক্টর রূপান্তরে বিনিয়োগ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।