নিজস্ব প্রতিবদেক : রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে চাকরির নামে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন হয়েছে। সোমবার আরডিএ ভবনের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ভুক্তভোগিরা। মানববন্ধনে আরডিএ কর্মচারি মিলন হোসেনের শাস্তি ও অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন তারা।
প্রতারণার শিকার নগরীর ১৯ নং ওয়ার্ডের হাজরা পুকুর ডাবতলার নিউ কলোনি এলাকার আতাউর রহমান খন্দকারের ছেলে ফয়সাল খন্দকার জানান, আরডিএর অফিস সহায়ক মিলন হোসেন প্রায় ২ বছর আগে আরডিএ এর কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকুরী দেবার প্রলোভন দেখিয়ে দুই দফায় সাত লাখ টাকা নেয়। এর মধ্যে প্রথমে ছয় লক্ষ টাকা ও পরে এক লক্ষ টাকা।
টাকা নেয়ার সময় সিকিউরিটি হিসেবে অগ্রণী ব্যাংকের আরডিএ ভবন শাখার চেক দেয়। যার হিসাব নং- ০২০০০০৫২৬৭৯৩৮ এবং চেক নম্বর- ১৮৫০২৬১। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো চাকুরি দেয়নি বা অর্থও ফেরত দেয়নি। একইভাবে চাকরি দেয়ার নামে আরও তিনজনের কাছে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানান তিনি।
ফয়সাল আরও বলেন, আমি ফোন দিলে মিলন নানা অজুহাতে ও ছলচাতুরী করে আমাকে এড়িয়ে যায়। এছাড়াও বিভিন্নভাবে আমাকে হেনস্থা করার চেষ্টা করছে। এ সব বিষয় জানিয়ে গত বছরের ২৫ মে আরডিএ চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবগত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা ও অর্থ ফেরত দেয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু মিলনের বিরুদ্ধে এখনো কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এছাড়াও মিলনের বিরুদ্ধে সিএমএম আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, আমার একমাত্র জমি বিক্রয় করে আমি মিলন হোসেনকে টাকা দিয়েছি। যার জন্য আমাকে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হতে হয়েছে। দ্রুত টাকা ফেরতের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান এই ভুক্তভোগি।
এ ব্যাপারে বক্তব্য নিতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ব্যস্ত আছি পরে কথা হবে বলে ফোন কেটে দেন মিলন হোসেন। এদিকে আরডিএর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আবু হায়াত মোঃ রহমতুল্লাহ বলেন, ‘চাকরির নামে টাকা আত্মসাত করার বিষয়ে সিএমএম আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়াও এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’