ফজলুল করিম বাবলু: রাজশাহী এমনিতেই খরাপ্রবন এলাকা। বরেন্দ্র ভূমি হওয়ায় বাংলাদেশের অন্যান্য এলাকার আবহাওয়া থেকে রাজশাহী একেবারেই ভিন্ন। এখানে গরমের সময় প্রচন্ড গরম, আবার শীতের পরে হাড়কাঁপানো প্রচন্ড শীত পড়ে। কোনভাবেই এটা রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। এর কারন হিসেবে অনেকেই মনে করেন পার্শবর্তী দেশ ভারতের কারনে পদ্মা নদীতে শুস্ক মৌসুমে পানি থাকে না। এর ফলে রাজশাহী এলাকায় আবহাওয়ার এই বিশাল তারতম্য দেখা যায়।
এবারে বৈশাখের শুরু থেকেই পড়েছে প্রচন্ড গরম। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসসূত্রে জানা যায় রাজশাহীতে বৃহস্পতিবারের তাপমাত্রা ছিলো ৪৩ডিগ্রি সেলসিয়াস। যাকে বলা হচ্ছে অতি বেগুনি সূচক। এই গরমে একটু তৃষ্ণা মেটাতে পথাচারীরা বেছে নিচ্ছে রাস্তার পাশে ফুটপাতে বসা ঠান্ডা পানীয়। রাজশাহী মহানগরীসহ বিভিন্ন স্থানে পানি পরিস্কার করার নাম মাত্র ফিল্টার জাতীয় একটি পাত্রে রাখা হচ্ছে ওয়াসাকর্তৃক সাপ্লাইকৃত ট্যাপের পানি। সেই পানির মধ্যে মিশানো হচ্ছে অতি নিম্নমানের বরফ। যে বরফ তৈরী করা হয় মাছের জন্য। আবার ঐ পনির সাথে মেশানো হয় ওরেঞ্জ ফ্লেভারের পাউডার এবং এক খন্ড লেবু। যা পান করতে সুসাদু হলেও একটু পরেই শুরু হয় ঘন ঘন ঢেকুর তোলা ও বুক জ¦ালাপোড়া।
রাজশাহীর সাপ্লাই পানি বিশুদ্ধ নয়। কারন এতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ময়লা। রয়েছে দূর্গন্ধ। সকাল প্রায় ১০টা পর্যন্ত পানিতে থাকে প্রচুর গন্ধ। যে পানি পান করাতো দুরের কথা গোসল করাও মুসকিল হয়ে পরে। অথচ ঐ পানির ব্যবহার করছে শরবতে। এ শরবতের নামে যে পানি পান করছে জনগণ তাতে করে তাদের স্বাস্থ্যের অনেক ক্ষতি সাধিত হচ্ছে। এ বিষয়ে রাজশাহী ওয়াসার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না শর্তে বলেন, তারা এখনো নতুন পাইপ লাইন পুরোপুরো করতে পারেনি। অনেক পুরাতন পাইপ রয়েছে। অনেক সময় তা ফেটে ড্রেনের সঙ্গে মিশ্রিত হয়ে যায়। এজন্য পানিতে এই দূর্গন্ধ হচ্ছে। তবে তিনি বেশ কিছুক্ষণ পনি ফেলে দিয়ে ব্যবহার করার কথা বলেন।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী কলেজের সামনে তিন থেকে চারজনকে এই ধরনের শরবৎ বিক্রি করতে দেখা যায়। এরকম নগরীর বিভিন্ন স্থানে এই ধরনের পানিও বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি ছোট গ্রাসের মূল্য নেয়া হচ্ছে ১০টাকা। বশির নামে এক সরবৎ বিক্রেতা বলেন, প্রতিদিন তিনি ১৫০০-২০০০টাকা বিক্রি করেন। লাইন দিয়ে মানুষ এই শরবৎ পান করেন। এ সময়ে রাহুল নামে একজনকে এই শরবৎ পান করতে দেখা যায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, প্রচুর পিপাসা পেয়েছিলো, এজন্য এই পানি পান করলাম। কিন্তু এর ক্ষতিতো অবশ্যই আছে। আসলে আমরা না বুঝে এই ধরনের শরবৎ পান করছি।
এদিকে স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিরা বলেন, পানির অপর নাম জীবন। সেজন্য পানি পান করার ক্ষেত্রে বিশেষ শতর্ক থাকতে হবে। না হলে ঘটতে পারে মারাত্মক দূর্ঘটনা। তারা পথচারীসহ সকলকে নিজ বাড়ি থেকে বিশুদ্ধ নিয়ে রাস্তায় বের হওয়ার পরার্মশ দেন। তা না সম্ভব হলে বাজারে প্রচলিত বোতলজাত পানি কিংবা চাপ কলের পানি পান করার পরামর্শ দেন তারা।
দুষিত পানি পান করলে কি ধরনের ক্ষতি হতে পারে এবিষয়ে জানতে চাইলে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার প্রবীর মোহন বসাক বলেন, দুষিত পানি পান করলে জন্ডিস, ডায়রিয়া, কলেরা ও আমাশয়সহ অন্যান্য পানিবাহিত রোগ হয়। এই রোগ সমুহ প্রাননাশেরও কারণ হতে পারে। এজন্য পানি পান করতে হলে অবশ্যই বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে বলে জানান তিনি। আর ট্যাপের তথা ওয়াসা কর্তৃক সাপ্লাই পানি পান করার ক্ষেত্রে অবশ্যই শোধন করে পান করার পরামর্শ দেন এই ডাক্তার।