নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সরকারী গাড়ী চালক সমিতি রাজশাহী জেলা শাখার বিদ্রোহী কমিটি গঠনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৪ ইং তারিখ বুধবার অত্র সমিতির আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলমের আহ্বানে সন্ধ্যা ৬টায় সময় রাজশাহী জেলা প্রশাসক গাড়ীচালকদের কক্ষে এক জরুরী সভার আয়োজন করা হয়। এই সভায় বাংলাদেশ সরকারী গাড়ী চালক সমিতি রাজশাহী জেলা শাখার সতের সদস্য বিশিষ্ট একটি পূর্নাঙ্গ কমিটি করা হয়। বিষয়টি জানান কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক অনুমোদিত বৈধ কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন।
এই কমিটিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গাড়ী চালক সাইফুল ইসলাকে সভাপতি, পরিচালক স্বাস্থ্য কার্যালয়ের গাড়ী চালক ফজলুল হককে সহ-সভাপতি ও আই,এইচ,টি রাজশাহীর গাড়ী চালক সিরাজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে এই কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটিকে অত্র সমিতির অন্যান্য সদস্যরা কেন্দ্র থেকে পাস করনোর কথা বললেও আহ্বায়ক রাশেদুল,সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলাম কেন্দ্র থেকে এই কমিটি পাস করাবেন না বলে জানিয়ে দেন। তারা বলেন কেন্দ্রে যে কমিটি রয়েছে সে কমিটি বৈধ নয়। ঐ অবৈধ কমিটিকে তারা মানেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এনিয়ে সদস্যদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়।
এটা নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গাড়ী চালকদের কক্ষে বেশ কয়েকবার বসে সবাই অত্র কমিটি অনুমতি করনোর জন্য আবারও বললে তারা ঐ কমিটি অনুমোদন না করিয়ে শেষ সভায় কমিটি বিলুপ্তি ঘোষনা করেন। এরপর সমিতির বিভিন্ন অধিদপ্তরের সদস্যরা মিলে কাস্টম্স এর গাড়ি চালক শফিকুল ইসলামকে সভাপতি, বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়ের গাড়ী চালক শামছুল আলম রিপনকে সহ-সভাপতি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গাড়ি চালক সাজ্জাদ হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক করে মোট পনের সদস্য বিশিষ্ট পুর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষনা করেন। সেইসাথে অত্র কমিটিকে ২৪ মার্চ ২০২৫ ইং তারিখ কেন্দ্র থেকে অনুমোদন করিয়ে নেন বলে জানান।
তারা আরো বলেন, অনুমোদিত কমিটি দেখে পূর্বের বাতিলকৃত কমিটি ৯ জুলাই ২০২৫ ইং তারিখ বশির উদ্দিন আহ্বায়ক হিসেবে পুণরায় কমিটি গঠনের লক্ষে আবার সভা ডাকেন। সেই সভায় আরেকটি কমিটি করার কথা বললে বর্তমান কমিটির সদস্য ও অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে থেকে বাছাই করে সম্মিলিতভাবে আরেকটি নতুন কমিটি করার কথা বললে বশির উদ্দিন তা প্রত্যাখান করে আওয়ামী দোসরদের নিয়ে তিনি আরেকটি কমিটি গঠন করেন। যে কমিটির কোন অনুমোদন নেই। এই কমিটি নিয়ে তারা বিশৃংখলা করছে। অনুমোদিত কমিটি এই অবৈধ কমিটির কোন কার্যক্রম মেনে নেবেনা উল্লেখ করে ঐ কমিটির সকল কার্যক্রম বন্ধ এবং কমিটি ভেঙ্গে দেয়ার জন্য কেন্দ্রের নিকট অনুরোধ করেন তারা।
তারা আরো বলেন, বিদ্রোহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ইতোপূর্বে প্রায় চার লক্ষ টাকা আত্মস্বাৎ কছেন বলে সভাপতি জানান। রেলওয়ে মার্কেটে ঘর করলে সেই ঘর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ভেঙ্গে দিলে সেখানে থাকা আসবাবপত্রসহ নানা ধরনের জিনিসপত্র নিজে বিক্রি করে দেন বলে জানান তিনি।
অবৈধ কমিটি সম্পর্কে জানতে বশির উদ্দিনকে দিনের দুই সময়ে দুইবার মোবাইলে কল করা হয়। প্রথমবার বিকেলে কল করলে তিনি বলেন এখন তিনি গুরুদাসপুরে গাড়ি চালাচ্ছেন। রাতে কথা হবে। আরেকবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মোবাইলে আবারও কল করা হলে তিনি গাড়ী চালানোর কথা বলে, প্রতিবেদকের সাথে কথা বলার সময় নাই বলে জানান বশির উদ্দিন।