নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘ডিজিটাল সাদাছড়ি, নিরাপদে পথ চলি’ এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে নানা আয়োজনের মধ্যে দিয়ে রাজশাহীতে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত রাজশাহী জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।
রাজশাহী জেলা প্রশাসন, জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও প্রতিবন্ধি সেবা ও সাহায্য কেন্দ্রের আয়োজনে রাজশাহী অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুহাম্মদ শরিফুল হক এর সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) জয়া মারীয়া পেরেরা, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহীন আকতার রেনী ও রাজশাহী জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে সহকারী পরিচালক আব্দুল্লা আল ফিরোজ।

সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা প্রতিবন্ধি বিষয়ক কর্মকর্তা মীর শামীম আলী। প্রতিবন্ধিদের মধ্যে থেকে বক্তব্য রাখেন জাতীয় অন্ধ ও বধীর সংস্থা রাজশাহীর প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান।
উপস্থিত অতিথিববৃন্দ প্রতিবন্ধিদের মাসিক ভাতা বৃদ্ধি এবং প্রতিবন্ধিদের তৈরী বোতলজাত পানি ব্যবহার করার জন্য প্রধান অতিথির দৃষ্টি আকর্ষন করেন। সেইসাথে রাস্তা এবং ফুটপাতগুলো প্রতিবন্ধিবান্ধব করে গড়ে তোলার অনুরোধ করেন। এছাড়াও ফুটপাতে রেলিং স্থাপনের দাবী জানান। সেইসাথে রাজশাহীতে যাত্রীবাহী বাসে এবং অন্যান্য যানবাহনে সংরক্ষিত সিটের ব্যবস্থা করার কথা বলেন। তারা আরো বলেন, প্রতিবন্ধিদেরর শুধু সাহায্য নয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবস্থা করার জন্য প্রধান অতিথির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট অনুরোধ করেন তারা।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে প্রায় এক কোটির কাছাকাছি প্রতিবন্ধি রয়েছে। এরা কেউ পরিবার, সমাজ ও দেশের বোঝা নয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা প্রতিবন্ধিদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। সকল প্রতিবন্ধির ভাতা নিশ্চিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এই জনগোষ্ঠির প্রতি অনেক সংবেদন শীল। কারন একটি গোষ্ঠীকে বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়নের শিকড়ে পৌঁছানো সম্ভব নয়। প্রতিবন্ধিরা আজ পিছিয়ে নেই। তারা ক্রীড়া থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক অঙ্গন এবং লেখাপড়ায় অনেক এগিয়ে যাচ্ছে। তারা অনেক প্রতিষ্ঠানে ভাল চাকরী করছেন। তবে এই জনগোষ্ঠির উন্নয়নে আরো সচেতন হতে হবে বলে জানান তিনি।
প্রধান অতিথি আরো বলেন, সবার ভাতা বৃদ্ধি হয়েছে। প্রতিবন্ধিদেরও ভাতা সর্বনিম্ন তিন হাজার টাকা করা প্রয়োজন। এবিষয়ে সভার সভাপতিকে ভাতা সম্পর্কিত সকল তথ্য তাঁকে দেয়ার নির্দেশ দেন। এগুলো সমন্বয় করে ভাতা বৃদ্ধির জন্য প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ঠ মন্ত্রণালয়ে পাঠাবেন বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি। বক্তব্য শেষে অতিথিদের নিয়ে তিনি পনের জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধি ব্যক্তিদের মধ্যে স্মার্ট সাদাছড়ি বিতরণ করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।