নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পবার হুজরীপাড়া ইউনিয়নের সবসার গ্রামে তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন করার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাঠে নেমে কৃষকরা এই কর্মসূচি পালন করেন। এতে ঐ গ্রামসহ সূর্যপুর ও বেতকুড়ি গ্রামের কৃষকরা এতে অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন কৃষক ইমরান, আহসান হাবীব, বাবলু মোল্লা, ও ওমর ফারুক প্রমুখ।
মানববন্ধনে কৃষকরা বলেন, সবশেষ গত ১ মে রাতে এক্সেভেটর নিয়ে আসে মিজানুর রহমানসহ ১০ থেকে ১২ জন। তারা এসে মাটি কাটা শুরু করে। এনিয়ে উপজেলা প্রশাসনে অভিযোগ করলে দুপুরে উপজেলা প্রশাসন এসে পুকুর খনন বন্ধ করে দেয়। তবে এর পর থেকে তারা নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে। তারা হুমকি দিয়ে বলছে, এক্সেভেটর ঠিক করে পুকুর খনন করবে। প্রশাসনকে তারা ম্যানেজ করেছে বলে হুমকী দিচ্ছে।
ঐ এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, প্রায় ৩০ বিঘা জমির কিছু অংশ পুুকুর কাটার জন্য ঘেরাও করা হয়েছে। ঐ জমির ওপর দিয়ে বিএমডিএর পাইপ ও বিদ্যুতের খুঁটি গেছে। ইতিমধ্যে পানির পাইপ লাইন ফেটে গেছে। ঘেরাও করা জমির ভেতরে ধান কেটে রাখা হয়েছে। এক্সেভেটর জমির এক পাশে রাখা আছে।
কৃষক ইমরানের ১২ কাটা জমি পুকুরে পড়েছে। তার ধান কাটা হয়েছে একদিন আগে। ধানগুলো এখনো জমিতে আছে। ইমরান বলেন, পুকুর কাটা বন্ধ না করা গেলে তাঁর ১২ কাঠা জমি হারাতে হবে। এই জমির জন্য মিজান নামে এক ব্যক্তি ও তার লোকজন প্রতিনিয়ত হুমকি দিচ্ছে।
বাবলু মোল্লা নামে এক কৃষক বলেন, তার মোট ২৫ শতক জমি আছে। এই জমি না দেওয়ার কারণে গত রোববার হাসুয়া নিয়ে তাকে তাড়া করেছে বলে জানান। এরা বলছে, তাদের সাইজ করতে পারলে নাকি এখানে তারা পুুকুর কাটতে পারবে। এখন তারা ভয়ে আছেন। তারা টাকার লোভ দেখাচ্ছে।’
ওমর ফারুক বলেন, তার এখানে দুই বিঘা জমি আছে। পুরো জমিটাই এখন হারানোর আশঙ্কায় আছেন। এ ছাড়া এই জমির দক্ষিণে তার আরও ১০ বিঘা জমি আছে। এই এলাকা দিয়ে অন্য এলাকার জমির পানি নেমে চলে যায় পাশের বারনই নদীতে। এখানে পুকুর হয়ে গেলে পানি নামার আর কোনো রাস্তা থাকবে না। পুরো এলাকা বর্ষাকালে প্লাবিত হয়ে যাবে।
কৃষক আহসান হাবীব বলেন, তাঁরা গত ১ মে এলাকায় আতঙ্ক তৈরির জন্য রাতে ককটেল ফুটিয়েছে। এই জমিতে পুকুর হলে এই এলাকায় কোনো চাষ হবে না। কিন্তু ভয়ভীতি দেখিয়ে পুুকুর খনন করতে চাচ্ছে। এটা নয়া বিএনপির কিছু মানুষ করছে। এ ব্যাপারে মিজানুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত আমান আজিজ বলেন, ঐ মাঠে অভিযান চালিয়ে পুকুর কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে। ফসলি জমিতে কোনভাবেই পুকুর খনন করতে দেয়া হবেনা বলে জানান তিনি।