নিজস্ব প্রতিবেদক: ভোটবিহিন সরকারের আমলে বিএনপি কোন নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে না। নির্দলীয় তত্ববধায়ক সরকার গঠন, বিএনপি চেয়ারপার্সন, তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, আগামীর রাষ্ট্রনায়ক তারুন্যের অহংকার বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং তাঁকে দেশে নিয়ে আশার জন্য আগামী ২০২২ সালের মধ্যে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
আর এই আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে সরকারের পতন ঘটানো হবে বলে আজ সোমবার দিনব্যাপি রাজশাহী বিভাগের জেলা ভিত্তিক বিএনপি’র সাংগঠনিক পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রেস ব্রিফিং এর সময়ে এই কথা বলেন। আর এ লক্ষে এই সালের ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে সকল জেলা, থানা, ইউনিয়ন, উপজেলা ও পৌরসভার ইউনিটের কমিটি গঠন শেষ করা হবে বলে জানান তিনি।
দুলু বলেন, করোনা মহামারীর জন্য বিএনপি’র সাংগঠনিক কার্যক্রমে সামান্য স্থবিরতা এসেছিলো। কারন করোনায় বিশ্বব্যাপি সকল কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছিলো। আর এই করোনার সময় সরকার কি করেছে তা জনগণ জানে। আর বিএনপি সরকারে না থেকেও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে অসহায় ও করোনায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে দাঁডিয়েছে। এই রাতের অন্ধকারের সরকার বিএনপিকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে দিচ্ছেনা। মাঠে নামতে চাইলে তাদের জীবনে ভয় ধরে যায়। কারন বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। বিএনপি জনগণেল কথা বলে এবং দেশের উন্নয়ন করে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি সাম্প্রদায়িকতা পছন্দ করেনা। কারন বিএনপি’র আমলে ১৯৯১ সালে ভারত সরকার বাবরী মসজিদ ভাঙ্গলেও বাংলাদেশে সে সময়ে কোন মন্দির ভাঙ্গা হয়নি। বিএনপি নেতৃবৃন্দ রাতের পর রাত, দিনের পর দিন পাহারা দিয়েছে। আর বর্তমান সরকার তাদের দূর্নীতি, নির্যাতন, দেশ পরিচালনায় ব্যর্থ হয়ে জনগনের ধ্যান ধারনা অন্যদিকে ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য দূর্গাপুজার সময় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের দেবতার পায়ের নিচে কোরআান শরীফ রেখে দিয়ে এখন বিএনপি’র ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। প্রকৃত পক্ষে এই কাজ সরকার দলীয় লোকজন করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দুলু আরো বলেন, ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের পূর্বের রাতেই ভোট গ্রহন শেষ হয়েছিলো। নির্বাচনের দিন কিছু লোক দেখানো ভোট গ্রহন করা হয়। কিন্তু আসছে সংসদ নির্বাচনে সেটি আর হতে দেয়া হবেনা। কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে নির্বাচনী সকল দাবী, বেগম জিয়ার মুক্তি ও গণতন্ত্র পুণরুদ্ধার করা হবে। আর এই আন্দোলনে যারা পদে থেকে আসবেনা এবং বিএনপি’র কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহন করবেনা, সে সব নেতার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। সেইসাথে ত্যাগি ও তারুন্যে ভরা নেতৃবৃন্দদের কমিটি অন্তর্ভূক্ত করা হবে। আর এই সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে আগামীতে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলে এই সরকারের পতন ঘঠানো হবে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।
সভাপতির বক্তব্যে বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত বলেন, বিএনপি একটি ডেমোক্রেটিক দল। এই দল কখনো কারো অন্যায় বা ক্ষতি করেনি। ভবিষ্যতে করবেনা। কিন্তু দেশের কোথাও খারাপ কিছু হলে সাথে সাথে বিএনপিকে দোষারোপ করা হয়। এই দোষারোপ দোষারোপ নাটক জনগণ বুঝে গেছে। একের পর এক অন্যায়, দুর্নীতি, খুন, গুম, অর্থ লোপাট ও গণতন্ত্রকে ধ্বংশ করার জন্য তারা জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। এজন্যই সরকার এখন পাগলের প্রলাপ বকতে শুরু করেছে বলে জানান তিনি। সভায় উপস্থিত সকল নেতৃবৃন্দদের নিজ নিজ জেলা সুসংগঠিত করার আহবান জানান সভাপতি।
এসময়ে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপি’র আহবায়ক আবু সাঈদ চাঁদ, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমটির সদস্য ও জেরা বিএনপি’র সদস্য যুগ্ম আহবায়ক সাইফুল ইসলাম মার্শাল, সদস্য সচিব অধ্যাপক বিশ্বানাথ সরকারসহ রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলা বিএনপি’র সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।