নিজস্ব প্রতিবেদক: জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দেশের জনগণকে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ করেছে বলে মন্তব্য করেন রাজশাহী-৩(পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এডভোকেট শফিকুল হক মিলন। তিনি বলেন, জাতিকে বিভক্ত করার যেকোনো ষড়যন্ত্র জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করবে। একই সঙ্গে ছাত্র-জনতার দাবি সংবলিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে রাজশাহীর পবা ও মোহনপুর উপজেলায় আয়োজিত পৃথক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এমপি মিলন বলেন, দেশের জনগণ বর্তমান সরকারের ওপর রাষ্ট্র পরিচালনার যে দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তা শপথ অনুযায়ী পালন করা হবে। তবে একটি মহল ঐক্যবদ্ধ জাতিকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও উসকানি দিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। এসব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, জাতীয় রাজকোষে অর্থসংকট রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বিপুল ঋণের চাপ দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফলে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আগের মতো গতিশীল নয়।
তিনি বলেন, প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ নানা জটিলতার কারণেই অনেক ক্ষেত্রে কাজের গতি কমে গেছে। তবে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে উন্নয়ন কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে। ছাত্র, শিক্ষক, পুলিশ, আইনজীবী, বিচারক ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এমপি মিলন বলেন, বর্তমান সময়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে জাতিকে তার খেসারত দিতে হবে। বাংলাদেশকে আর অতীতের সংকটময় অবস্থায় ফিরতে দেওয়া যাবে না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও যোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ’-এর ৩৩টি ধারার মধ্যে যেসব বিষয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে, সেগুলো বাদ দিয়ে বাকি বিষয়গুলো অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের আন্দোলনকারীদের ‘জুলাই যোদ্ধা’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হবে এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার এবং বেকারত্ব নিরসনেও সরকার অগ্রাধিকার দেবে। ইতিহাস বিকৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে। দেশ গঠনের প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্লোগান উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “করব কাজ, গড়ব দেশ; সবার আগে বাংলাদেশ।”
তিনি বলেন, ‘৩৬ জুলাই’ (৫ আগস্ট)-এর বিজয় গণতান্ত্রিক সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। মোহনপুরবাসীর ‘৩৫ জুলাই’-এর সাহসী ভূমিকা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দেশপ্রেম ও গণতন্ত্রের পক্ষে অনুপ্রাণিত করবে। আলোচনা সভা শেষে ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে পবা ও মোহনপুর উপজেলার জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
এসময় পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইবনুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, পবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন, পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদসহ বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

একই দিন মোহনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিমা বিনতে আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আরেকটি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এমপি শফিকুল হক (মিলন)। সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জোবায়দা সুলতানা, মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুব আর রশিদ, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক কাজিম উদ্দিন, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাবলুসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন।