নিজস্ব প্রতিবেদক: নানা আয়োজনে মধ্যে দিয়ে বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করা হয়। তারই অংশ হিসেবে শুক্রবার বিকেলে রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র আয়োজনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল হুদা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা।
যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম শাফিক এর সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ওয়ালিউল হক রানা, জয়নাল আবেদিন শিবলী, বজলুল হক মন্টু, সদস্য রিতা, জরিনা ও রোজিনা, রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মাহফুজুর রহমান রিটন, তাঁতীদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আরিফুল শেখ বনি, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি আসাদুজ্জামান জনি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আকবর আলী জ্যাকি সহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মী।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়েছিলেন এবং নিজে সম্মুখ যুদ্ধ করেছিলেন সেইসাথে যুদ্ধে দেশের আপামর জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন বলে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো। তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন বলে শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে পেরেছিলেন। বাংলাদেশে কৃষির উন্নয়নে খাল খনন কর্মসূচীসহ সেচ এর জন্য নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহন করায় কৃষিতে বিপ্লল ঘটেছিলো। এছাড়াও কৃষিতে তাঁর অন্যান্য পরিকল্পনা এখনো বাস্তবায়ন হচ্ছে।
শুধু তাইনয় নয়া বাংলাদেশকে যখন অন্যান্য রাষ্ট্র স্বীকৃতি দিচ্ছিলনা তখন তিনি বিশ্বের পরাশক্তি দেশ গুলো সাথে কুননৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলে স্বীকৃতি আদায় করেন। অতি অল্প সময়ে তিনি বিশ্বনেতাতে পরিনত হন। সেইসাথে যুদ্ধবিধস্থ একটি দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যান এবং দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনেন বলে উল্লেখ করেন প্রধান অতিথি।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে এখন গণতন্ত্র হত্যা হয়েছে। কায়েম হয়ে বাকশাল। দেশে এখন কারো স্বাধীনতা নাই। মানুষ তার নিজস্ব মতামত দিতে পারছেনা। সাংবাদিকরা লিখতে পারছেনা সঠিক কথা। সব কিছুতে এই ফ্যাসিস্ট সরকার লাগাম টেনে রেখেছে। ক্ষমতায় থাকার জন্য দেশের প্রশাসনযন্ত্র ও আইনশৃংখলা বাহিনীকে কোটি কোটি উদ্বৃত্ত দিয়ে নিজেদের করে রেখেছে। তাদের দিয়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্যাতন, খুন, গুম ও মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসিয়ে দিচ্ছে। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে পুলিশ গুলি করে নির্বিচারে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীদের হত্যা করছে।
প্রধান অতিথি বলেন, শুধু তাই নয় নিজেদের চাহিদা পুরন করতে এই বিনা ভোটের সরকার জ্বালানী ও ভোজ্যতেলসহ সকল প্রকার নিত্যপন্যের মূল্য বৃদ্ধি করেছে। ফলে দেশের মানুষ এখন অসহায় হয়ে পড়লেও সরকার এটা নিয়ে তামাসা করছে। শুধু তাই নয় ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে। এই কমিশনের উপর ভর করে আগামী সংসদ নির্বাচনে পারি দেয়ার স্বপ্ন দেখছে।
কিন্তু এটা আর হতে দেয়া হবেনা বলে জানান তিনি। কঠোর আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে সরকারের পতন ঘটিয়ে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধিনে নির্বাচন করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা হবে উল্লেখ করেন তিনি। সেইসাথে সকল আন্দোলনে সবাইকে রাজপথে থাকার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন প্রধান অতিথি।