নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের রাকসু’র ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে ছাত্রদলের অবস্থান কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা, হাতাহাতি, স্যান্ডেল ছোঁড়াছুঁড়ি ও মাইক ভাঙ্গচুরের ঘটনা ঘটেছে। আসন্ন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে রাকসু কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন রাবি শাখা ছাত্রদল। অন্য দিকে ছাত্রশিবির ও শিক্ষার্থীরাও সেখানে অবস্থান নেয়।
শনিবার সকাল ৯টা থেকে রাকসু’র কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামনে এই কর্মসূচি শুরু করে সংগঠনটি। এসময় তাঁরা ‘জিয়ার সৈনিক, এক হও লড়াই করো’, ‘প্রথমবর্ষের ভোটাধিকার, ছাত্রদলের অঙ্গিকার’, ‘রাকসু আমার অধিকার, তুমি কে বাদ দেওয়ার’, ‘ছাত্রদলের অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘প্রথম বর্ষের ভোটাধিকার, দিতে হবে দিতে হবে’, ‘রাকসু ফি দিয়েছি, ভোটার হতে চেয়েছি’, ‘ডাকসু-রাকসু নির্বাচনে, প্রথমবর্ষ ভোট দিবে’, ‘প্রথমবর্ষের ভোটাধিকার, ফকির কে কেড়ে নেওয়ার’, ‘প্রথম বর্ষের ভোটাধিকার, নকিব কে কেড়ে নেওয়ার’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে নেতাকর্মীরা বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-রাকসু নির্বাচনে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করার শামিল। আমরা চাই নির্বাচন কমিশন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে সকলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেবে। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের এই দাবি মেনে না নেওয়া হবে ততক্ষণ পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাকসু কোষাধ্যক্ষ প্রফেসর সেতাউর রহমান বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কোষাধ্যক্ষের কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। চেয়ার-টেবিল ভাঙ্গচুর করেছে। তারা ভায়োলেন্স ঘটানোর চেষ্টা করছে। প্রশাসনকে অবহিত করেছি। এ বিষয়ে তারা ব্যবস্থা নিবে। আজ মনোনয়ন ফরম বিতরণের শেষ দিন, তারা এমন করলে হয়তো মনোনয়ন ফরম বিতরণে সমস্যা সৃষ্টি হবে।
ছাত্রদলের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির ও রাবি শাখার সদস্য অধ্যাপক এ নাঈম ফারুকি, সহ- প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক আতাউর রহমান, রাবি শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বাবু, সিনিয়র সহ-সভাপতি খালেকুজ্জামান মিজান, সদস্য অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন অংশগ্রহণ করেন। তাদের দাবি না মানা হলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ।
এদিকে ভাঙ্গচুর ও উত্তেজনা নিয়ে তাৎক্ষনিক সংবাদ সম্মেলন করেন রাবি ছাত্রদল শাখা। এ সময়ে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, তারা কোনো ভাঙচুর করেননি। টেবিলটা শুধু সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দুই মাস ধরে তার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার দাবী করে আসছে। কিন্তু জামায়াত-শিবির তাদের উপরে হামলা করেছে। ছাত্রীদের লাঞ্ছিত করেছে। এছাড়াও পুজার মধ্যে নির্বাচন দেয়ার ষড়যন্ত্র করেছে। এতে করে হিন্দু শিক্ষার্থীরা ভোট প্রদান করতে পারবেন না। প্রকৃত পক্ষে রাবি প্রশাসন জামায়াত শিবিরের হাতে রাবিকে তুলে দেয়ার গভীর ষড়যন্ত্র করছে। কিন্তু এটা হতে দেয়া হবেনা। তারা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পতদ্যাগ দাবী করেন। সেইসাথে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাঠ তৈরী করার দাবী জানানো হয় সংবাদ সম্মেলন থেকে। সেইসাথে তাদের দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন এবং হামলার বিচার দাবী জানান।
এসময় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ, জান্নাতুল নাঈম তুহিনা, আহসান হাবিব, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক, এম তাহের রহমান, জাহিন বিশ্বাস এষাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অর্ধ-শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এবিষয়ে রাকসু নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক এফ. নজরুল ইসলাম বলেন, যখন রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছিল, তখন বর্তমানে প্রথম বর্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন না। এখন আর তাদের ভোটার করার সুযোগ নাই। তাঁরা আগামী নির্বাচনে ভোটাধিকার পাবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।