সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৭ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময় রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩ আরডিএ এর ১৫৭ দোকান গায়েব করে বানিয়েছেন সুবিশাল ফার্নিচার শোরুম শফিকুল আউয়াল খান

নিজ সম্পত্তি ও প্রান রক্ষায় রাজশাহীতে এক ভূক্তভোগি পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

  • প্রকাশ সময় সোমবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৫
  • ৩০১ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরীর হেতম খাঁ এলাকায় চুরি,ভাঙ্গচুর, জোরপূর্বক সম্পত্তি দখলের পাঁয়তারা, হত্যার হুমকী ও প্রতিনিয়ত বিভিন্ন মিডিয়াতে মিথ্যা ও বানোয়াট প্রতিবেদন প্রকাশের প্রতিবাদে এবং আসামীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার রাজশাহী সিটি প্রেসক্লাবে ভুক্তাভোগি পরিবারের আয়োজনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাসুদুর রহমান। তিনি উল্লেখ করেন পৈত্রিক সম্পত্তিতে বংশ পরমপরায় বসবাস করে আসছেন। তারা তিন ভাই ও পাঁচ বোন। বাবার মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে সকল সম্পত্তি সবার মধ্যে ভাগবাটোয়ারা হয়। কিন্তু হঠাৎ করের তাদের সবার ছোট ভাই মতিউর রহমান নিঃসন্তান অবস্থায় মৃত্যবরণ করলে তাঁর ত্যাক্ত সম্পত্তিতে আবারও তারসবাই অংশিদার হন। এর মধ্যে থেকে তার দুই বোন শিরিন আকতার ও সখিনার অংশের ২২৯০ দাগে ০.০০৫৭৬২ একর সম্পত্তি তাদের অগোচরে ১নং আসামী টনি গোপনে ক্রয় করেন। এই সম্পত্তি উদ্ধারে রাজশাহী সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত রাজশাহীতে ০৯/২০২৩ অঃ প্রঃ (অগ্রক্রয়) মামলা করা হয়। যাহা বর্তমানে চলমান রয়েছে।

তিনি আরো উল্লেখ করেন অত্র সম্পত্তি ফেরত পাওয়ার জন্য ১৭ জানুয়ারী ২০২৩ সালে আদালতে ২৩লক্ষ ১০হাজার টাকা জমা প্রদান করেন তিনি। মামলা নিস্পত্তি না হওয়ায় টাকাগুলো আদালতে রয়েছে। ঐ সম্পত্তির মোট মূল্য নির্ধারণ হয় আট লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। টনি এর মধ্যে বায়না বাবদ চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করে দলিল করেন। আঠারো দিন পরে একই সম্পত্তি বাবদ পুণরায় আরেকটি দলিল করেন। সেখানে একই সম্পত্তির মূল্য ২২ লক্ষ টাকা। যাতে করে আমি ঐ সম্পত্তি ক্রয় করতে না পারি।

তিনি আরো উল্লেখ করেন নিজেদের সম্পত্তি বিক্রি করার পূর্বে তার নিকটতম আত্মীয়স্বজনকে জানানোর আইন রয়েছে। কিন্তু তাদের বোনদ্বয় তাদের কিছুই জানায়নি। বিক্রিত সম্পত্তির মূল হকদার তিনি এবং তার ভাই। তারা যদি ঐ সম্পত্তি ক্রয় করতে অপারগতা প্রকাশ করতেন তাহলেই বোনরা অন্যদের নিকট জমি বিক্রয় করলে কোন প্রকার আপত্তি থাকতো না। প্রৃকত পক্ষে যে সম্পত্তি টনি ক্রয় করেছে তা তাদের বাড়ির ভিটা। ঐ সম্পত্তিতে অন্য কেউ আসলে তারা বসবাস করতে পারবেনা।

