নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাঙালি চলচ্চিত্রকার ‘ঋত্বিক কুমার ঘটক’ এর বসতভিটা ভাঙার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করাসহ ঐতিহ্যবাহী এই বসতভিটা সংরক্ষণে কতিপয় দাবি ও প্রস্তাব নিয়ে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টায় সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে রাজশাহীর নাগরিকবৃন্দের আয়োজনে এ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ঋত্বিক কুমার ঘটক সেই ক্ষণজন্মা বাঙালি চলচ্চিত্রকারদের মধ্যে একজন যাঁর হাত ধরে বাংলা চলচ্চিত্র বিশ্বদরবারে মর্যাদার আসন পেয়েছে। তাঁর পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘সুবর্ণরেখা’, ‘মেঘে ঢাকা তারা’, ‘কোমল গান্ধার’, এবং ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, অযান্ত্রিক প্রভৃতি চলচ্চিত্র বাংলা চলচ্চিত্রের অমূল্য সম্পদ। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই চলচ্চিত্রকারের এসব চলচ্চিত্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে চলচ্চিত্রের পাঠ্য হিসেবে স্বীকৃত। এই মহান চলচ্চিত্রকারের একটি বসতভিটা রাজশাহী শহরের মিঞাপাড়ায়।
বিগত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তার বসতভিটাটি গুড়িয়ে দেয়া হয়। সেসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এর নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং জেলা প্রশাসন থেকে বলা হয়েছিল এই বিষয়টির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত এটি সেভাবে আছে সেভাবেই থাকবে। কিন্তু গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫ বিজয় দিবসের দিনে হোমিওপ্যাথিক কলেজ কর্তৃপক্ষ আবারো সেখান থেকে ঋত্বিকের শেষ স্মৃতিচিহ্নটুকুও মুছে ফেলার চেষ্টা করে এবং এই ইটগুলো শহরের অদূরে অবস্থিত খড়খড়ি বাইপাস এলাকায় শাহমখদুম নার্সিং কলেজের পাশে এক পুকুর ভরাট করার উদ্দেশ্যে ফেলা হয়। একইসাথে দুটি ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হচ্ছে একদিকে ঐতিহ্য ধ্বংস অপরদিকে পুকুর ভরাট।
মানববন্ধনে রাজশাহীর চলচ্চিত্রসংসদকর্মী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক-যুব সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং নাগরিক সমাজ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানায় এবং অবিলম্বে ‘ঋত্বিক কুমার ঘটক’ এর পৈতৃক বসতভিটা ভাঙ্গা এবং তার অবশিষ্ট স্মৃতিটুকু মুছে ফেলার সাথে সংশ্লিষ্টদের সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে দৃষ্ঠান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি, ঋত্বিক ঘটকের বসতভিটা থেকে সরিয়ে নেয়া ঐতিহ্যবাহী ইটগুলো দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে আনার দাবিসহ ঐতিহ্যবাহী এই বসতভিটা সংরক্ষণের জোর দাবি জানায়।
ঋত্বিক ঘটক ফিল্ম সোসাইটির নির্বাহী সদস্য আতিকুর রহমান আতিক এর সঞ্চালনায় এবং সভাপতি নাট্যকার ও চলচ্চিত্র নির্মাতা আহসান কবীর লিটন এর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হোসেন, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সূভাষ চন্দ্র হেমব্রম, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক নাদিম সিনা, আদিবাসী যুব পরিষদ রাজশাহীর সভাপতি উপেন রবিদাস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য সংগঠন স্বণন এর সভাপতি মিজান শেখ, তীর্থক নাটক এর সভাপতি আনোয়ার আমজাদ সজল, নারী নেত্রী ও সাংস্কৃতিক কর্মী ঈশিতা ইয়াসমিন, ছাত্র অধিকার পরিষদ রাজশাহীর সভাপতি তাহমিদ জাকিসহ প্রমুখ।
৫ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি ও প্রস্তাবনা রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর প্রেরণ করা হয় এবং একই দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি ও প্রস্তাবনা রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কে প্রদান করা হয়েছে। সেইসাথে অনুলিপি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সচিবগণসহ সংশ্লিষ্ট সকল র্কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রেরণ করা হয়।