রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময় রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩ আরডিএ এর ১৫৭ দোকান গায়েব করে বানিয়েছেন সুবিশাল ফার্নিচার শোরুম শফিকুল আউয়াল খান রাজশাহীতে জিয়া মঞ্চের বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত

নারীদের মধ্যে মাদকাসক্তি বৃদ্ধি: একটি বহুমাত্রিক সামাজিক ও জনস্বাস্থ্য সংকট

  • প্রকাশ সময় বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬
  • ৩২৬ বার দেখা হয়েছে

২৬ জুন মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচার বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মাদকদ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করতে ১৯৮৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভায় দিনটিকে মাদকবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত হয়।

বর্তমান সমাজে দ্রুত পরিবর্তনশীল জীবনধারা, পারিবারিক অস্থিরতা, সামাজিক অবক্ষয় এবং প্রযুক্তির সহজলভ্যতার প্রভাবে নারীদের মধ্যে মাদকাসক্তির প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিকতার নামে কিছু ভ্রান্ত ধারণা, পারিবারিক বিচ্ছেদ, মাদকাসক্ত বন্ধুদের প্রভাব, মাদক ব্যবসায়ীদের কৌশলী তৎপরতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সহজে মাদকদ্রব্য সংগ্রহের সুযোগ এসব বিষয় নারীদের মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুগুণে বাড়িয়ে তুলছে।

সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক বছরে নারী মাদকাসক্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যথাযথ পারিবারিক তত্ত্বাবধানের অভাব, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সচেতনতার ঘাটতি, পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার সীমাবদ্ধতা এবং সামাজিক কুসংস্কার ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এই সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে নারী মাদকাসক্তদের ক্ষেত্রে সামাজিক লজ্জা ও ট্যাবুর কারণে অনেকেই চিকিৎসা গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন, ফলে তারা প্রয়োজনীয় সেবা ও সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সর্বশেষ জাতীয় সমীক্ষা ২০২৫ অনুযায়ী দেশে মোট মাদকাসক্ত সংখ্যা ৮১,৯৪,৬৫১ লাখ। যার মধ্যে প্রায় অর্ধেক (৪৭.৭%) ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী। মোট মাদকাসক্তদের মধ্যে প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার নারী এবং ২ লাখ ৫৫ হাজার শিশু ও কিশোর-কিশোরী মাদকাসক্ত রয়েছে(তথ্য সুত্রঃ ঊংঃরসধঃরড়হ ড়ভ ঃযব ঘঁসনবৎ ধহফ ঈধঃবমড়ৎু ড়ভ চবৎংড়হংথউঘঈ)। বাংলাদেশে নারী মাদকাসক্তের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলেও তাদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার সুযোগ এখনও সীমিত। সরকারি চারটি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের মধ্যে কেবল ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নারীদের আবাসিক চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ে কিছু উদ্যোগ থাকলেও প্রয়োজনের তুলনায় সেবার পরিধি এখনও অপর্যাপ্ত। অন্যদিকে সরকারি ও বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা গ্রহণকারী নারী ও শিশু রোগীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা সমস্যাটির ক্রমবর্ধমান ব্যাপকতাকে নির্দেশ করে।

কেন বাড়ছে নারী মাদকাসক্তির সংখ্যা?
মাদকাসক্তদের নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতার আলোকে আপস-এর নির্বাহী পরিচালক আবুল বাশার বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনাকালীন সময়ে নারীদের মধ্যে মাদক গ্রহণের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। গত পাঁচ থেকে সাত বছরে দেশে নারী মাদকাসক্তের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ইয়াবার বিস্তারের পর এক শ্রেণির নারীর মধ্যে মাদক গ্রহণের প্রবণতা লক্ষণীয়ভাবে বেড়েছে।

তিনি আরো মনে করেন, নারী মাদকসেবীদের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত, প্রমাণভিত্তিক এবং লিঙ্গ-সংবেদনশীল কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা জরুরি। বিশেষ করে কিশোরী, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী নারী, বৈবাহিক সংকটে থাকা নারী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নারীদের জন্য পৃথক ঝুঁকি মূল্যায়ন ও লক্ষ্যভিত্তিক প্রতিরোধ কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্র এবং কমিউনিটি পর্যায়ে নারী-কেন্দ্রিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা উচিত।

সমাজে প্রচলিত কিছু ভ্রান্ত ধারণা, যেমন ইয়াবা গ্রহণে ওজন কমে, সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায় বা কর্মক্ষমতা বাড়ে অনেক তরুণীকে মাদকের প্রতি আকৃষ্ট করছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ভিত্তিক কিছু কনটেন্টে মাদক, পার্টি সংস্কৃতি ও ঝুঁকিপূর্ণ জীবনধারাকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা হয়, যা কৌতূহল ও পরীক্ষামূলক মাদক ব্যবহারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে সৌন্দর্য, শারীরিক গঠন ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে উদ্বিগ্ন তরুণীরা এ ধরনের বার্তার প্রতি তুলনামূলকভাবে বেশি সংবেদনশীল হতে পারেন।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগকে কিছু ক্ষেত্রে মাদক ব্যবসায়ী চক্র অপব্যবহার করে তরুণীদের মাদক গ্রহণে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। তবে টিকটক, রিলস বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে মাদকাসক্তির সরাসরি কারণ হিসেবে নয়; বরং পারিবারিক, সামাজিক ও মানসিক ঝুঁকির সঙ্গে মিলিত একটি সহায়ক প্রভাবক হিসেবে বিবেচনা করা অধিকতর যৌক্তিক।

নারীদের মাদক গ্রহণের পেছনে পারিবারিক অস্থিরতা, বাবা-মা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের মাদক গ্রহণের অভ্যাস, মানসিক চাপ, বৈবাহিক দ্বন্দ্ব, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, হতাশা এবং নেতিবাচক সামাজিক প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বন্ধু মহলের প্রভাব এবং মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতাও এ প্রবণতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। অনেক ক্ষেত্রে মাদক ব্যবসায়ী চক্র কৌশলে তরুণীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে প্রথমে বিনামূল্যে মাদক সরবরাহ করে। পরবর্তীতে আসক্তি তৈরি হলে তাদের বিভিন্নভাবে শোষণ করা হয় এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে ফেলা হয়। চিকিৎসা নিতে আসা অনেক নারী রোগীর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তারা অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের শিকার হয়েছেন এবং নিজেরাও আগে থেকে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ছিলেন না।

বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্র ও ডিজে ক্লাবকেন্দ্রিক সংস্কৃতির মাধ্যমেও কিছু নারী মাদক গ্রহণে উৎসাহিত হচ্ছেন। বর্তমানে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত—সব শ্রেণির নারীর মধ্যেই মাদকাসক্তির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবে উচ্চবিত্ত পরিবারের নারীরা তুলনামূলকভাবে চিকিৎসা গ্রহণে এগিয়ে এলেও মধ্য ও নিম্নবিত্ত পরিবারের অনেক নারী সামাজিক সংকোচ ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে চিকিৎসা নিতে অনীহা প্রকাশ করেন। ফলে প্রকৃত চিত্রের বড় একটি অংশ এখনও আড়ালে রয়ে গেছে।

বিদ্যমান নারী মাদকাসক্তদের চিকিৎসায় সেবার সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যেমন, দেশের অধিকাংশ নারী মাদকাসক্তের জন্য নিজ এলাকায় চিকিৎসা সেবা পাওয়া কঠিন। অধিকাংশ বিশেষায়িত সেবা ঢাকা-কেন্দ্রিক হওয়ায় দূরবর্তী অঞ্চলের নারীরা চিকিৎসা গ্রহণে সমস্যার সম্মুখীন হন। বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে নারী মাদকাসক্তিকে অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে দেখা হয়। ফলে অনেক পরিবার বিষয়টি গোপন রাখে এবং চিকিৎসার উদ্যোগ নেয় না। নারী মাদকাসক্তদের জন্য প্রয়োজনীয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, ট্রমা কাউন্সেলিং এবং লিঙ্গ-সংবেদনশীল চিকিৎসা প্রদানকারী দক্ষ জনবলের সংখ্যা এখনও সীমিত। চিকিৎসা শেষে সমাজে পুনঃএকীভূত হওয়ার জন্য কর্মসংস্থান, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা এবং পরিবারভিত্তিক সহায়তার ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রেই অপর্যাপ্ত।

নারী মাদকাসক্তদের চিকিৎসায় বিশেষ চ্যালেঞ্জ: নারীদের ক্ষেত্রে মাদকাসক্তি প্রায়ই পারিবারিক সহিংসতা, মানসিক আঘাত, যৌন নির্যাতন, বিষন্নতা এবং সামাজিক বঞ্চনার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। ফলে তাদের চিকিৎসা শুধুমাত্র মাদক নির্ভরতা দূর করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা এবং পুনর্বাসনকে সমন্বিতভাবে বিবেচনা করতে হয়। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, একক মা এবং পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য পৃথক সহায়তা কাঠামো প্রয়োজন।