তিনি বলেন, ২০২২ সালের ৩০ মে টনি তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে তার বাড়িতে দেশীয় অস্ত্রসহ হামলা করে, গেট ভাঙ্গচুর করে। সেইসাথে বাড়ির গেটের তালা ভেঙ্গে ফেলে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। সেইসাথে প্রান নাশের হুমকী দিতে থাকে। এ সময়ে ঢাকা থাকায় তার স্ত্রী ফারজানা মল্লিক ৯৯৯ এর কল করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন। টনি মূলত একজন সন্ত্রাসী ব্যক্তি। তিনি বলেন, তাদের কোন সন্তানাদি না থাকায় টনি গংরা তাদেরকে হত্যা করে সমস্ত সম্পত্তি গ্রাস করার জন্য টনিরা পাঁয়তারা করছে। টনি গংরা শুধু সন্ত্রাসীই নয়, তারা ভূমি দস্যু ও দখলবাজ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এনিয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় গিয়ে তার স্ত্রী টনি এবং অজ্ঞাত আরো বেশ কিছু সন্ত্রাসীর নামে অভিযোগ দায়ের করেন। এতে টনি আরো ক্ষীপ্ত হয়ে ৩ জুন ২০২২ইং তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সঙ্গে অজ্ঞাত আরো ৪ থেকে ৫জনকে নিয়ে আমার বাড়িতে এবং থানায় গিয়ে অভিযোগ তুলে নিতে বলে। না হলে প্রান নাশের হুমকি দেয় টনি গংরা। এ নিয়ে তার স্ত্রী ফারজানা মল্লিক পুণরায় বোয়ালিয়া থানায় গিয়ে সাধারণ ডায়েরী করেন। যার নম্বর-২১০।

মাসুদুর রহমান আরো উল্লেখ করেন ২২৯০/২২৯১ দাগে টনি, হামিম ও রায়হানসহ আরো অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে নিয়ে তার গোডাউনে প্রবেশ করে গোডাউনের সাটার ও পাকা দেয়াল ভেঙ্গে আনুমানিক পঞ্চাশ হাজার টাকার ক্ষতি করে। এ গুলো যেন ডকুমেন্ট হিসেবে রাখতে না পারি, সেজন্য আমার গোডাউনের সিসি ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলে এবং খুলে নিয়ে যায়। শুধু তাইনয় টনি, হামিম ও রায়হানসহ আগত সকল আসামীদেরকে গোডাউনে থাকা সমস্ত মালামাল বাহির করে নিয়ে যাওয়ার হুকুম দেন। হুকুম পাওয়ার পরে আসামীরা তার গোডাউন থেকে পঞ্চাশ সেফটি কাঠ, লোহার জানালা ও গ্রীল আঠারোটি, লোহার বুক সেলপ, কাঠের দড়জা, লোহার দড়জাসহ আরো আনুসাঙ্গিক অন্যান্য দ্রব্যাদি যার সর্বোমোট মূল্য তিন লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা। এই মালামাল গুলো জোরপূর্বক বের নিয়ে যায়। আসামীরা যাওয়ার সময়ে তাকে এবং তার পরিবারকে প্রান নাশের হুমকী দেয়। শুধু তাইনয় টনি গংরা এখনো তাদের মুঠোফোনসহ বিভিন্ন ভাবে হুমকী প্রদান অব্যাহত রেখেছে।

এই সকল মালামাল উদ্ধার ও প্রান নাশের হুমকীর প্রতিবাদে ১নং আসামী টনি(৪৫), পিতা- ও ২নং হামীম(৪০) উভয়ের পিতা-মৃত সাইফুল ইসলাম, রায়হান( ৩৫) পিতা- মৃত সাইদুল ইসলাম, সর্ব সাং- হেতম খাঁ, বোয়ালিয়া, রাজশাহীসহ আরো অজ্ঞাত চার থেকে পাঁচজনকে আসামী করে বোয়ালিয়া থানায় মামলা করা হয়। এই মামলায় টনি বাদে অন্যান্য আসামীরা বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। টনি ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতা হত্যা মামলায় এখন জেল হাজতে রয়েছে। এছাড়া আমাদের দায়ের করা মামলায় টনিকে শোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে। মামলার পরে বোয়ালিয়া থানা পুলিশ তদন্ত করে একটি সাটার গেটের ফ্রেম আসামী টনির বর্নালী ছাত্রাবাস থেকে উদ্ধার করেন। তারা এখনো প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকী পাচ্ছে। প্রানভয়ে তারা দিনাদিপাত করছেন। আসামীদেও দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবী জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন মাসুদুর রহমান সহধর্মীনি ফারজানা মল্লিক।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin