নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে ডিগবাজি খাওয়া সেই অধ্যক্ষের কলরেকর্ড ফাঁস করে পুরো গোমর ফাঁস করলেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ। এমপি তাঁকে কোনো ধরনের মারপিট করেন নি বলে সংবাদ সম্মেলন করার দুই দিন পর মারধরের শিকার সেই অধ্যক্ষের কলরেকর্ড ফাঁস হলো। এতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তিকে গত ৭ জুলাই রাতে কী ঘটেছিল তার বর্ণনা দিতে শোনা যায়- গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ী কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে। তবে এই ব্যাপারে আজ তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী। ঐ সংবাদ সম্মেলনে এমপি’র পাশে বসেই তার হাতে লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনাটি সরাসরি অস্বীকার করেন- অধ্যক্ষ সেলিম রেজা। আর এই প্রচার-প্রপাগান্ডার জন্য এমপি এবং তিনি রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদকে দায়ী করেন। এর দুই দিন পর নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং সেই দিন তার এবং মারধরের শিকার সেই কলেজ অধ্যক্ষের কলরেকর্ড সবার সামনে উপস্থাপন করেন। এর আগে সেই কলরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ফাঁস হয়।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে মহানগরীর লক্ষ্মীপুর মোড়ে থাকা আসাদুজ্জামান আসাদের নিজ কার্যলয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে গত ৭ জুলাইয়ের ঘটনার প্রায় ৯ মিনিট ২৪ সেকন্ডের একটি কলরেকর্ড সাংবাদিকদের দেওয়া হয়। যেখানে শোনা যায় যে, এক ব্যক্তিকে এমপির হাতে শারিরিক নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথার কথা বর্ণনা দিচ্ছেন ঐ অধ্যক্ষ। কী আছে সেই কলরেকর্ডে পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো :
অজ্ঞাত ব্যক্তি: এমপি কেন ডাকলো ?
অধ্যক্ষ: এমপি ডাকেনি তো, ডেকেছে হচ্ছে সেকেন্ড এমপি রাজু। রাজু ডাকছে সকাল আটটার সময় প্রিন্সিপালদের মহোদয়দের এমপি সালাম দিয়েছে। সব প্রিন্সিপালরা রাত ১০ টার সময় আসবে আপনি আসেন।
অজ্ঞাত ব্যক্তি: আচ্ছা।
অধ্যক্ষ: সব প্রিন্সিপালকে এই কথা বলছে, অনেক প্রিন্সিপালরা বলছে কী ব্যাপার, বলছে আসেন বুঝতে পারবেন। সকল প্রিন্সিপালকে ডেকেছে রাজু।
অজ্ঞাত ব্যক্তি: পালপুরের প্রিন্সিপাল কী গিয়েছিলো?
অধ্যক্ষ: না না। পালপুরের প্রিন্সিপাল যায়নি, ওই যে গালাগালি করার পর থেকে ও আর যায় না। করোনার আগে নিয়োগ নিয়ে গালাগালি করেছিলো এবং আমাদের পিকনিকে সবার সামনে অকাথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তারপর থেকে আসেনা।
অজ্ঞাত ব্যক্তি: আপনাদের অ্যাসোসিয়েশন থেকে লাভ কি?
অধ্যক্ষ: কিচ্ছু নাই; কিচ্ছু নাই, অধ্যক্ষ ফোরাম অ্যাসোসিয়েশন আমার প্রয়োজন নাই। আমার ১২ জন অধ্যক্ষ যদি এক জায়গায় হয় আপনি এটা অন্যায় বললেন, অন্যায় করলেন, কেউ লড়তে পারব?।
অজ্ঞাত ব্যক্তি: তারপরে ডাকলো আপনি গেলেন?
অধ্যক্ষ: হ্যাঁ, গেলাম। আমি তো এমনি যায়না। যখন ডাকে মিটিংয়ে ডাকে তখনই যায়। অন্যন্য অধ্যক্ষরা সপ্তাহের মধ্যে তিন দিনই দেখা করে।
অজ্ঞাত ব্যক্তি: আচ্ছা।
অধ্যক্ষ: আমি আর ২৪ নগরের অধ্যক্ষ হাবিব ভাই, কোন মিটিংয়ে না হলে আমরা যায় না।
অজ্ঞাত ব্যক্তি: আচ্ছা।
অধ্যক্ষ: এটা তার রাগ। আর আমি যখন যায় তখন হাবিব ভাই ডেকে নেয়। বৃহস্পতিবার সেই দিন হাবিব ভাই ও আমি এক সাথে গিয়েছি। হাবিব কে তো চেনেন?
অজ্ঞাত ব্যক্তি: হ্যাঁ চিনি।
অধ্যক্ষ: এই দুটা লোক ছাড়া সবাই ওর পা চাটা।
অজ্ঞাত ব্যক্তি: ওখানে যাওয়ার পরে?
অধ্যক্ষ: ওখানে যাওয়া পরে শিরোইলের মজিবর ছিলো। শিরোইল স্কুল এমপিওভুক্ত হওয়ার কারণে ফুল নিয়ে গিয়েছিলো। আমাদের লিডার ছিলো সাধারণ সম্পাদক রশিদ ভাই ছিলো। তারপর ওরা বাহিরে আসলো। ওমর প্লাজার পূর্ব পাশে তখন রাজু আসলো বলছে এমপি স্যার উঠে যাবেন ঢুকেন ঢুকেন। ঢোকার পর বসতেই বলে সেলিম তোমার কলেজে কী হয়েছে। আমি বলি স্যার কিছু হয়নি। (অপ্রকাশ যোগ ভাষা) তোর অফিসে বসে আমার আমার নামে আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলে। তুই আমাকে না বলে ওই শিক্ষকদের বিচার না করে কিল, ঘুষি,লাথি মারতে থাকে, এরপর হকিস্টিক দিয়ে মারধর করতে থাকে।
সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ রাজশাহী-১ আসনের এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্রও তুল ধরেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৭ জুলাই) রাতে রাজশাহী মহানগরীর থিম ওমর প্লাজায় রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করার অভিযোগ ওঠে। এরই মধ্যে এই ঘটনা অনুসন্ধানে তদন্তে কমিটি গঠন করেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। আজকের অডিও ফাঁসের পর একাধিকবার ফোন করা হলেও কলেজ অধ্যক্ষ রিসিভ করেন নি।