নারী মাদকসেবীদের ক্ষেত্রে ঝজঐজ (ঝবীঁধষ ধহফ জবঢ়ৎড়ফঁপঃরাব ঐবধষঃয ধহফ জরমযঃং) সেবার ওপর প্রভাব: নারী মাদকসেবীদের ক্ষেত্রে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার (ঝজঐজ) সম্পর্কিত সেবা গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। মাদকাসক্তির কারণে অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং পরিবার পরিকল্পনা, মাতৃস্বাস্থ্য, নিরাপদ গর্ভধারণ, প্রসবপূর্ব ও প্রসব-পরবর্তী সেবা, যৌনবাহিত সংক্রমণ (ঝঞও), এইচআইভি পরীক্ষা ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হন। অনেক ক্ষেত্রে মাদক গ্রহণের ফলে ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ, অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক, অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণ এবং যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক কলঙ্ক, বৈষম্য, আত্মগোপনের প্রবণতা এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নারীবান্ধব ও লিঙ্গ-সংবেদনশীল সেবার সীমাবদ্ধতার কারণে নারী মাদকসেবীরা প্রয়োজনীয় ঝজঐজ সেবা গ্রহণে নানা বাধার সম্মুখীন হন। অনেক নারী মাদকসেবী প্রজনন স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জটিলতা থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসা গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেন অথবা সেবা গ্রহণের সুযোগ পান না। ফলে তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্যও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

এ কারণে নারী মাদকসেবীদের জন্য মাদকাসক্তি চিকিৎসা কার্যক্রমের সঙ্গে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা, পরিবার পরিকল্পনা, এইচআইভি ও ঝঞও প্রতিরোধ ও চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা মোকাবিলা সংক্রান্ত সেবাগুলোকে সমন্বিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। একটি সমন্বিত ও অধিকারভিত্তিক সেবা কাঠামো নারী মাদকসেবীদের সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনে ফিরে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

প্রতিরোধে যা জরুরি: বিভাগীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র, রাজশাহীর কনসালটেন্ট ডা. শেখ রবিউল আখতারের মতে, বাংলাদেশে নারী মাদকসেবীদের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, নারী মাদকসেবীরা কেবল মাদকাসক্তির স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির মুখোমুখি হন না, বরং সামাজিক কলঙ্ক, পারিবারিক প্রত্যাখ্যান, মানসিক আঘাত, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং অর্থনৈতিক অনিরাপত্তার মতো বহুমাত্রিক সমস্যাও তাদের জীবনকে জটিল করে তোলে। ফলে তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয়তা পুরুষদের তুলনায় অনেক ক্ষেত্রেই অধিকতর সংবেদনশীল ও বহুমাত্রিক।

তিনি বলেন, দেশে নারী মাদকাসক্তদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এবং পুনর্বাসন সুবিধার পরিধি এখনও প্রয়োজনের তুলনায় সীমিত। অনেক নারী সামাজিক লজ্জা, পারিবারিক সংকোচ এবং চিকিৎসা সুবিধার অপ্রতুলতার কারণে সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন না। এর ফলে তারা দীর্ঘদিন চিকিৎসার বাইরে থেকে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে আরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছে যান।

তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নারী মাদকসেবীদের চিকিৎসা কেবল মাদক নির্ভরতা দূর করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, ট্রমা কাউন্সেলিং, পারিবারিক পুনর্মিলন, সামাজিক পুনর্বাসন এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোও সমানভাবে যুক্ত। তাই নারী মাদকাসক্তদের জন্য একটি সমন্বিত পুনর্বাসন কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে তারা চিকিৎসা শেষে স্বাভাবিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনে ফিরে যেতে পারেন।

সব শেষে বলা যায়: নারীদের মধ্যে মাদকাসক্তির ক্রমবর্ধমান প্রবণতা শুধু একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক, পারিবারিক এবং জাতীয় সংকট। নারী মাদকাসক্তির সমস্যা ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে, কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবার সুযোগ এখনও সীমিত। এই সমস্যা মোকাবিলায় পরিবার, সমাজ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানসমূহকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে নারী মাদকাসক্তদের প্রতি সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তুলে তাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। সচেতনতা, প্রতিরোধ এবং সহজলভ্য চিকিৎসা সেবার সমন্বিত প্রয়াসই পারে একটি সুস্থ, নিরাপদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ে তুলতে।

এস.এম আব্দুল্লাহ আল রেজা
প্রোগ্রাম ম্যানেজার আপস

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin