নিজস্ব প্রতিবেদক: দীর্ঘ আঠারো বছর পর বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার জেষ্ঠ্যপুত্র বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। এরপর সেখানে প্রায় ১ঘন্টা যাত্রা বিরতী শেষে তিনি ঢাকা শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে নামেন।
তাঁর এই স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে সারাদেশের ন্যায় রাজশাহী থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী ঢাকার যান। এরমধ্যে পবা-মোহনপুরের প্রাণের মানুষ, অত্র আসনের ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক সহ-সম্পাদক, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট শফিকুল হক মিলনও বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী নিয়ে প্রিয় নেতাকে সংবর্ধনা জানাতে ঢাকায় যান। তিনি সবাইকে নিয়ে ৩০০ফিট সড়কে অবস্থান নেন। তারেক রহমান আসা এবং বক্তব্য দিয়ে যাওয়া পর্যন্ত নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান করেন। তারেক রহমান সমাবেশ স্থলে প্রবেশ করামাত্র নেতাকর্মীরা তাঁকে শ্লোগানের মাধ্যমে শুভেচ্ছা ও স্বাগতম জানান।
এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য রায়হানুল আলম রায়হান, পবা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী হোসেন, সদস্য সচিব সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নাফ মুন্নাফ, নওহাটা পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র শেখ মকবুল হোসেন, বর্তমান সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক, সাধারণ সম্পাদক এডাভোকেট আব্দুর রাকিব পিটার, যুবদল রাহশাহী মহানগরের সাবেক আহ্বায়ক আব্দুল কাদের বকুল, পবা উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল রানাসহ হাজার হাজার নেতাকর্মী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিলন বলেন, দীর্ঘ আঠারো বছর বিএনপি প্রাণের নেতা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে আসা এবং দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেয়ায় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থক ও দেশবাসী প্রাণ ফিরে পেয়েছে। প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য দুই থেকে তিনদিন পূর্বে নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ জনগণ ঢাকায় আসে। প্রচন্ড ঠান্ডা উপেক্ষা করে তারা প্রিয় নেতাকে সরাসরি দেখার জন্য ৩০০ফিট রাস্তায় সারারাত বসেছিলেন। এস সময়ে কারো চোখে ক্লান্তি অনুভব হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরো বলেন সামবেশে তারেক জিয়া বক্তব্যে বলেন, বিভিন্ন আধিপত্যবাদী শক্তির গুপ্তচরেরা বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। আমাদেরকে ধৈর্যশীল হতে হবে, আমাদেরকে ধৈর্য ধারণ করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের যে সদস্যরা আছেন, তোমরাই আগামী দিন দেশকে নেতৃত্ব দেবে, দেশকে গড়ে তুলবে। এই দায়িত্ব তরুণ প্রজন্মের সদস্যদের আজ গ্রহণ করতে হবে, যাতে করে এই দেশকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে পারি, শক্ত ভিত্তির উপরে, গণতান্ত্রিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করে এবং অর্থনৈতিক ভিত্তির উপরে যাতে এই দেশকে আমরা গড়ে তুলতে পারি।
তারেক রহমান আরো বলেন, আমার সঙ্গে আজ মঞ্চে এখানে বহু জাতীয় নেতৃবৃন্দ বসে আছেন। আসুন আজকে আমরা দু-হাত তুলে আল্লাহর দরবারে দোয়া করি। আল্লাহর রহমত আমরা চাই। যেসব জাতীয় নেতৃবৃন্দ এই মঞ্চে আছেন এবং মঞ্চের বাইরে যেসব জাতীয় আরও নেতৃবৃন্দ আছেন—আমরা সকলে মিলে এই দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে আমাদের বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই। আমাদেরকে যেকোনো মূল্যে, যেকোনো মূল্যে এই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে। যেকোনো উসকানির মুখে আমাদেরকে ধীর-শান্ত থাকতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়াও তিনি ৩১ দফার অনেক দফা নিয়ে দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।