নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পবা উপজেলার বড়গাছিতে কৃষকদের সাথে ‘খামারী’ অ্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে সুষম সার প্রয়োগ বিষয়ক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় ফসলের জমিতে মাটি পরীক্ষা, ধান গবেষণা কর্তৃক প্রকাশিত গাইডলাইন, ‘খামারী’ অ্যাপ, এসআরডিআই সার সুপারিশমালা ব্যবহার এবং সুষম সার প্রয়োগের মাধ্যমে চাষাবাদ বিষয়ে কৃষকদের বিস্তারিত জানানো হয়। এদিন বস্তায় আদাচাষ, পুষ্টিবাগানসহ উপজেলার বিভিন্ন প্রদর্শণী পরিদর্শন করেন অতিথিবৃন্দ।
সোমবার বেলা ১১ টায় বড়গাছি ইউনিয়নের দাদপুরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ উম্মে ছালমা। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) কৃষিবিদ ড. আব্দুল মজিদ, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান।
কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ আব্দুর রাজ্জাক এর সঞ্চালনায় এসময় অতিরিক্ত কৃষি অফিসার কৃষিবিদ তন্ময় কুমার সরকার, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ রায়হান উদ্দিন, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ অফিসার হাফিজুর রহমান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সালাউদ্দিন আল মামুন ও আনিকা শারিমন স্বপ্না সহ কৃষক ও কৃষানীগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় প্রধান অতিথি বলেন, কৃষকদের উন্নত ফসল চাষাবাদ ও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিতকরণে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সবসময় কৃষকদের পাশে থেকে পরামর্শ ও সহযোগিতা করে আসছে। মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রযুক্তি নির্ভর স্মার্ট কৃষি সেবা ও ফসল উৎপাদন পরামর্শক হিসাবে কাজ করছে ‘খামারি’ অ্যাপ। কৃষক নিজ জমিতে দাঁড়িয়ে ‘খামারি’ অ্যাপ এর মাধ্যমে মোবাইলে তাৎক্ষনিকভাবে জমির জন্য উপযোগি ফসল চাষাবাদ, সার ও বালাইনাশ্ক প্রয়াগের সুপারিশসহ অন্যান্য তথ্য সহজেই জানতে পারবে। সেই ফসলের জন্য সুপারিশকৃত সার প্রয়োগ করা হলে মাটির স্বাস্থ্য ভাল থাকবে, ফসলে রোগবালাই কম হবে, উৎপাদন বহুগুণ বাড়বে, কৃষক আর্থিকভাবে লাভবান হবে এবং খাদ্য নিরাপত্তাও নিশ্চিত হবে।
বড়গাছী ইউনিয়নের দাদপুর এলাকার কৃষক সুমন আলী বলেন, ‘লেখাপাড়া শেষ করে চাকুরীর পিছে না ছুটে কৃষি কাজে জড়িত হয়। উপসহকারী কৃৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে ‘খামারি’ অ্যাপ বিষয়ে জানতে পারি। তারপর এটি গুগল প্লে-স্টোর থেকে মোবাইলে ডাউনলোড করেছি। দুই বছর থেকে ‘খামারি’ অ্যাপসের নির্দেশনা মেনে চাষাবাদ করি। এবার চার বিঘা জমিতে ধান রোপণ করবো। পোকামাকড় কম লাগে, রোগবালাই কম হয়, ফলন ভাল হয়। ইউরিয়া, ডিএপি, টিএসপি, এমওপি এবং জিপসাম সার ব্যবহার প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় ফসলের জমিতে কম লাগে ফলে সার খরচ সাশ্রয় হয়।
একই এলাকার কৃষক ফায়জুর রহমান বলেন, ‘খামারি’ অ্যাপসের নিয়ম মেনে সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার করে দুই বিঘা জমিতে ধান রোপন করেছি। কখন কি ফসল চাষ করতে হবে, জমিতে কতটুকু সার দিতে হবে সবকিছু সহজে জানা যায়। ‘খামারি’ অ্যাপের নির্দেশনা মেনে করলা, মরিচ, কপি, পেঁয়াজসহ সব ধরণের আবাদ চাষাবাদ করি।