নিজস্ব প্রতিবেদক: তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধাকে গ্রাম অঞ্চলের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিয়ে তরুণ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে পবা উপজেলার পারিলা ইউনিয়নে চালু হলো ‘ইউনিয়ন কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’। শুক্রবার সকালে পারিলা ইউনিয়ন পরিষদে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান।
হড়গ্রাম ও দর্শনপাড়া ইউনিয়নের সাফল্যের পর এবার পারিলা ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই কেন্দ্র স্থাপন করা হলো। এর মাধ্যমে গ্রামের শিক্ষার্থীরা নামমাত্র খরচে কম্পিউটার এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক আধুনিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবে।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন,“বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তিকে জানতে হবে। ডিজিটাল দক্ষতা ছাড়া এখন কোনো তরুণই নিজের জায়গা করে নিতে পারবে না। গ্রামের তরুণদের প্রযুক্তি জ্ঞান দিয়ে গড়ে তোলার জন্য ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তিনি আরও বলেন,“এই কেন্দ্রের মাধ্যমে স্থানীয় তরুণ-তরুণীরা সরকারি-বেসরকারি চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় ডিজিটাল দক্ষতা অর্জন করবে। এমনকি প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে। একে শুধু একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে না দেখে, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের মূলভিত্তি হিসেবে দেখার সময় এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন,“বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবে। এটি শুধু পারিলা নয়, ভবিষ্যতে রাজশাহীর প্রতিটি ইউনিয়নে এ ধরনের প্রযুক্তি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রচেষ্টা থাকবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরাফাত আমান আজিজ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আবু বাশির এবং পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আলী মোর্শেদ, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব আলামিন ও স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতা হাফেজ নূরুজ্জামান। মোনাজাত পরিচালনা করেন- জামায়াতে ইসলামীর পবা থানার আমির আজম আলী।
পারিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আলী মোর্শেদ বলেন,এই ইউনিয়নের শিক্ষার্থীরা যেন পিছিয়ে না পড়ে, সেই চিন্তা থেকেই তাঁরা এই প্রকল্পে সর্বাত্মক সহায়তা করেছেন। ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনে করেন, এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। তাঁদের ছেলেমেয়েরা যেন শহরের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে, সে পরিবেশ তৈরি করতেই এই পদক্ষেপ।
প্রশিক্ষণ শেষে যারা ভালো করবে, তাদেরকে স্বীকৃতি বা ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার পথও তৈরি করার কথা ভাবছেন। ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে এই কেন্দ্রকে টিকিয়ে রাখতে এবং সম্প্রসারণে যা যা প্রয়োজন তা তাঁরা করবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।